kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জয়ের স্বপ্ন দেখানো ড্র

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জয়ের স্বপ্ন দেখানো ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক : স্বপ্ন দেখানোর ম্যাচে স্বপ্নের মতোই হয়েছিল শুরুটা। কিন্তু যা হয়, শেষ মুহূর্তে গিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায় ভারতের বিপক্ষে। যুব ভারতীতে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে ১-১ গোলে ড্রয়ের সান্ত্বনায়।

ঠিক আগের দুটি ম্যাচের মতোই। নেপালে ২০১৩ সাফেও বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল সুনীল ছেত্রীর ইনজুরি টাইমের গোলে। পরের বছর গোয়ায় প্রীতি ম্যাচেও ইনজুরি টাইমে সেই ছেত্রীর হানায় ম্যাচ শেষ হয়েছিল ২-২ গোলে। পাঁচ বছর পরও ঠিক একই দুর্ভাগ্যের কবলে লাল-সবুজের দল! ৪২ মিনিটে সাদ উদ্দিনের গোলে কলকাতার যুব ভারতীতে জয়ের যে বাতাবরণ শুরু হয়েছিল, সেটা ধুলোয় মিশে গেল ৮৮ মিনিটে। ভারতের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার রেওয়াজের সঙ্গে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যটাও যেন সমানভাবে জারি আছে! আদিলের ওই সমতার গোলের আগেই যে ম্যাচ পকেটে পুরে নিতে পারত জামাল ভূঁইয়ারা। ইব্রাহিমের শট কেন গোলপোস্টে লেগে ফিরবে! নাবিবের পোস্টে তুলে দেওয়া বলটি তো গোললাইন পার হতেই পারত। ম্যাচ শুরুর মুভে পেনাল্টিও পেতে পারত। পায়নি। এমন অনেক সম্ভাবনার বিপরীতে দুর্ভাগ্যের হানায় বারবার আশাভঙ্গের বেদনায় নীল হয় লাল-সবুজের ফুটবল।

একদম প্রথম মিনিটেই ছিল গোলের হাতছানি। বাঁ-দিক ধরে ইব্রাহিম এত সুন্দর বক্সে ঢুকেছিলেন, বলটা পোস্টের সামনে ঠেলার মুহূর্তে পেছন থেকে আনাসের ট্যাকলে তিনি ভূপাতিত। অবিশ্বাস্যভাবে সেই ফাউল এড়িয়ে গেলেন সিরিয়ান রেফারি! এরপর সুনীলের এক ভলি আশরাফুলের গ্রিপে জমা পড়ে। ভারত বল পজেশন রেখে খেললেও বারবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছিল বাংলাদেশ রক্ষণে গিয়ে। এটাই তো জেমি ডে’র কৌশল। প্রতিপক্ষকে খেলতে দিতে তিনি কসুর করেন না, কিন্তু নিজের দলকে কার্যকরী করে তুলেছেন কাউন্টারে। ৮ মিনিটে ইব্রাহিমের পায়ে সেই ঝলকের শুরু, ভারতের বক্সে ঢুকেও শেষ পর্যন্ত স্কয়ার পাসটা ঠেলতে পারেননি। ৩২ মিনিটে ডান দিক দিয়ে বিপলুর গতিতে ভীতির সঞ্চার হয় পুরো সল্ট লেক স্টেডিয়ামে। রক্ষা পায় গোলরক্ষক গুরপ্রীতের দুর্দান্ত সেভে। তাঁর দারুণ খ্যাতি ছড়িয়েছে কাতারের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কিছু সেভে। কিন্তু ৪২ মিনিটে সেই গোলরক্ষক করে বসেন মারাত্মক এক ভুল। তা-ও জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিকে, যিনি কলকাতায় গিয়ে প্রথম ভারতকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন প্রকাশ্যে। তাঁর ফ্রি-কিকে ভারতীয় গোলরক্ষক ফ্লাইট মিস করলে সাদ উদ্দিনের দুর্দান্ত এক হেড ভারতের জালে জড়িয়ে গেলে খুলে যায় সেই স্বপ্নের দুয়ার।

সাদ উদ্দিনের গোলে কলকাতার যুব ভারতীতে জয়ের যে বাতাবরণ শুরু হয়েছিল, সেটা ধুলোয় মিশে গেল ৮৮ মিনিটে। ভারতের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার রেওয়াজের সঙ্গে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যটাও যেন সমানভাবে জারি আছে! আদিলের ওই সমতার গোলের আগেই যে ম্যাচ পকেটে পুরে নিতে পারত জামাল ভূঁইয়ারা।

বিরতির পর সেই স্বপ্নের লালন শুরু হয় বাংলাদেশের আক্রমণ ও গোলের সুযোগ তৈরিতে। ৫ মিনিটের ব্যবধানে দু-দুটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয় ইব্রাহিমের পায়ে। ৫১ মিনিটে কাউন্টারে তাঁর চমৎকার এক থ্রু বলে গোলমুখ খুলে যায়। নাবিব নেওয়াজও দারুণ মেরেছিলেন, কিন্তু ভারতীয় গোলরক্ষকের সেভে ব্যবধান আর বড় হয়নি। ৫৫ মিনিটে এবার বাঁ-দিক থেকে বাঁ পায়ে তিনি নিজেই চেষ্টা করেন। দূরপাল্লার অবিশ্বাস্য সেই শট গোলরক্ষক পরাস্ত করেও ক্রসবারে গিয়ে ঠেকলে হতাশায় পুড়তে হয়। বাংলাদেশি এই উইঙ্গার এত চমৎকার খেলেছেন কোনোভাবেই তাঁকে আটকাতে পারছিল না ভারতীয়রা। কিন্তু শেষে আটকে গেলেন দুর্ভাগ্যের জালে।

ওই দুটি সুযোগ থেকে একটি গোল হয়ে গেলেই ম্যাচ বাংলাদেশের পকেটে চলে আসে। এর পরও সুযোগ আসে। ৭৪ মিনিটে নাবিব দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত খেলা খেলেছেন, আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দিয়ে গোল পাননি। পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে আদিল গোললাইন থেকে সেভ করেন। কিছুক্ষণ পর সুফিলের পায়েও বড় হতে পারত ব্যবধানটা। সেটাও যখন হয়নি, ৮৮ মিনিটে ওই আদিল খানই কর্নার কিকে হেড করে ম্যাচে ফেরান ভারতকে। শেষ মুহূর্তের এই গোল বাংলাদেশের জয়ের বুকে ছুরি চালিয়ে দিয়েছে আর এতক্ষণ চুপ মেরে থাকা যুব ভারতী আবার জেগে ওঠে। জেমি ডে যেন এই ড্রয়ের হতাশা চেপে রাখতে পারেননি, ‘আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছি, আরেকটি গোল হলেই ম্যাচটি পক্ষে চলে আসত। এর পরও ছেলেদের অভিনন্দন দুর্দান্ত এক ম্যাচ উপহার দেওয়ার জন্য।’ যে ম্যাচ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার, সেটাই প্রাপ্তি হলো মাত্র ১ পয়েন্ট। এর পরও তো পয়েন্টের খাতা খুলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ : আশরাফুল রানা, রহমত মিয়া, ইয়াসিন খান, রায়হান হাসান (বিশ্বনাথ), রিয়াদুল হাসান, জামাল ভূঁইয়া, বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দিন, ইব্রাহিম (মাহবুবুর রহমান), নাবিব নেওয়াজ (রবিউল)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা