kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সেরা ম্যাচ

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : আশঙ্কা ছিল বড় ব্যবধানে হারের। কিন্তু শেষ বাঁশির পর ২-০ গোলের হারেও বাংলাদেশ খুঁজে পাচ্ছে পরিতৃপ্তি। কাতারের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অনেকগুলো সুযোগ কাজে লাগানোর আত্মতৃপ্তি যেমন আছে, তার উল্টোপিঠে লুকিয়ে আছে হতাশার গল্পও। অন্যদিকে খেলার ধারার বিপরীতে পেয়ে যাওয়া গোলে এগিয়ে থেকে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়িয়ে ৩ পয়েন্ট কামিয়ে নেওয়ার পর কাতারের কোচ ফেলিক্স সানচেসও শোনাচ্ছেন আত্মতৃপ্তির গল্প। সেই সঙ্গে দুষছেন মাঠের বাজে অবস্থাকেও।

দুপুরের একপশলা বৃষ্টির পর মাঠের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, প্রকৃতি খানিকটা সুবিধাই এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ফেলিক্স জোর দিয়েই বলছিলেন, ‘উঁচু ঘাস, কাদা, এখানে ওখানে গর্ত; আমরা কোনোভাবেই আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিলাম না।’ অন্যদিকে জেমি অবশ্য মাঠ নিয়ে খুব একটা উচ্চকণ্ঠ নন, ‘মাঠের অবস্থা তো দুই দলের জন্যই ছিল একই রকম, কাদা হলে দুই দলের জন্যই কাদা।’ সেই কাদামাঠে কাতারের ফুটবলারদের গতি কমেছে, বল গড়িয়েছে ধীরে। অন্যদিকে বছরজুড়ে অনেকটা একই রকম মাঠে খেলে অভ্যস্ত বাংলাদেশের ফুটবলাররা সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা না পাওয়াতে রুখে দেওয়া গেল না এশিয়ার চ্যাম্পিয়নদের।

জেমিই বলছিলেন, ‘আসলে কাতারের মতো দলকে সুযোগ দিলে ওরা কাজে লাগাবেই।’ অন্যদিকে অনেকগুলো সুযোগ পেয়েও একটিও গোল না হওয়াতে নিজেদের দুর্ভাগা ভাবছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ‘দুর্ভাগ্য না বলার তো কোনো কারণ নেই। আমাদের দুটি শট গোললাইন থেকে সেভ হলো। বেশ কতগুলো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারলাম না।’ জেমি মনে করেন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনেক আত্মবিশ্বাসই জোগাবে কাতারের বিপক্ষে পারফরম্যান্স, ‘ভারতের বিপক্ষে আমাদের এভাবেই খেলতে হবে। এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই পেয়েছি আমরা।’

অতীতে অস্ট্রেলিয়া, জর্দানের মতো বড় দলের বিপক্ষে খেলতে নামলে মাঠে কিংকর্তব্যবিমূঢ় মনে হয়েছে ফুটবলারদের। কাতারের বিপক্ষে পুরোই বিপরীত চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছে বাংলাদেশই। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্যটা ধরা পড়েছে জামাল ভূঁইয়ার চোখেও, ‘এই দলটা গত ১৫ মাস ধরে একসঙ্গে খেলছে। আমরা পরস্পরকে ভালো করে জানি ও বুঝি, আগের দলগুলো এ রকম ছিল না। আগে সব সময় ফুটবলার আসত-যেত। এখন আমরা দল হিসেবে খেলি, দল হিসেবে রক্ষণ সামলাই আবার আক্রমণও করি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সানচেস বলেছিলেন, কঠিন এক ম্যাচ আছে সামনে। ম্যাচের আগে সেটা সৌজন্যমূলক মনে হলেও ম্যাচের পর সেটা সত্যি হয়েই দেখা দিল, ‘কঠিন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন একটি ম্যাচ খেললাম। ৩ পয়েন্ট পাওয়াতে আমি সন্তুষ্ট।’ অন্যদিকে জেমি হতাশ হলেও ভরসা হারাচ্ছেন না শিষ্যদের ওপর, ‘আমার কাছে এই দলের ১১ জনই ম্যাচসেরা। সবাই নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি দিয়েছে মাঠে, প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে। এই দলের ছয়জনের বয়স ২৩ বছরের নিচে। তাদের আরেকটু সময় দিলে তারা অনেক ভালো করবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই আমার সেরা ম্যাচ।’ আর সুযোগগুলো হাতছাড়া হওয়া নিয়ে জামালের একটাই কথা, ‘এটাই ফুটবল। সুযোগ কাজে লাগাতে পারার মধ্যেই আসলে বড় দল আর ছোট দলের পার্থক্য।’

৯০ মিনিট শেষে দুই দলের কোচ তৃপ্ত, দর্শকরাও অখুশি নয়। শুধু আক্ষেপ, যদি সুযোগগুলো কাজে লাগানো যেত!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা