kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

বিসিবির নিজস্ব ‘মডেলে’র বিপিএল

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিসিবির নিজস্ব ‘মডেলে’র বিপিএল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে এবার ওশেনিয়ার দিকে ঝুঁকেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)! এত দিন আইপিএলের আদলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বলে বলে গলা ফাটিয়ে এলেও এবার অন্য সুর। এখন তাদের কণ্ঠে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশের মতো বিপিএল আয়োজনের ঘোষণা। কিন্তু সে ঘোষণায়ও শুরুতেই তাল-লয়-সুর কেটে যাওয়ার মতো অনেক কিছুই।

আগেই জানা যে এবার কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকছে না। সব কিছু নিজেরাই করবে বিসিবি। শুধু সাতটি দলের জন্য স্পন্সর নেবে তারা। সেই স্পন্সরদের কাজ টাকা দিয়েই শেষ। কারণ দল গঠন, কোচ নিয়োগ থেকে শুরু করে সব কিছুই করবে বিসিবি। প্রতিটি দলের স্পন্সররা নিয়মানুযায়ী জার্সিতে নিজেদের নামাঙ্কিত লোগোর নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ পাবে। দলের নামের সঙ্গেও জুড়ে যাবে তাদের নাম। খেলোয়াড়দের বিজ্ঞাপনেও ব্যবহার করতে পারবে। সে জন্য তাদের দিতে হবে ছয় কোটি টাকা। এই টাকায় দলীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার অবশ্য তাদের নেই।

নেই যখন, তখন ড্রাফটের বাইরের খেলোয়াড় নেওয়ার খরচও তাদের জোগানোর কথা নয়। কিন্তু আসন্ন বিপিএলে স্পন্সরদের জন্য আবার রাখা হয়েছে ‘বিস্ময়কর’ সেই সুযোগই। বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম কাল এক সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন এ রকম তথ্যই, ‘ইতিমধ্যে চার শর কাছাকাছি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছে। ড্রাফটের বাইরে থেকে যদি কোনো বিদেশি ক্রিকেটার নিতে হয়, তাহলে স্পন্সররা নিজেদের খরচে তাকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’

ক্রিকেটার বাছাই থেকে শুরু করে কোচ নিয়োগের কোনো অধিকারই যেখানে নেই স্পন্সরদের, সেখানে বাড়তি খরচে তাদের টেনে আনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এ রকম অনেক প্রশ্নেরই জন্ম দিয়েছে কাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় হওয়া সিদ্ধান্তগুলো। এর সভাপতি শেখ সোহেল এবং সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক দেশে ফিরেছেন। কাল সভাও করেছেন, তবে দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন মাহবুব। গভর্নিং কাউন্সিলে যাঁর কোনো পদই নেই। ‘বিপিএলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই’—কাল দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে এমন কথা বলে গেলেও বিকেলে তাঁর মুখপাত্র হয়ে যাওয়াটাও কম হাস্যরসের জন্ম দেয়নি।

ধোঁয়াশা আছে টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখ নিয়েও। ৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেখ সোহেল জানিয়েছেন সেটি ৭-১০ দিন পেছাতে পারে। কেন? সে ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘সংকটময় পরিস্থিতি এলেই সাধারণত টুর্নামেন্ট পেছায়। কিন্তু আমাদের সে অবস্থা নেই।’ না থাকলে পেছাচ্ছে কেন? প্রশ্ন আছে আরো। মাহবুব জানিয়েছেন, ‘টুর্নামেন্ট করার প্রধান কারণ, বাংলাদেশের খেলোয়াড় বের করে আনা।’ তাই নিয়ম করেছেন, ‘আমাদের লেগ স্পিনার দরকার। প্রতিটি দলে তাই একজন লেগ স্পিনার খেলাতেই হবে। এবং তাকে দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ৪ ওভার বোলিং করাতেই হবে।’ অথচ কাল থেকে শুরু হওয়া প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আট দলে মাত্র পাঁচজনই লেগ স্পিনার দিতে পেরেছেন নির্বাচকরা। ভালো মানের লেগ স্পিনারের সরবরাহ নেই, কিন্তু নিয়ম করা সারা!

আরেকটি বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে, ‘প্রতিটি দলে আন্তর্জাতিক যে ফাস্ট বোলারদের আনা হবে, আমরা চাইব তার মধ্যে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করা বোলার যেন থাকে।’ স্পন্সরদের জন্য পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবিই। প্রতিটি দলের টিম ডিরেক্টর হিসেবে তাই জুড়ে দেওয়া হবে একেকজন বিসিবি পরিচালককেও। প্রতিটি দলের কোচ হিসেবেও গভর্নিং কাউন্সিলের প্রথম পছন্দ বিদেশিরাই। মাহবুবের বক্তব্যে স্থানীয়দের জন্যও আশাব্যঞ্জক কোনো খবর নেই, ‘আমরা যেসব আন্তর্জাতিক কোচদের নাম পেয়েছি, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। আমরা প্রতিটি দলে আন্তর্জাতিক কোচ নিয়োগ দেব।’ যদিও সব শেষ বিপিএলের ফাইনাল খেলেছিল দুই স্থানীয় কোচের দলই। মাহবুবের বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট যে এবার দেশি কোচদের বড়জোর সহকারী কোচ হওয়ার ‘করুণা’ জুটতে পারে!

গভর্নিং কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় সব কিছু চূড়ান্ত করার আগে গতকাল তাঁরা বসেছিলেন স্পন্সর হতে আগ্রহী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। যাদের তিনটি বিসিবির চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানানো মাহবুব তাদের পরিধি আরেকবার নিশ্চিত করেছেন এভাবে, ‘স্পন্সররা টাকা দেবে, বিসিবি খরচ করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা