kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

লিটনকে দেখা যাবে, সাকিবকে নয়

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লিটনকে দেখা যাবে, সাকিবকে নয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাকতালীয়ভাবে একই দিনে শুরু হচ্ছে দুটি দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। ১০ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) মাঠে গড়াচ্ছে। একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড শিল্ডও। সেখানে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে খেলবেন দুই শীর্ষ ক্রিকেটার স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। যাঁরা বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ, ক্লান্তিকর ও প্রচণ্ড স্নায়ুক্ষয়ী অ্যাশেজ সিরিজও খেলেছেন। এ রকম টানা ক্রিকেট খেলার পরও নিজেদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আসর শুরুর সময় তাঁদের বিশ্রামে রাখার আলোচনা উঠেছে বলে শোনা যায়নি। অথচ এখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য এনসিএল খেলা বাধ্যতামূলক করার পরও এই আসর থেকে বিশ্রাম পাচ্ছেন শুধু একজনই। শীর্ষ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিশ্রামের পক্ষে যুক্তি, সতীর্থদের তুলনায় তিন ফরম্যাট মিলিয়ে একটু বেশিই খেলেন এই অলরাউন্ডার।

যদিও এ বছর সতীর্থদের অনেকের তুলনায় কমই খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের খেলা তিনটি টেস্টের একটিই শুধু খেলেছেন সাকিব। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই টেস্টে ব্যাটিং ভরাডুবির পরই তো ঠিক হয়েছিল যে এবার সবাইকে এনসিএল খেলতে হবে। ২৫ অক্টোবর থেকে ভারত সফরের অনুশীলন শিবির শুরুর আগে দুই রাউন্ড খেলবেন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সম্ভাব্য ক্রিকেটাররা। বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের হয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে যাওয়া সাকিবের পক্ষে প্রথম রাউন্ডে খেলা সম্ভবই নয়। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডেও যে খেলা হচ্ছে না তাঁর, সেটিও একরকম নিশ্চিত করে দিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটি প্রধান আকরাম খান ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার। সাকিবের বিশ্রামের পক্ষে ব্যাট ধরলেন দুজনই।

সেই বিশ্রাম তাঁর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সিপিএল খেলার জন্যই। আকরামের বক্তব্য শুনে তা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়, ‘সাকিব কিন্তু কোনো বিশ্রাম পায়নি। এখানে খেলার (আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের চারটি ম্যাচ) পরই তো সে সিপিএল খেলতে চলে গেছে।’ সর্বশেষ বিপিএলের ফাইনালে চোট পাওয়ায় নিউজিল্যান্ড সফরের দুটি টেস্টও মিস করেছিলেন সাকিব। আবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলের ব্যর্থতায় টেস্ট অধিনায়কের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ প্রস্তুতিও কম জরুরি ছিল না। বিশেষ করে ভারত সফরের দুই টেস্ট দিয়েই যেখানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশ, সেখানে সাকিবের শেষ ম্যাচ প্রস্তুতি বলতে সিপিএল টি-টোয়েন্টি।

১২ অক্টোবর যেটির ফাইনালেও খেলার সম্ভাবনা আছে সাকিবের দল বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের। যদিও বিসিবির কাছ থেকে নেওয়া এই অলরাউন্ডারের অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) মেয়াদ ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। একই আসরে জ্যামাইকা তালাওয়াসের হয়ে খেলতে যাওয়া লিটন কুমার দাসের এনওসির মেয়াদ আরো দুই দিন বেশি হলেও তিনি ৯ অক্টোবরই দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন হাবিবুল। দ্বিতীয় রাউন্ডে লিটনের খেলাও নিশ্চিত করেছেন এই সাবেক অধিনায়ক। সে ক্ষেত্রে জাতীয় দলের বাকি থাকেন শুধু সাকিবই। বিশ্বকাপের পর যিনি লম্বা সময় ছুটি নিয়েছিলেন। এই সময়ে হজেও গিয়েছিলেন। তাই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে তাঁর যাওয়া হয়নি শ্রীলঙ্কা সফরেও। বিশ্বকাপের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর স্তুতিবাক্যের যে ফোয়ারা ছুটেছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দলের ব্যর্থতা তাতেও বাঁধ দিয়েছে কিছুটা। তাই বলে অন্যদের তুলনায় ‘আলাদা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া সাকিবকে সবার মধ্যে কেউ ভেড়াচ্ছেনও না। এমনকি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলা নিয়ে তাঁকে কেউ ধরছেনও না, ছুঁয়েও দেখছেন না। বরং না খেলার পক্ষে যুক্তিও দেখাচ্ছেন। আকরাম বলছেন সিপিএল শেষে বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা। হাবিবুলও মনে করছেন সাকিবের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার সময় বের করা কঠিন, ‘সাকিবের ব্যাপারটি হলো সে প্রচুর খেলে। টেস্ট ম্যাচও প্রচুর খেলে (এ বছর একটিই খেলেছেন)। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ কিন্তু সে অনেক খেলেছে। সম্প্রতি সে বেশি খেলছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটসহ তিনটি ফরম্যাটেই খেলছে। এ রকম ক্রিকেটারের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার সময় বের করা খুব কঠিন। এটিই বাস্তবতা।’

বিশ্বজুড়ে অবশ্য সেই চাহিদা কম নয় স্মিথ-ওয়ার্নারদেরও। তবু শেফিল্ড শিল্ডের দলে তাঁদের নাম আছে। হাবিবুলের ভাষ্যানুযায়ী সাকিবই শুধু নন, মুশফিকুর রহিম-তামিম ইকবাল-মাহমুদ উল্লাহরাও বোধ হয় এনসিএল না খেললে পারতেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা নতুন খেলোয়াড়দের জন্যই বেশি দরকার। বড় ইনিংস খেলা তো অভ্যাসের ব্যাপার। এই অভ্যাস দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলেই করতে হয়।’ এককালে যেহেতু অনেক খেলেছেন সাকিবও, তাই...!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা