kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিলে তিলে গড়া রক্ষণভাগ

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিলে তিলে গড়া রক্ষণভাগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যে ব্যাকলাইন ঘিরে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা, সেই রক্ষণেই বদলে গেছে বাংলাদেশের ভাগ্য। তারা ভারত জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সেই জয় ফসকে গেলেও ড্র ম্যাচের সুবাদে বাংলাদেশ পয়েন্টের খাতা খুলেছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে।

কাতার ম্যাচের আগে থেকেই রক্ষণভাগ নিয়ে তৈরি হয় নতুন সংকট। মাশুক মিয়ার ইনজুরিই কোচের সব পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিয়েছিল। অবশ্য এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে ছাড়াই শুরু করেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। ব্যাপারটা তখন ছিল পায়ের হালকা ব্যথা হিসেবে, পরে দেখা গেল এসিএল ইনজুরি। অর্থাৎ সাত-আট মাসের জন্য দলের বাইরে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। তাঁর চলে যাওয়া মানে রক্ষণভাগের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। তাঁর বিকল্প কোনো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নেই এই মুহূর্তে। তাই ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে দলে নেন ডিফেন্ডার রায়হান হাসানকে। আবাহনীর এই রাইটব্যাককে নিয়ে কাতার ম্যাচ থেকে নতুন ব্যাকলাইনে শুরু লাল-সবুজের। রায়হান-ইয়াসিন-রিয়াদ-রহমত মিলে নতুন ডিফেন্স লাইন। শক্তিশালী কাতারের সঙ্গে মাথা নোয়ালেও ভারতের বিপক্ষে এই ডিফেন্স লাইন হয়ে ওঠে নতুন সুরক্ষার প্রতীক। একই ছন্দে তারা লড়াই করেছে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এতটুকু ভুল হয়নি কোথাও!

ইয়াসিন খান ম্যাচের শুরুতে মাথা ফাটালে নতুন বিপদের ঘনঘটা। না, তিনি হাল ছাড়েননি, ব্যান্ডেজ বেঁধে ফিরে আসেন মাঠে। মাঝে হেড করতে গিয়ে সেই ব্যান্ডেজ থেকে রক্ত ঝরলেও এদিক-ওদিক হয়নি তাঁর মনঃসংযোগ। ‘আসলে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল আমাদের জন্য। আমি মাঠ ছেড়ে গেলে খুব সমস্যা হতো। কারণ রিয়াদও তরুণ, তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ভারতীয় আক্রমণের মুখে খেই হারিয়ে ফেলবে। তাই মাথায় ব্যথা হলেও দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গেছি। কিন্তু ম্যাচটা জিতলে সব ব্যথা ভুলে আনন্দে ভেসে যেতে পারতাম’—রক্ত দিয়ে লড়েও ১ পয়েন্টে তৃপ্ত নন ইয়াসিন খান। তবে বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডারের এ লড়াই যেন যুবভারতীতে লড়াকু বাংলাদেশ ফুটবলের এক প্রতীকী ছবি হয়ে গেল।

শক্তিশালী কাতারের সঙ্গে মাথা নোয়ালেও ভারতের বিপক্ষে এই ডিফেন্স লাইন হয়ে ওঠে নতুন সুরক্ষার প্রতীক। একই ছন্দে তারা লড়াই করেছে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এতটুকু ভুল হয়নি কোথাও!

এরপর রায়হান, যিনি তিন বছর বাদে দলে ঢুকে দুর্দান্ত খেলেছেন। বিপজ্জনক সুনীল ছেত্রীকে প্রহরায় রেখেছেন। এই রাইটব্যাক চেয়েছেন সুযোগটাকে কাজে লাগাতে, ‘সত্যি বললে আমি কখনো ভাবিনি জাতীয় দলে আবার সুযোগ পাব। দলে আসার পর নিজের ফিটনেস বাড়িয়ে কোচের নির্দেশনা মেনে খেলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এই ম্যাচে আমার বড় দায়িত্ব ছিল ইনসাইডে সুনীল ছেত্রীকে সামলানো—এ কাজটা আমি ভালোভাবে করার চেষ্টা করেছি।’ একটি ভলি আর একটি হেড ছাড়া ছেত্রী তেমন আতঙ্ক ছড়াতে পারেননি। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভরাডুবির ম্যাচের পর থেকেই দলের বাইরে ছিলেন এই রাইটব্যাক। তিন বছর বাদে দলে ফিরে পায়ে-হাতে খেলে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন বিশ্বনাথকে! কখনো পায়ের চেয়ে তাঁর হাতের লং থ্রোয়ে চমকে গেছে প্রতিপক্ষ।

দুই অভিজ্ঞের সঙ্গে দুই তরুণ রিয়াদ ও রহমতে দুর্দান্ত ব্যাকলাইন। এর পরও যে গোল খেয়ে গেছে! সেখানে তাঁদের দায় নেই, ৮৮ মিনিটে ভারতের কর্নার কিকে বদলি মিডফিল্ডার রবিউল ছিলেন আদিলের মার্কার। তাঁকে ফাঁকি দিয়েই আদিলের নেওয়া হেড পৌঁছে যায় বাংলাদেশের জালে। তার একটু আগে মাঠ ছেড়ে আসা রায়হান ডাগআউটে বসে ছিলেন সভয়ে, ‘ভারতের আক্রমণ দেখে আমার ভয় হচ্ছিল শুধু। ২০১৩ সালে কাঠমাণ্ডুতেও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়েছিলাম। এখানেও তাই হলো, শেষে গিয়ে একটি ভুলের মাসুল দিতে হলো।   এত ভালো খেলেও আমাদের ১ পয়েন্টে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।’ তা-ও ভালো যে দুই হারের পর পয়েন্টের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। দাঁড়িয়ে গেছে নতুন ব্যাকলাইন, যেখানে লুকিয়ে আছে জেমির দলের সব শক্তি ও অনুপ্রেরণা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা