kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাহসী বাংলাদেশের সামনে সতর্ক ভারত

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাহসী বাংলাদেশের সামনে সতর্ক ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কিছুদিন ধরে কলকাতার মিডিয়া হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছে এই ম্যাচ নিয়ে। কারণ ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচটি হবে কলকাতার যুব ভারতী স্টেডিয়ামে। তা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন কলকাতার মিডিয়ায়। তাদের বর্ণনায় বাংলাদেশের জামাল ভূঁইয়া হয়ে গেছেন বিশ্বসেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার! কোচ জেমি ডে যেন মরিনহোর মতো দুর্দান্ত ট্যাকটিশিয়ান। তাদের মনে যা থাকুক ছাপার অক্ষরে বাংলাদেশ পেয়েছে দুর্দান্ত লড়াকু দলের সম্মান। কাতারের কাছে মাত্র ২-০ গোলে হারার পর যেন সম্মানের জায়গাটা পোক্ত হয়েছে আরো।

সেই ম্যাচ দেখার পর কলকাতার এক সাংবাদিক বন্ধু ফোন দিয়ে লাল-সবুজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। পরদিন জেমি ডের সঙ্গে ফোনে কথা বলে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আরেক দফা, ‘আপনাদের কোচ খুব চমৎকার মানুষ। খুব সাবলীল ভঙ্গি, খেলার স্টাইল ও নিজের দল সম্পর্কে খুব যে রাখঢাক করেছেন তা-ও নয়। গড়গড় করে সব বলে গেলেন।’ কিন্তু ভারতের কোচ কী বলছেন এই ম্যাচ নিয়ে? জবাবে ভারতের ওই সাংবাদিক যেন খানিকটা বিরক্ত, ‘কথা বলবেন কী! তাঁর (ইগর স্তিমাক) টিকি খুঁজে পাওয়াটাই মুশকিল।’ কেন? ‘বড় কোচ, দামি কোচ, তাই ভাব ধরে থাকে! আরে, ভাবের কী আছে, জিতলে তো সেই ৩ পয়েন্টই। ভাবের জন্য নিশ্চয়ই ৬ পয়েন্ট দেওয়া হবে না! উল্টো-সিধা কিছু হয়ে গেলে কিন্তু ওই সাদাসিধে জেমিই হাসবেন!’ ম্যাচ শুরু হবে আজ রাত ৮টায়, এরপর ৯০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে কে হাসবেন, সেটি নির্ধারিত হওয়ার জন্য।

তবে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ চাপহীন। জেমি ডে উল্টো চাপ দেখছেন ভারতীয় দলের, ‘আমাদের কোনো চাপ নেই। আমার খেলোয়াড়দের বলেছি, এত দর্শকের মাঠে খেলাটা উপভোগ করো এবং নিজেদের সেরাটা দেখাও। এমন দর্শকপূর্ণ মাঠে খেলার সুযোগ সব সময় পাওয়া যাবে না। এত দর্শকের সামনে ভারতের সমস্যা হতে পারে, তারা চাপে থাকবে। আমরা ভালো খেলে এই সুযোগটা নিতে পারি।’ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রথম দুটি ম্যাচেও সুযোগ ছিল লাল-সবুজের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাজিকিস্তান থেকে পয়েন্ট নিয়ে না ফেরার আক্ষেপটা এখনো আছে কোচের। ঘরের মাঠে পরের ম্যাচে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও সুযোগ তৈরি হয়েছিল। দু-দুবার গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দিয়েছে কাতারিরা, সঙ্গে আছে জামাল ভূঁইয়ার সহজ সুযোগ নষ্টের জ্বালা। শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও যে তারা সুযোগ তৈরি করতে পারছে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করছে—এটাই হলো আগের দুই ম্যাচের প্রাপ্তি। সেটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছেন ভারতের ক্রোয়াট কোচ ইগর স্তিমাক, ‘আমি বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে চাই না। তারা দুই ম্যাচ হারলেও বিশেষ করে কাতারের বিপক্ষে দারুণ ফুটবল খেলেছে। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে এই ম্যাচ তারা জিততেও পারত। তারা এখানে হারার জন্য আসেনি, জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। নতুন কোচের অধীনে তারা গত ১৪/১৫ মাস ধরে ভালো খেলছে এবং খুব সংগঠিত হয়ে খেলছে।’

আমাদের কোনো চাপ নেই। আমার খেলোয়াড়দের বলেছি, এত দর্শকের মাঠে খেলাটা উপভোগ করো এবং নিজেদের সেরাটা দেখাও। এমন দর্শকপূর্ণ মাঠে খেলার সুযোগ সব সময় পাওয়া যাবে না। এত দর্শকের সামনে ভারতের সমস্যা হতে পারে, তারা চাপে থাকবে। আমরা ভালো খেলে এই সুযোগটা নিতে পারি।

জেমি ডে

গত বছর মে মাসে বাংলাদেশের ফুটবলে শুরু হয় জেমি ডে অধ্যায়। একদম নতুন করে ইংলিশ কোচ শুরু করেন দল গোছানোর কাজ। এক এক করে সিনিয়রদের বিদায় করে তারুণ্যের ঝংকারে তৈরি করেন নতুন এক দল। প্রতিভার ছড়াছড়ি নেই, তবে মাঠের লড়াই এবং কৌশল মেনে খেলায় তারা সিদ্ধহস্ত। কৌশলটা হলো ‘কাউন্টার-অ্যাটাক’ ফুটবল, যার সুবাদে চমকে দিয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদেরও। তা দেখে ভারতের কোচও সতর্ক, ‘এই মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাকে তারা সবচেয়ে ভালো দল। তাই শুধু আক্রমণমুখো হয়ে খেললে হবে না, নিজেদের রক্ষণও নিশ্ছিদ্র রাখতে হবে।’ জেমি ডের ‘ডিফেন্স অ্যান্ড কাউন্টার অ্যাটাক’ ফর্মুলায় গত ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ খেলছে এবং কিছু সাফল্যও পাচ্ছে। তার সুবাদেই প্রাক-বাছাইয়ে লাওসকে হারিয়ে লাল-সবুজের দল আজ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে।

এখন সংস্কার চলছে বাংলাদেশ ফুটবলে। অন্যদিকে ভারতীয় ফুটবল পৌঁছে গেছে হিমালয়ের চূড়ায়। অথচ ২০১৪ সালে সর্বশেষ দেখায় দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের দিক থেকেও দুই দল দাঁড়িয়েছিল প্রায় একই সমতায়। বরং র‌্যাংকিংয়ে খানিকটা পিছিয়েই ছিল ভারত। তারা ছিল ১৭১-এর আশপাশে আর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৫-তে। সেই বছর থেকে দুই দলের উল্টো যাত্রা শুরু। ভারতীয় ফুটবল ছুটেছে আকাশপানে, র‌্যাংকিংয়ে ১০০ ছুঁয়েছে ২০১৭ সালে। আর বাংলাদেশ অধঃপাতে নামতে নামতে এখন ১৯৭ নম্বর দল। পুনরুদ্ধার পর্বে এখন লাল-সবুজের অবস্থান ১৮৭তে হলেও ভারত দাঁড়িয়ে আছে ১০৪ নম্বরে। তারা যখন কাতারের মাঠে গিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে ড্র করে তখন বাংলাদেশ হারে নিজেদের মাঠে। তাই জেমি ডে সহজলভ্য হলেও ভারতীয় কোচের ভাব-ভঙ্গিমা অন্য রকম। এমন অবস্থানগত বৈসাদৃশ্যের পরও এই ম্যাচ নিয়ে চাপে ইগর স্তিমাক। আর চাপহীন জেমি দিচ্ছেন হুংকার, ‘র‌্যাংকিং যা-ই হোক, ম্যাচটি হবে ফিফটি-ফিফটি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা