kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

অসম লড়াই না প্রতিরোধের রোমাঞ্চ

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অসম লড়াই না প্রতিরোধের রোমাঞ্চ

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গতবার ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার আসা নিয়ে বেশ নাটক হয়েছিল। হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল সফর বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু সকারুরা পারেনি, ফিফা নমনীয় হয়নি বলে। এবার কোনো ঝামেলা হয়নি, বিনা শর্তে ঢাকায় এখন কাতার ফুটবল দল। সেই অস্ট্রেলিয়ার মতো এবারও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদেরই পেয়েছে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে। এই কাতারও এশীয় পরাশক্তির বাইরে বাড়তি জৌলুস যোগ করেছে বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়ে। ঢাকায় এসেছে তারা ৫৭ জনের বহর নিয়ে; ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা যেমন করে। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ নিঃসন্দেহে হাই প্রফাইল। আজ অন্তত এশীয় ফুটবলের নজর থাকবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

 

অনেক পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এই মঞ্চে। ভুটান লজ্জার পর বাংলাদেশ এই স্ট্যাটাস হারিয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নির্বাসনে ছিল প্রায় দেড় বছর। সেখান থেকে একটু একটু করে আবার এই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে জায়গা পাওয়া। এমিলি, এনামুল, লিংকন, মিশুদের সময় পেছনে ফেলে সাদ, বিপলু, সুফিল, রবিউলদের নতুন দিন শুরু। একেবারেই তরুণ একটা দল বাংলাদেশ। জেমি ডের অধীনে গত এশিয়ান গেমসে কাতারকে হারিয়েছিল যে অলিম্পিক দলটি, তার ১৫ জনই আছেন এই দলে। কয়েকজন নেই চোটের কারণে। কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের তফাতটাও এখানেই। বাংলাদেশের কাছে হারা কাতারের সেই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের একজনই মাত্র আছেন ফেলিক্স সানচেসের দলের। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের কাছে তাদের জুনিয়র দলের হারার মাত্র মাস পাঁচেকের মধ্যেই তাই জাপানকে হারিয়ে এশিয়ান কাপের শিরোপা জেতে কাতার। এই দলটির আটজন খেলোয়াড় আছেন ৫০-এর ওপর ম্যাচ খেলা। ২০-এর ওপর ম্যাচ খেলেছেন ছয়জন। বার্সেলোনার যুব দল নিয়ে কোচিং শুরু করা ফেলিক্স ২০০৬ সালে যোগ দেন কাতারের এস্পায়ার একাডেমিতে। সেই তিনি অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩ হয়ে এখন জাতীয় দলের দায়িত্বে। সেই একাডেমিতে তাঁর হাতে গড়া আল মোয়েজ আলী, আকরাম আফিফরাই খেলবেন ২০২২ বিশ্বকাপে। বাংলাদেশেও এসেছেন তাঁরা। আল মোয়েজ গত এশিয়ান কাপে ৯ গোল করে এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করা ইরানি কিংবদন্তি আলী দায়ির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। কোপা আমেরিকায় প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্র ম্যাচেও করেছেন লক্ষ্যভেদ। আর এই বিশ্বকাপ বাছাইও শুরুই করেছেন তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে। পরের ম্যাচেই অবশ্য ভারত তাদের মুদ্রার উল্টোপিঠটাও দেখিয়েছে গোলশূন্য ড্র করে।

 

বাংলাদেশ দলের সামনে এই কাতার তাই যতটা ভয়ংকর, তার পাশে আশার জায়গাও আছে খানিকটা। জেমির দল প্রস্তুত হয়েই নামছে ঝড় মোকাবেলার। ম্যাচে দমের লড়াই হবে, হবে টেকনিক আর ট্যাকটিকসের লড়াইও। রক্ষণের কৌশল কী হবে তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই গত কয়েক দিনে। তবে কাল নিশ্চিতভাবেই ছক চূড়ান্ত করেছেন জেমি। আভাস মিলেছে, ব্যাক লাইনের ওপর মিডফিল্ডটাকেও নিশ্ছিদ্র রাখতে ৪-১-৪-১ ফরমেশনে যাচ্ছেন জেমি। আলোচনায় ভারতের মতো পাঁচ ব্যাক নিয়ে খেলার উপযোগিতা নিয়েও। কিন্তু জেমি অভ্যস্ত ছকের বাইরে খুব একটা যেতে রাজি নন। ৪-২-৩-১ ভেঙেই তাই ৪-১-৪-১। পোস্টের নিচে অবশ্যই প্রথম পছন্দ আশরাফুল ইসলাম। আফগানিস্তানের ম্যাচটি প্রায় সামলেই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই নাম্বার ওয়ান। ছোট বক্সের ওপর থেকে নেওয়া একটা হেডে শুধু হার মেনেছিলেন, তাত্ক্ষণিক ক্ষিপ্রতায় সেই বলটাতেও হাত ছুঁইয়েছিলেন, কিন্তু তা ক্রসবারে লেগেও ভেতরে ঢুকে যায়। রক্ষণে বিশ্বনাথের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং সুশান্ত চোটে পড়ায় ফুল ব্যাকে রহমত আর রায়হান হাসানই এখন প্রথম পছন্দ। সেন্টারব্যাকে ইয়াসিন খানের ভালো সঙ্গী হতে পারেন টুটুল হোসেন বাদশা, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত টুটুল গত চার দিন ধরে অনুশীলনে ফিরলেও আজই তিনি মাঠে নামবেন কি না নিশ্চিত নয়। সে ক্ষেত্রে বিকল্প তরুণ রিয়াদুল হাসান। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে এবং সর্বশেষ ভুটানের বিপক্ষেও তিনি খারাপ করেননি। এই ব্যাক লাইনের ওপরে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। দুই ফুলব্যাক বা ইয়াসিন ওপরে উঠলে তিনি জায়গাটা পূরণ করবেন। মিডফিল্ডে এক লাইনে সাদ উদ্দিন, সোহেল রানা, বিপলু আহমেদ অথবা  রবিউল হাসান, মাহবুবুর রহমান অথবা ইব্রাহিম। একক স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ।

কাতারের চাপ সামলে বাংলাদেশ দল কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ নিলেই স্টেডিয়াম উত্তাল হবে কোনো সন্দেহ নেই। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লাল-সবুজের এই লড়াই যে রোমাঞ্চ না ছড়িয়ে পারে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা