kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেও...

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে গুলি আর বোমার আওয়াজে বেড়ে ওঠা, এরপর শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতের জীবন। আফগানিস্তানের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের জীবনের গল্পটাই এমন। জীবন আর মৃত্যুর তফাৎ যে জনপদে খুবই সামান্য, সেখানে চোটের ভয়ে ক্রিকেট মাঠে না নেমে ড্রেসিংরুমে মুখ গুঁজে বসে থাকবেন কোনো আফগান? মরে গেলেও না। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন রশিদ খান, পরে চোট নিয়ে বল করতে গিয়ে বিপদ আরো বাড়িয়েছেন। তবে ফাইনালে কোনোভাবেই তিনি ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে রাজি নন, বলছেন, ‘যদি খেলার ১০ ভাগ সম্ভাবনাও থাকে তাহলেও আমি খেলব।’

সতীর্থ আসগর আফগানের উদাহরণ টেনেই রশিদ বললেন, ‘জিম্বাবুয়েতে, বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচের মাত্র চার দিন আগে আসগরের অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র চার দিন পর সে মাঠে চলে আসে, বলে যে সে খেলবে। আমি খেলব, কারণ আমাদের দেখেই পরের প্রজন্ম শিখছে। যদি ১০ ভাগ সম্ভাবনাও থাকে, তাহলেও আমি খেলব। কারণ আমি আমার দেশকে ভালোবাসি আর দেশ আমার কাছে ম্যাচ জিততে চায়, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।’ যে মাঠে টেস্টে ইতিহাস গড়া জয় পেয়েছে আফগানিস্তান, দিন কয়েকের ব্যবধানে সেখানেই দুটি টি-টোয়েন্টিতেই হার। তবে সেসব নাকি মনোবল টলাবে না আফগানদের, ‘মনে হয় না। আমাদের কালকের (আজ) ম্যাচটির দিকেই মনোযোগ রাখতে হবে। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ, ওসব এখন অতীত। আমরা ফাইনালে—এটাই হচ্ছে বড় কথা। মৌলিক জিনিসগুলো ঠিকঠাক করতে হবে, যেভাবে করে আমরা এখানে জিতেছি।’ নিজে খেলতে না পারলে আফগানিস্তান দল দুর্বল হয়ে যাবে বলেও মনে করেন না রশিদ, ‘আমাদের অনেক বিকল্প আছে। মুজিব, নবি ছাড়াও শারাফ আছে, সে ভালো অলরাউন্ডার আর বাঁহাতি স্পিনার। মনে হয় না সমস্যা হবে।’ ঢাকায় দুটি ম্যাচেই জিতে চট্টগ্রামে গিয়ে দুটি ম্যাচেই হার। রশিদ বললেন খানিকটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেরা দলই নামানো হবে ফাইনালে, ‘আমার মনে হয় আমাদের শুধু নিজেদের খেলাটা উপভোগ করতে হবে। আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। ফাইনালে সেরা দলই খেলবে।’

সেই দলটায় রশিদ নিজে থাকবেন কি না, সেটাই অবশ্য নিশ্চিত হয়নি গতকাল পর্যন্তও। রশিদই বললেন, ‘এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। আজ ও কাল (গতকাল ও আজ) আরো কিছু শুশ্রূষা নিতে হবে, তাহলেই বলা যাবে। আশা করছি ভালো হয়ে যাব।’ নিজে খেলুন আর না-ই খেলুন, আফগানদেরই শিরোপা জয়ের জোরালো দাবিদার বলছেন রশিদ, ‘গত কয়েকটি বছর টি-টোয়েন্টিতে আমরা যেভাবে খেলছি, তাতে আমরা বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারাতে পারি। আমাদের প্রতিভা আছে, সেই দলটাও আছে, আমাদের শান্ত হয়ে মাঠে খেলাটা খেলতে হবে।’ চট্টগ্রামের উইকেট আর ঢাকার উইকেটের ফারাক অনেক। রশিদ সেসব নিয়ে একদমই ভাবছেন না, ‘আমরা যেকোনো ধরনের উইকেটেই খেলতে প্রস্তুত, হোক সেটা সমতল উইকেট কিংবা ঘূর্ণি উইকেট। সব শেষ দুটি ম্যাচ সমতল উইকেটে খেললাম। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে মাঠে গিয়ে যে উইকেট পাব তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।’

টেস্টে জয়ের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠে শিরোপার হাতছানি। বাংলাদেশ সফর থেকে প্রাপ্তিতে ফুলে-ফেঁপে ওঠার সুযোগ কাবুলিওয়ালাদের সামনে। তাদের উল্লাস থামিয়ে দিতে কি পারবেন সাকিবরা?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা