kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বাংলাদেশের চাওয়া-পাওয়ার অঙ্ক

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘সবারই জয়ের আশা থাকে। আমরাও সেই আশা নিয়ে মাঠে নামব’—সংবাদ সম্মেলনে জেমি ডের এমন বক্তব্যে কৌতুক বোধ করেন সবাই। সেই বিস্ময় বুঝতে পেরেই কিনা তিনি যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চয় আমার খেলোয়াড়দের হারার জন্য মাঠে নামতে বলব না!’ কাতারের বিপক্ষে আসলে বাংলাদেশের চাওয়ার জায়গাটা বোধগম্য কারণেই সীমিত। জয় তো নয়ই, ড্রয়ের লক্ষ্যের কথাও বলা যায় না, পাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়। বাস্তবতা বলছে, কাতার ম্যাচে জেমি ডের লক্ষ্য বিব্রতকর ফল এড়ানো। অন্তত সাম্প্রতিক নৈপুণ্য দিয়ে সে আশার ফুল ফুটিয়েছেনও ফুটবলাররা।

 

জেমির পাশে বসেই কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জামাল ভূঁইয়া যেমন বলেছেন, ‘আমার মনে হয় আগের দলগুলোর তুলনায় জেমির অধীনে আমরা অনেক গোছানো ফুটবল খেলছি। কোনো ম্যাচেই খুব বেশি গোল হজম করিনি, যেটা আগে প্রায়ই দেখা যেত। আমরা এখন সত্যিকার একটা দল হয়েই খেলছি।’ জাতীয় দলের সাবেক কোচ সাইফুল বারীও বলেছেন, জেমি খুব বাস্তববাদী কোচ, অহেতুক ঝুঁকি নেবেন না। আর তাঁর অধীনে তারুণ্যনির্ভর যে দলটি খেলছে, বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জোর লড়াই করার মতো ফিটনেস এবং দম তাদেরই আছে। একদিকে জেমির সুচারু পরিকল্পনা, আরেক দিকে উদ্যমী একটা দল—দুয়ে মিলে কাতারের বিপক্ষেও আসলে পাওয়ার আছে অনেক কিছু। এই প্রথম কোনো জাতীয় দলে কাজ করছেন জেমি, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ইংলিশ এই কোচেরও স্মরণীয় একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। জামাল বলেছেন খেলোয়াড়দের কথাও, ‘ক্যারিয়ারে এমন বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব বেশি আসে না আমাদের। তাই সবাইকে বলব নার্ভাস না হয়ে ম্যাচটি উপভোগ করার।’

গত এশিয়ান গেমস থেকে বাংলাদেশে কাজ করছেন জেমি। সেই আসরেই কাতারের অলিম্পিক দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো গেমসের নক-আউট পর্বে খেলার কীর্তি গড়ে বাংলাদেশ। শেষ ষোলোতে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩ গোল হজম করেও শেষ বাঁশির আগে তার একটি ফিরিয়ে দিয়েছিল জেমির দল। ৯০ মিনিট ধরে লক্ষ্যে অবিচল থেকে খেলার এই চরিত্রটাই জেমি দাঁড় করিয়েছেন এক বছরের বেশি সময় ধরে। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের সেমিফাইনালে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ধারে-ভারে পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ হাল ছাড়েনি এক মুহূর্তের জন্য। ২-০ গোলে হারা ওই ম্যাচে নাবিব নেওয়াজরা বার কয়েক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ বাছাইয়েও তাঁর দল দাঁতে দাঁত চেপে লড়েছে বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। প্রতিমুহূর্তে প্রেসিং এবং পুরো দল নিয়ে সুসংগঠিত রক্ষণের পাশাপাশি প্রতি-আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগানো—জেমি সেই শুরু থেকে এভাবেই খেলাচ্ছে দলকে। কারণ ফিফার র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ যতটা পেছনে, খেলার মানেও তাই।

চাওয়া-পাওয়ার হিসাবটা তাই সহজ নয়, কারণ এই জয় বা ড্রয়ের ভাবনার পেছনেও অনেক সমীকরণ। জেমির লক্ষ্য, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটা। তবে খেলোয়াড়রা যদি তাদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে আসলে আমার আর এর বেশি কিছু চাওয়ার থাকবে না। সঙ্গে ভাগ্যটা পাশে পেলে, কে জানে কত কিছুই তো হতে পারে।’ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই ম্যাচ দেখতে নিশ্চিত দর্শকরাও মাঠমুখী হবেন, শেষ পর্যন্ত তারা গর্ব করার মতো কিছু নিয়ে ফিরতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা