kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্থানীয় কোচদের পক্ষে সওয়াল উঠবে?

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্থানীয় কোচদের পক্ষে সওয়াল উঠবে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই কিনা তিনি এক ফাঁকে জানিয়ে রাখলেন, ‘আমি কিন্তু সব শেষ সভায় ছিলাম না।’ বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সেই সভার পরেই জানানো হয়েছে, আসন্ন আসরের সাতটি দলের হেড কোচ হিসেবে বিদেশিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কাউকে এই পদে দেখা যেতে পারে কি না, এমন প্রশ্নেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক মাহবুব আনাম আশাব্যঞ্জক কিছু বলেননি। সে জন্যই ওই সভায় নিজের অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে হয়তো দায়মুক্তও থাকতে চাইলেন আকরাম খান।

বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক সেই সভায় থাকলে সিদ্ধান্ত অন্য রকম হতো কি না, সেটি বলা মুশকিল। তবে পরবর্তী সভায় অবশ্যই এই বিষয়ে তাঁর কিছু প্রস্তাবনা থাকবে বলে জানালেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের প্রধান। যাঁর অনেক সতীর্থই এখন কোচিং পেশায়। এঁদের একজন খালেদ মাহমুদ তো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদেও তাঁর সহকর্মী। যাঁর কোচিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস টানা তিনটি বিপিএলের ফাইনাল খেলেছে। এর মধ্যে একটিতে শিরোপার স্বাদ নেওয়া মাহমুদের তুলনায় সাফল্যে এগিয়ে আরেক দেশি কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। যাঁর কোচিংয়ে দুইবার বিপিএল জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

দেশের কোচদের সাফল্য যেখানে প্রমাণিত, সেখানে তাঁদের উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্তে তাই সমালোচনা হওয়াই স্বাভাবিক, হচ্ছেও। কিন্তু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে কি তা প্রভাবিত করতে পারবে? তা পারুক বা না পারুক, গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য আকরাম দেশি কোচদের জন্য কোনো ‘লাইফলাইন’ বের করায় উদ্যোগী হবেন বলে জানালেন। দুই সফল কোচের মধ্যে অবশ্য একজনের ব্যাপার আলাদা। তিনি বিসিবি পরিচালক মাহমুদ। সাত দলের জন্য বিসিবি সাতজন পরিচালককে ‘টিম ডিরেক্টর’ বানানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে। এঁর একটি নাম যে এই সাবেক অধিনায়কেরই হবে, তা নিয়েও কোনো সংশয় দেখছেন না অনেকেই।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সেই সভার পরেই জানানো হয়েছে, আসন্ন আসরের সাতটি দলের হেড কোচ হিসেবে বিদেশিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কাউকে এই পদে দেখা যেতে পারে কি না, এমন প্রশ্নেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক মাহবুব আনাম আশাব্যঞ্জক কিছু বলেননি। সে জন্যই ওই সভায় নিজের অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে হয়তো দায়মুক্তও থাকতে চাইলেন আকরাম খান।

কিন্তু বিপিএলের সবচেয়ে সফল বাংলাদেশি কোচ সালাউদ্দিনের জন্যও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন আকরাম। যদিও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে দেশে হেড কোচ হওয়ার মতো যোগ্য কোনো কোচ নেই। এর সঙ্গে একমতও হলেন না আকরাম, ‘এ রকম কোনো কথা নেই। যারা ভালো করেছে, তারাও সুযোগ পেতে পারে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের আরো সভা আছে। যারা কোচ হিসেবে ভালো করেছে, তাদের কথা তো সেখানে আসবেই।’ নিজেই সে আলোচনা তুলতে চান আকরাম, ‘খালেদ মাহমুদের দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সালাউদ্দিন কোচ হিসেবে দুইবার নিজের দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। কাজেই ওরা তো হেড কোচ হতেই পারে। পরের সভায় আলোচনায় এটি আমি অবশ্যই তুলব।’ সেই সঙ্গে এও বলেছেন, ‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সব কিছু হবে। যেটি সেরা সিদ্ধান্ত হবে, আমরা সেটিই নেব।’

হেড কোচ ইস্যুই শুধু নয়, প্রতিটি দলে একজন দেশি লেগ স্পিনার খেলানো বাধ্যতামূলক করা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কারণ দেশে তো এ ধরনের স্পিনার পর্যাপ্ত নেই। থাকলেও এঁদের অনেকেই মানোত্তীর্ণ নন। বাস্তব কারণে আকরামকেও সেটি মেনে নিতে হলো, ‘আমাদের তো সাতজন না, ১৪ জন লেগ স্পিনারও থাকতে পারে। কিন্তু মূল কথা হলো কোয়ালিটি থাকতে হবে। না থাকলে আমরা বাইরে থেকে আনব।’ বিসিবির শীর্ষ মহলে লেগ স্পিনার নিয়ে চর্চা হচ্ছে বহুদিন ধরেই। এ রকম স্পিনার তৈরির তাগিদও অনুভব করছিলেন কর্তারা। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গিয়ে ব্যাপারটি বিপিএলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, ‘আসলে কথা ছিল জাতীয় ক্রিকেট লিগে লেগ স্পিনার খেলানো বাধ্যতামূলক করা হবে। কিন্তু সেটি বিপিএলে কেন করা হলো, বুঝতে পারছি না।’

এটি নিয়ে গোলমাল হলেও হয়নি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে জানা ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে। এ রকম বোলার দেশে নেই। তাই বিদেশিতেই আস্থা রাখা ছাড়া উপায়ও নেই কোনো। তবে দেশি সফল কোচে অনাস্থায় বিপিএল শুরুর অনেক আগেই বিতর্ক। যেটি থেকে গা বাঁচাতে চাওয়া আকরাম গভর্নিং কাউন্সিলের পরের সভায় কী করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা