kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কখনো থেমে যাননি সাদ

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কখনো থেমে যাননি সাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জেমি ডে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে যে খেলোয়াড়টিকে নিয়ে প্রথম উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠে, তিনি সাদউদ্দিন। এশিয়ান গেমস ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে তখন প্রস্তুতি শুরু করেছেন ইংলিশ কোচ। বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার সংকটে সিলেটের এই তরুণের মুভমেন্ট কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তিনি ফরোয়ার্ড লাইনে। জেমির অধীনে সেই প্রথম টুর্নামেন্ট এশিয়ান গেমসেই নিজেকে প্রমাণ করা সাদ এখনো যে কোচের অন্যতম সেরা অস্ত্র হয়ে আছেন, তা-ই দেখা গেল পরশু সল্ট লেকে।

অথচ এই এক-দেড় বছরেও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে তাঁর ক্যারিয়ার। এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করা সাদ পরের আসর সাফে খেললেও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে আর তাঁকে পাননি জেমি। সিলেটে বাইক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘ সাত মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয় তাঁকে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ধাক্কা ছিল সেটি। কিন্তু সাদ দেখিয়েছেন কিভাবে ফিরে আসতে হয়। এই সাত মাসে ফিটনেস ফিরে পাওয়া নিয়ে তাঁর কঠোর পরিশ্রম রীতিমতো গল্প হয়ে গেছে ফুটবল অঙ্গনে। সাদ ফিরেছেন আগের চেয়েও ফিট হয়ে।

আবাহনীতে শুরুটা অবশ্য ধীরে। এএফসি কাপে তখন ডিফেন্ডার সংকটে আকাশি-নীল। উইংয়ে খেলে অভ্যস্ত সাদ তাই মাঠে ফেরেন রাইট ব্যাক হিসেবে। এই আসরে আবাহনীর সাফল্যের স্মৃতি তো এখনো টাটকা। জেমিও সাদকে আবার ফিরে পান সেরা চেহারায়। তাঁর ৪-২-৩-১ ছকে কখনো একক স্ট্রাইকার, কখনো উইংয়ে খেলাতে থাকেন সাদকে। ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেই গোল পেয়েছেন। ঢাকায় কাতারের বিপক্ষে এবং কলকাতায় ভারতের বিপক্ষেও রক্ষণাত্মক ছকে সাদ উইঙ্গারের ভূমিকায়। কখনো প্রতি-আক্রমণে ওপরে উঠছেন, তবে বেশির ভাগ সময়টাই ডিফেন্সে সাহায্য করে গেছেন। জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিকের সময় ছিলেন সুযোগের অপেক্ষায়, গুরপ্রিত সিং সান্ধু বলটা মিস করেছেন, কিন্তু সাদ ভুল করেননি। এমন ম্যাচে সাদ নায়ক হবেন কে ভাবতে পেরেছিল! তবে সাদ নিজের দায়িত্বটা জানতেন, ‘আমরা মাঠে নেমেছিলাম জেতার জন্যই। কোচ বলে দিয়েছিলেন যে-ই সুযোগ পায়, সে যেন সেটা কাজে লাগায়। আমিও এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম আর তা কাজেও লাগিয়েছি।’ খবরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তাঁকে নিয়ে মাতামাতি। জেমির শিষ্য অবশ্য এসবে শান্তই থাকতে চাইলেন, ‘আমরা ভালো খেললে সবাই এমনটা করবে, এটাই স্বাভাবিক। এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাও। তবে এই পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে হবে আমাদের।’

এই এক-দেড় বছরেও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে তাঁর ক্যারিয়ার। এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করা সাদ পরের আসর সাফে খেললেও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে আর তাঁকে পাননি জেমি। সিলেটে বাইক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘ সাত মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয় তাঁকে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ধাক্কা ছিল সেটি। কিন্তু সাদ দেখিয়েছেন কিভাবে ফিরে আসতে হয়।

সেই কিশোর বেলায়ই অবশ্য ভক্তদের এই উন্মাদনা একবার দেখা হয়ে গেছে তাঁর। সিলেটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সাফ শিরোপা জয়ের অন্যতম সেরা পারফরমারই যে ছিলেন এই সাদ। ২০১৫ সালের সেই সাফ শিরোপা বাংলাদেশের ফুটবলেরই অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। কারণ তার আগের লম্বা একটা সময় ধরে ফুটবল নিয়ে ইতিবাচক কিছুই হয়নি। সিলেটে সাদদের সাফ জয় তাই আলোড়ন তোলে। সিলেট স্টেডিয়ামে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না ভারতের বিপক্ষে সে আসরের ফাইনালে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদের একমাত্র গোলেই ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করা শেষ শটটিও তাঁর। সেই দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই এখন হারিয়ে গেছেন। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টের পরপরই আবাহনীতে যোগ দেওয়া সাদ দেখিয়েছেন তিনি অন্য ধাতের, হারিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি ফুটবলে আসেনি। সিলেটে পাড়ায়-মহল্লায় খেলেই তাঁর ফুটবলের শুরু, বাফুফে একাডেমিতে সুযোগ পেয়ে তাঁর প্রথম স্বপ্ন দেখা ফুটবল নিয়ে। অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ জয়ে তা আরো উজ্জ্বল। সেই সাদ পরশু বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সল্ট লেকের ৮০ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়েছেন।

ক্যারিয়ারে এর চেয়ে সেরা আর কি মুহূর্ত হতে পারে। কিন্তু সাদ বলছেন আরো বহুদূর, ‘ভারতের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আরো ভালো কিছু আমরা উপহার দিতে চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা