kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছেত্রীকে ঘিরেই মূল ছক

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাল যুব ভারতীর অনুশীলন মাঠে যখন ঘাম ঝরাচ্ছেন জামাল, মামুনুলরা, স্টেডিয়াম চত্বরে তখন টিকিটপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। আট বছর পর কলকাতায় নামছে ভারতীয় জাতীয় দল, প্রতিপক্ষ আবার বাংলাদেশ। কলকাতার বাঙালিদের যেন তর সইছে না এই ম্যাচের জন্য। ভারতীয় জাতীয় দলের ফুটবলার (চোটের কারণে অবশ্য বর্তমান স্কোয়াডে নেই) অর্ণব মণ্ডলের মনে হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত এই ম্যাচ ঘিরে ‘ডার্বি’র আবহ এখন কলকাতায়।

‘ইস্ট বেঙ্গল-মোহনবাগানের ডার্বি হলে যেমন দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে এসে, এই ম্যাচেরও সেই আবহ। পার্থক্য শুধু এখানে সবাই আছে ভারতীয় দলকে সমর্থন দিতে।’ বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামের যদিও মনে হচ্ছে কলকাতার বাঙালিরা উৎসাহ দেবে বাংলাদেশকেও, ‘এপারে বাংলা, ওপারেও বাংলা। আমরা আমাদের দেশেই খেলতে এসেছি। সমর্থন তো আমাদেরও থাকবে।’ এপার বাংলা-ওপার বাংলা আর সল্ট লেকের ৬০ হাজার দর্শক নিয়ে উত্তাপ-উন্মাদনার স্রোতের মাঝেও এই ম্যাচ ঘিরে ঠাণ্ডা মাথার আরেকটি খেলাও চলছে প্রতিপক্ষ দুই শিবিরে, তাতে তৈরি হচ্ছে নিখুঁত রণপরিকল্পনা। বাংলাদেশ শিবিরে তাতে বড় হুমকি হয়ে লাল দাগাঙ্কিত হয়ে আছেন সুনীল ছেত্রী। জাতীয় দলের গোল ধরলে এই মুহূর্তে সক্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পরই ভারতীয় স্ট্রাইকার ৭২ গোল নিয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইয়েও এখনো পর্যন্ত ভারতের একমাত্র গোলটি তাঁর, ওমানের বিপক্ষে। গত এশিয়ান কাপে ভারতের চার গোলের দুটিই ছেত্রীর। বাংলাদেশের জন্যও ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার এই স্ট্রাইকার দুঃস্বপ্নের নাম। সাফে সর্বশেষ দুই দল মুখোমুখি ২০১৩ সালে। সেবার বাংলাদেশ জিততেই চলেছিল প্রায়। কিন্তু ইনজুরি টাইমে ছেত্রীর ফ্রিকিকেই সেই স্বপ্ন ভাঙে। তার পরের বছর গোয়ায় ২-২ গোলে ড্র হলো যে ম্যাচ তাতেও জোড়া গোল ছেত্রীর। কাল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জেমির দলের জন্যও যে তিনি বড় হুমকি হবেন কোনো সন্দেহ নেই। কলকাতায় গতকাল অনুশীলন সেরে বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামও বললেন ছেত্রীকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথা, ‘ভারতীয় দলের ফরোয়ার্ড লাইনে বেশ কয়েকজনই আছে বিপজ্জনক। তবে অবশ্যই সুনীল ছেত্রীকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে আমাদের। ও উঁচুমানের খেলোয়াড়। তাকে ঠেকাতে আমাদের ডিফেন্ডাররা তৈরি হচ্ছে। গোলরক্ষক হিসেবে আমি নিজেও স্টাডি করেছি, ওর মুভমেন্ট, কোন অ্যাঙ্গেল থেকে শট নেয়, এগুলো দেখেছি।’

আশরাফুলের জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৫ সালে। আর ভারতীয় জাতীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ ম্যাচ ২০১৪ গোয়ায় সেই ২-২ গোলের ড্র ম্যাচই। বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান তাই প্রথমবারের মতোই মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার। মামুনুলও বলছেন এ ধরনের ম্যাচে একাই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন ছেত্রী। বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগ নিয়ে মূল কাজটা করেন সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। আই লিগে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা থাকা ওয়াটকিস কাল হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ছেত্রী থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন, ‘স্ট্রাইকার হিসেবে ওর খুব একটা দুর্বলতা নেই। অবশ্যই ওকে থামানোটা আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে।’ সুনীলের দুই পাশে দুই উইংয়ে তাঁর বেঙ্গালুরু এফসি সতীর্থ উদান্তা সিং ও আশিক কুরনাইন। গতিময় এই দুই উইঙ্গারের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াটাও দারুণ হওয়ার কথা। কাতার ম্যাচ পার করেও ডিফেন্স থেকে মনোযোগ হারালে তাই হচ্ছে না বাংলাদেশের। জাতীয় দলের ম্যানেজার সাবেক ফুটবলার সত্যজিৎ দাস রুপুও বলেছেন, “এই ম্যাচে পুরো দলটাকেই ‘কমপ্যাক্ট’ থাকতে হবে। কোনো বাজে ভুল করা যাবে না।” এরপর সুযোগ এলে তা কাজে লাগানোর আশাও করছেন রুপু, ‘কাতারের বিপক্ষে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও আমরা কাজে লাগাতে পারেনি। পারলে ওই ম্যাচের ফলটা হয়তো অন্য রকম হতো। ভারতের বিপক্ষে আমাদের এই সুযোগ নিতে হবে।’ অর্থাৎ রক্ষণ সামলে বা সুনীলদের রুখে সুযোগ কাজে লাগানোই এখন বাংলাদেশের মূলমন্ত্র।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা