kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পর্তুগালকে হারিয়ে ইউরোতে ইউক্রেন

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পর্তুগালকে হারিয়ে ইউরোতে ইউক্রেন

ডাগআউটে আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো আর মাঠে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, কিয়েভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে এই দৃশ্যটা নিশ্চয়ই স্মৃতিকাতর করে তুলেছিল ফুটবলপ্রেমীদের। মেসি-রোনালদো দশক শুরুর ঠিক আগের সময়টায় ফুটবলের যে কজন মহাতারকা মাঠ মাতিয়েছেন, শেভচেঙ্কো তাঁদেরই একজন। এসি মিলানের সাবেক এই তারকা ২০১৬ সাল থেকেই ইউক্রেনের কোচের দায়িত্বে। তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত নিঃসন্দেহে সোমবারের রাত। নিজেদের মাঠে, ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোর মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার মতো আনন্দের উপলক্ষ তো খুব বেশি আসে না! ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ৭০০ গোল পূর্তির উৎসব মাটি করে দিয়ে ইউরো ২০২০-এর মূল পর্বেও জায়গা করে নিয়েছে ইউক্রেন। ফ্রান্সকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে অপেক্ষায় রেখেছে তুরস্ক।

ইউরোর বাছাইয়ের গ্রুপ পর্ব চলে এসেছে শেষের খুব কাছে। চোখের সামনে চলে এসেছে উতরে যাওয়া আর বাদ পড়ার সমীকরণগুলো। পর্তুগালকে হারিয়ে সাত ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট হয়ে গেছে ইউক্রেনের। শীর্ষ দুইয়ে থাকা তাই নিশ্চিত তাদের। পয়েন্ট টেবিলের দুই আর তিনে যথাক্রমে পর্তুগাল ও সার্বিয়া, দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র ১। পর্তুগালের গ্রুপ পর্বে শেষ দুটি ম্যাচ লিথুয়ানিয়া ও লুক্সেমবার্গের সঙ্গে। সার্বিয়ার একটি ম্যাচ লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে, অন্যটি ইউক্রেনের সঙ্গে। পর্তুগালকে তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। কিয়েভে, ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইউক্রেন। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে রুই প্যাত্রিচিওর হাত ফসকে আসা বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ারেমচুক। ২৭ মিনিটে ইয়ারামোলেঙ্কোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউক্রেন। ৭২ মিনিটে স্তেপানেঙ্কো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন, পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পটকিকে গোল করে ক্যারিয়ারের ৭০০তম গোলের দেখা পান রোনালদো। যদিও তাঁর গোলটা দলকে এনে দিতে পারেনি সাফল্য। ম্যাচের পর শেভচেঙ্কো জানালেন, ‘ম্যাচটি যে কতটা কঠিন ছিল সেটা বলে বোঝাতে পারব না। বিশেষ করে শেষের ১৫ মিনিট। আমি খুবই খুশি দলের পারফরম্যান্সে। এই ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ছিল, তাদের বিপক্ষে গত তিন বছরের প্রচেষ্টাটা কাজে দিয়েছে।’ ট্যাকটিকসেই ফের্নান্দো সান্তোসকে ঘোল খাইয়েছেন শেভচেঙ্কো, জানালেন, ‘প্রথমার্ধে পর্তুগাল আশাও করেনি আমরা এভাবে ছক পরিবর্তন করব। খেলোয়াড়রাও হৃদয় দিয়ে খেলেছে।’ অন্যদিকে সান্তোস শুনিয়েছেন আক্ষেপের কথাই, ‘আমরা সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি, কিন্তু গোল করতে পারিনি।’

নিজেদের মাঠে, ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোর মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার মতো আনন্দের উপলক্ষ তো খুব বেশি আসে না! ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ৭০০ গোল পূর্তির উৎসব মাটি করে দিয়ে ইউরো ২০২০-এর মূল পর্বেও জায়গা করে নিয়েছে ইউক্রেন। ফ্রান্সকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে অপেক্ষায় রেখেছে তুরস্ক।

চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে আগের ম্যাচটি হেরেছিল ইংল্যান্ড। ইউরো এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে বাছাই পর্বে যেটা বেশ লম্বা সময় পর ইংল্যান্ডের প্রথম হার। হ্যারি কেইনের দলটা ঘুরে দাঁড়াল বুলগেরিয়ার বিপক্ষেই। বার্কলে ও স্টার্লিংয়ের জোড়া গোলের সঙ্গে রাশফোর্ড ও কেইনের গোলে ইংল্যান্ডে জয় ৬-০ ব্যবধানে। তবে ফল বাদ দিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বর্ণবাদ নিয়ে। মাঠের ভেতর বুলগেরিয়ান সমর্থকদের নািস স্যালুট, বানরের ডাকসহ আরো অনেক রকম বর্ণবাদী আচরণ লজ্জায় ফেলে দিয়েছে দেশের সরকারকেও। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী দেশটির ফুটবল ফেডারেশন প্রধানকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের কারণে দুইবার খেলা বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে উয়েফার কাছে। জোর দাবি উঠেছে বুলগেরিয়াকে উয়েফা থেকে বহিষ্কারেরও।

আগের ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্স জিতেছিল পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে। এবার তুরস্কের বিপক্ষে আটকে গেল ফরাসিরা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর অলিভিয়ের জিরদের ৭৬ মিনিটে করা গোলে ফ্রান্স এগিয়ে গেলেও ৮২ মিনিটে গোল খেয়ে বসে। হাকান ক্যালাহানগ্লু’র ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন কান আয়হান। ড্র করে এইচ গ্রুপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও তুরস্কের পয়েন্ট সমান, ১৯। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আইসল্যান্ড। তাই এই গ্রুপেও শীর্ষ দুইয়ের লড়াই নিষ্পত্তিতে অপেক্ষা শেষ দিন পর্যন্ত। উয়েফা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা