kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গঠনতন্ত্রেই সমাধান দেখছেন হকির সভাপতি

সনৎ বাবলা   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গঠনতন্ত্রেই সমাধান দেখছেন হকির সভাপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তিনি প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে খুব আয়েশ করে উপভোগ করছেন বাংলাদেশ-ওমান হকি ম্যাচটি। আর এই খেলার শীর্ষকর্তা তিনি, দুঃসময়ে খেলাটি যেন তাকিয়ে আছে ফেডারেশন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের দিকে। তিনিও অভয় দিয়ে বলছেন, ‘বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ না থাকলে কোনো কিছুই থেমে থাকবে না। হকি চলবে।’

গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের সুবাদে হকির চেহারা ফিরবে বলেই একটা সামগ্রিক ধারণা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচিত কমিটির অধীনে শুরুটাও খারাপ ছিল না। কিন্তু পাঁচ মাস না কাটতেই হকির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ফেঁসে গেলেন ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে। সেই থেকে তিনি হকিতে গরহাজির, মহিলা হকি দল নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি সাধারণ সম্পাদক। এটা ভীষণ হতাশার এক খবর হকি ফেডারেশনের সভাপতির জন্য, ‘এটা কী শুনলাম! এ রকম কেন হলো? সত্যিই আমি এটা ভাবতেই পারিনি।’ তাঁর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে জড়িয়ে এমন খবর হবে, এটা ফেডারেশন সভাপতির কল্পনারও বাইরে ছিল। তিনি যেমন ধাক্কা খেয়েছেন তেমনি হকির জন্যও এ এক বড় দুঃসংবাদ। সেই ধাক্কা সামলে হকির সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনী প্রধান দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বলেন, ‘এরপর তো অনেক জায়গায় একই ধরনের অভিযান চলছে। আসলে এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। দেশকে ঠিক করতেই হবে।’ ক্লাবগুলোতে শুরু হয় প্রথম অভিযান। সেখানে ক্যাসিনো ব্যবসা উদ্ঘাটন হয়েছে, যুবলীগের বড় নেতা ধরা পড়ার পাশাপাশি অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এখন অন্যান্য জায়গায়ও চলছে এই শুদ্ধি অভিযান।

দুঃসময়ে খেলাটি যেন তাকিয়ে আছে ফেডারেশন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের দিকে। তিনিও অভয় দিয়ে বলছেন, ‘বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ না থাকলে কোনো কিছুই থেমে থাকবে না। হকি চলবে।’

কিন্তু এই অভিযানে হকি আর ক্রিকেট বাদে অন্য কোনো জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন কর্মকর্তার নাম আসেনি। তাই হকি ফেডারেশনের অনেক সদস্য বিব্রত। সাঈদ কবে দেশে ফিরবেন কিংবা আদৌ ফিরবেন কি না, এ নিয়ে কেউ কিছু জানে না। সাধারণ সম্পাদকহীন হকি কিভাবে চলবে, এটাই হয়ে গেছে এখন বড় প্রশ্ন। কিন্তু ফেডারেশন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত তেমন বিচলিত নন, ‘সাধারণ সম্পাদক নেই। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছেন দুজন। সভাপতি না থাকলে সহসভাপতিরা আছেন। কেউ না থাকলে ফেডারেশন কিভাবে চলবে, সেটা গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট করে বলা আছে। তাই বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ না থাকলে কোনো কিছুই থেমে থাকবে না।’ সভাপতি এরপর যোগ করেন, ‘আদালতের রায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে এরপর কী করণীয় হবে, সেটাও গঠনতন্ত্রে বলা আছে।’ অর্থাৎ এই দুঃসময়ে গঠনতান্ত্রিকভাবেই দেশের হকি পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছেন হকি ফেডারেশন সভাপতি।

গতকাল তিনি হকি ফেডারেশনে এসেছিলেন সফররত ওমান অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলের খেলা দেখতে। অতিথি দলকে ক্রেস্ট উপহার দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। তবে এই ম্যাচ ছাপিয়ে বিমানবাহিনী প্রধানের বেশি চিন্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হকি চর্চা নিয়ে, ‘এই খেলাগুলো হচ্ছে অলংকার। জেলা-বিভাগ অর্থাৎ গ্রাম-গঞ্জে এই খেলার চর্চা বাড়াতে হবে, ওখান থেকেই আসবে আমাদের নতুন খেলোয়াড়। সেখানে যত খেলা হবে ততই হকির বিস্তার হবে এবং খেলার সামগ্রিক উন্নয়ন হবে।’ এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের উপলব্ধিই ঠিক, হকির চেহারা ফেরাতে তৃণমূলে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা