kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকায় ফিফা সভাপতির এক দিন

ফিফাকে নিয়ে আসতে চান সবার কাছে

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিফাকে নিয়ে আসতে চান সবার কাছে

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুর্নীতিতে ডুবে থাকা ফিফা সংস্কারের পর তিনি হাতে নিয়েছেন ফুটবল সংস্কারের নতুন কাজ। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশেষ নজর যেন এশিয়ার দিকে। ফুটবলে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে টেনে তুলতে চাইছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট।

এ জন্যই প্রথমবারের মতো বেরিয়েছেন তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে। মঙ্গোলিয়া সফর শেষ করে ফিফা প্রেসিডেন্ট গতকাল ভোরে পা রাখেন ঢাকায়। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তির সফর, অথচ বড় কোনো লটবহর নেই! তাঁর সঙ্গী মাত্র তিনজন, তাঁদের একজন সাবেক ফ্রেঞ্চ ফুটবলার ইউরি জোকায়েফ। বছর সাতেক আগে সেপ ব্ল্যাটারের সঙ্গে ছিল বিশাল এক লটবহর। তিনি আসার আগেই একটি দল এসেছিলেন সব কিছু তদারকি করতে। যেন তাঁদের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই বিমানে চাপবেন ব্ল্যাটার! সুবাদে বেশ জমকালো আয়োজনও ছিল বাফুফের। সেই তুলনায় ইনফান্তিনোর আগমন বড় সাদামাটা। সারা দিন ফুটবল আলোচনায় কাটিয়েছেন তিনি, কখনো শুনেছেন, কখনো বা বলেছেন। মেকি আয়োজন-আড়ম্বর না থাকায় যেন এ দেশের ফুটবল উষ্ণতাটা তিনি অনুভব করেছেন ভালোভাবে। পাশাপাশি যেন বিস্মিতও হয়েছেন, ফুটবলে পিছিয়ে থাকা এক দেশের ফুটবল অনুরাগ দেখে। এটা যেন তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট সংবাদ সম্মেলনে বলে বসেন, ‘একটা ব্যাপার আমি নিশ্চিত করতে চাই। আমরা (ফিফা) ফুটবল উন্নয়নের জন্যই কাজ করছি। ফুটবল কমিটির উন্নয়ন করতে কিছু করছি না।’

এই উন্নয়নের ধারায় তিনি নিয়ে আসতে চান এশিয়ার পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকে। তাই সংবাদ সম্মেলনে এক পর্যায়ে ইনফান্তিনো কঠিন সত্যটা প্রকাশ করে ফেলেন, ‘এটা ঠিক যে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা কিছুটা হলেও বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সেভাবে গুরুত্ব দিতে পারেনি। উপেক্ষা করেছে। ফিফা খুব বেশি ইউরোপনির্ভর হয়ে পড়েছিল। গুরুত্ব পেয়েছে বেশি ইউরোপই, যার কোনো কারণ নেই। এখন আমি গোটা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি কাল মঙ্গোলিয়ায় ছিলাম। আজ এখানে এসেছি। এরপর লাওস ও ফিলিপাইনে যাব।’

সারা দিন ফুটবল আলোচনায় কাটিয়েছেন তিনি, কখনো শুনেছেন, কখনো বা বলেছেন। মেকি আয়োজন-আড়ম্বর না থাকায় যেন এ দেশের ফুটবল উষ্ণতাটা তিনি অনুভব করেছেন ভালোভাবে। পাশাপাশি যেন বিস্মিতও হয়েছেন, ফুটবলে পিছিয়ে থাকা এক দেশের ফুটবল অনুরাগ দেখে। এটা যেন তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

এর আগে সেপ ব্ল্যাটারকে মনে করা হতো এশিয়ান ফুটবলের বন্ধু হিসেবে। বিভিন্ন দেশকে এটা-সেটা দিয়েছেনও তিনি। পরে দেখা গেল সেই দেওয়াটা পুরোপুরি সম্প্রদান কারকে নয়, ভোটের রাজনীতিতে কিছু যেন প্রাপ্তিরও বিষয়-আশয় ছিল। ইনফান্তিনোর বেলায় সেটা নয়, দ্বিতীয় মেয়াদে ফিফার নির্বাচন শেষ করেই তিনি এসেছেন বাংলাদেশ দর্শনে। এসে বলছেন বাংলাদেশ ফুটবলকে সাহায্যের কথা, এশিয়ান ফুটবলকে ওপরে টেনে নেওয়ার কথা। তাঁর মনোভাব আগেই জানা গিয়েছিল। গত এপ্রিলে এই সুইস সংগঠক বলেছিলেন ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপকে ঢেলে সাজানোর কথা। চেয়েছেন দল সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ২৪-এ উন্নীত করতে, যেখানে এশিয়া থেকে থাকবে তিনটি দল। কিন্তু ইউরোপীয় ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন দাঁড়িয়ে গেছে তাঁর ভাবনার বিপক্ষে। এর পরও ফিফা প্রেসিডেন্ট থেমে থাকেননি, বাংলাদেশে এসেও বলছেন নিজের উন্নয়ন চিন্তার কথা, ‘এশিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে তাদের সুযোগ দিতে হবে বিভিন্ন কম্পিটিশনে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আমি দেখেছি, যেখানে এশিয়ার দুটি ঐতিহ্যবাহী দল খেলেছে। এখন তাদের এগিয়ে নেওয়ার কাজটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেন তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারে। তাই কম্পিটিশন বাড়ানো, বিভিন্নভাবে খেলার আয়োজন করার দিকে আমি বেশি মনোযোগ দিতে চাই।’ 

এশীয় উন্নয়নে ফিফা প্রেসিডেন্টের এমন মনোযোগ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। ২০১৬ সালে উয়েফার দায়িত্ব ছেড়ে ফিফা প্রেসিডেন্টের পদে বসে করেছেন বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের কাজ। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে থাকা ফিফার চেহারা গত তিন বছরে কিছুটা ফিরেছে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে। নতুন মেয়াদে চেষ্টা করছেন এশীয় ফুটবলকে টেনে তুলতে। ফিফাকে ইউরোপের মায়া কাটিয়ে সর্বজনীন সংগঠন করে তুলতে। তাই হুট করে ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশ ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল উন্নয়নে তাঁর সর্বাত্মক সহযোগিতার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা