kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

নিজেদের ব্যর্থতা প্রকাশ্য করে দেওয়া এক সিদ্ধান্ত

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজেদের ব্যর্থতা প্রকাশ্য করে দেওয়া এক সিদ্ধান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বেশ নামিদামি কোচরা আসন্ন বিপিএলের বিভিন্ন দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করায় যেন বর্তে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত পরশু পরিচালক মাহবুব আনামের কথায় সেটি স্পষ্টও। যিনি ব্যাপারটিকে ‘আশাব্যঞ্জক’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথা শুনে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরটিতে স্থানীয় কোনো কোচের হেড কোচ হওয়ার সুযোগ আছে বলেও মনে হয়নি। যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কোচদের জন্য অত্যন্ত ‘নিরাশাব্যঞ্জক’ বলেও রায় দিয়ে ফেলছেন অনেকে।

এঁদেরই অন্যতম বিসিবি থেকে সদ্য পদত্যাগী নাজমুল আবেদীন ফাহিম। নিজের প্রথম কর্মস্থল বিকেএসপিতেই আবার ফিরে যাওয়া এই কোচ দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের সিদ্ধান্তের মর্মার্থ এভাবেই তুলে ধরলেন, ‘প্রথমত এটি বিসিবির তরফে একধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই যে আমাদের দেশে যোগ্য কোনো কোচ নেই। যেটি সত্যি নয়।’ আসছে ১০ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২০ বছর পূর্তি। এর ঠিক মাসখানেক আগে হেড কোচ হিসেবে বিপিএলে কোনো স্থানীয়কে রাখতে না চাওয়া বিসিবির চিন্তার দৈন্যও সব শেষ সিদ্ধান্তে ফুটে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে তাঁর, ‘আসলেই খুব দুঃখজনক। আমি খুবই শঙ্কিত। কী চিন্তা-ভাবনা আমরা করছি, তা নিয়ে খুব শঙ্কিত। ২০ বছরে আমরা একজন মানুষ (কোচ) তৈরি করতে পারলাম না, সে কথাই আমরা বলে দিলাম।’

২০ বছর আগে বাংলাদেশ তাদের অভিষেক টেস্ট খেলেছিল সারোয়ার ইমরানের অধীনে। এত বছর পর এভাবে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটিকে মোটেও ভালোভাবে নিতে পারছেন না তিনি, ‘আমি হতাশ। পৃথিবীর কোনো দেশ নেই, যেখানে বলে দিয়েছে নিজ দেশের কোচরা হেড কোচ হতে পারবে না। এই প্রথম দেখলাম।’ অথচ বিপিএলেই বাংলাদেশি কোচদের সাফল্যের নজির অনেক। সব শেষ বিপিএলের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া দুই দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস এবং ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ ছিলেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে গতবারই শুধু নয়, মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কোচিংয়ে ২০১৫-র বিপিএলেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা।

ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ হিসেবে ২০১৬-তে বিপিএল শিরোপার স্বাদ নিয়েছেন খালেদ মাহমুদও। এমনও নয় যে বিপিএল সাফল্যে বিদেশি কোচরা দেশিদের চেয়ে এগিয়েও আছেন। এখন পর্যন্ত হওয়া ছয় আসরে তাঁদের সাফল্যের হার সমান-সমান, তিনটি করে শিরোপা। সালাউদ্দিন-মাহমুদ মিলে জিতেছেন তিনবার। বাকি তিনবার জিতেছেন ইয়ান পন্ট (দুইবার) ও টম মুডি মিলে। দুইবার শিরোপার সুবাস পেতে পেতেও পাওয়া হয়নি সারোয়ার ইমরানেরও। যেজন্য তিনি বেশ জোর গলায় বলে দিতে পারেন, ‘বিপিএলে স্থানীয় কোচরা সব সময়ই ভালো করেছে। আমি একবার বাজে দল নিয়েও ফাইনাল খেলেছি। ২০১২-তে বরিশাল বার্নার্স ফাইনালে ঢাকার কাছে হারে। ২০১৬-তে মোটামুটি একটি দল নিয়ে রাজশাহী কিংস আমার কোচিংয়ে ফাইনাল খেলে। ঢাকার কাছে হারি আমরা। সালাউদ্দিন দুইবার জিতেছে। খালেদ মাহমুদ একবার। এগুলো দেখলেই বোঝা যায়, স্থানীয় কোচদের পারফরম্যান্স।’

একই মত নাজমুল আবেদীনেরও। তিনি ভাবছেন এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও, ‘গত বেশ কয়েকটি বিপিএলে চার-পাঁচজন দেশি কোচ খুব ভালোভাবে তাঁদের দল পরিচালনা করেছেন। দেশি কোচদের দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনাও নিয়মিতই ঘটেছে। সুতরাং এটি খুবই দুঃখজনক। একই সঙ্গে অনুৎসাহব্যঞ্জকও। সেই কোচদের জন্য, যারা সত্যিকার অর্থেই নিজেদের ওপরে ওঠাতে চায়। এবং খুব অশ্রদ্ধাজনক এক সিদ্ধান্তও এটি। আমার মনে হয় না কেউ এর পরে খুব আগ্রহ নিয়ে বড় কোচ হওয়ার চিন্তা করবে। যাদের মধ্যে বড় কোচ হওয়ার সামর্থ্য বা সম্ভাবনা আছে, তারা এসব ভেবেই হয়তো আর আসবে না। এই একটি সিদ্ধান্তই হয়তো অনেক নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসতে পারে।’

অবশ্য স্থানীয় কোচদের কারো কারো ক্ষেত্রে বিসিবির নেতিবাচক মনোভাবও এ রকম সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মনে করেন নাজমুল, ‘আমার মনে হয় বিসিবির কর্মকর্তারাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে দেশের দুই-চারজন কোচের সামর্থ্য আছে। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক তারা হয়তো ওই কোচদের রাখতে চায় না। বিসিবির কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না। এত বড় একটি সংগঠনের জন্য তা কতটা যুক্তিসংগত বা ভালো হলো, সেটি তাই প্রশ্নসাপেক্ষই।’ প্রশ্নবিদ্ধ সেই সিদ্ধান্তে তো তাহলে নিজেদের ব্যর্থতাও মেনে নিতে হয় বিসিবিকে! ২০ বছরে একজন যোগ্য কোচ তৈরি করতে না পারার ঘোষণাও কি এটি নয়?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা