kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বার্সা-লিভারপুলের ফুটবলারও থাইল্যান্ডে

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাকা, ডেভিড বেকহাম, ওয়েইন রুনির মতো তারকারা ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে স্পেন, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাধারণ মানের ফুটবলারদের সে সুযোগ নেই। তাঁরা চলে আসেন আটলান্টিকের উল্টো পাড়ে। জাপান, চীনের পর বাজারটা বেড়ে গড়িয়েছে এখন থাইল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবল লিগ পর্যন্ত। তাই লিভারপুলের তারকা রবি ফাওলার, এই ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সিনামা পোনগেলে, বার্সেলোনায় খেলা পেদ্রো মারিও আলভারেসরা খেলে গেছেন থাই লিগ ওয়ান বা টি-ওয়ানে।

একসময় খেলোয়াড়দের বেতন দিতে না পারা শতবর্ষী এই লিগ প্রিমিয়ার যুগে পা রাখে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে। তখন থেকে বদলে যাওয়া লিগ ওয়ানে নিয়মিত খেলছে ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি দলসহ ব্রাজিলের অনেক খেলোয়াড়। জমজমাট দলবদলের বাজারও। ২০১৬ সালে তানাবুন কেসারাতকে ৫০ মিলিয়ন থাই বাথে (১২.৫ কোটি বাংলাদেশি টাকা) মুয়াংথন ইউনাইটেড থেকে কিনে নেয় লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী চিয়াংরাই ইউনাইটেড। ৩০-৪০ মিলিয়ন থাই বাথে দলবদল হচ্ছে নিয়মিত। এই বদলটা হলো কিভাবে? ২০০৭ সালে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন চনবুরি এফসি ক্লাবের গোলরক্ষক ওয়ারাওয়াত সুকুনার কাছ থেকেই শুনুন উত্তরটা, ‘এখন প্রিমিয়ার লিগের স্পন্সর টয়োটা। বড় কিছু কম্পানি, ব্যাংক ক্লাব কেনায় বেড়েছে প্রতিযোগিতার মান। শীর্ষ খেলোয়াড়রা ১২-১৫ হাজার ডলার বেতন পান প্রতি মাসে। এ জন্যই আসছে বিশ্বকাপ বা নামি ক্লাবের হয়ে খেলা অনেক ফুটবলার।’

ভুল বলছেন না সুকুনা। লিগ ওয়ানের সর্বোচ্চ সাতবার শিরোপা জেতা বুরিরাম ইউনাইটেড ২০০৯ সালে কিনে নেন ধনকুবের নিউইন চিডচোব। সাত শিরোপার ছয়টিই এসেছে নিউইন ক্লাব কেনার পর। ক্লাব আছে ব্যাংকক ব্যাংক আর ক্রুং থাই ব্যাংকের নামে।

১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত লিভারপুলে খেলা রবি ফাওলার চার বছর খেলেছেন ম্যানচেস্টার সিটিতেও। ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় ২০১১ সালে ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড নাম লেখান থাইল্যান্ডের মুয়াংথন ইউনাইটেডে। ২০০৪-০৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লিভারপুল ৩-১ গোলে জিতেছিল সিনামা পোনগেলে সমতা ফেরানোর পর। সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সিনামা লা লিগার অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, জারাগোজা হয়ে ২০১৬ থেক ২০১৮ পর্যন্ত থাই লিগে খেলেন চায়নাত হরনবিলের হয়ে। ২০০৩-০৪ মৌসুমে বার্সেলোনায় খেলা পেদ্রো মারিও আলভারেস ২০১৬ সালে খেলেছেন মুয়াংথন ইউনাইটেডে।

থাইল্যান্ডের জীবনযাত্রার সঙ্গে ব্রাজিল ও স্পেনের মিল আছে অনেকখানি। এ জন্যই এই দেশ দুটির প্রচুর তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার খেলেন থাই লিগ ওয়ানে। এমনকি এই লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড়টিও ব্রাজিলের ক্লেইটন সিলভা। রিও ডি জেনিরোর এই উইঙ্গার থাই লিগে ২০১০ সাল থেকে পাঁচটি ক্লাবে খেলে করেছেন ১১৯ গোল। এমনকি সর্বোচ্চ গোলদাতার সেরা ছয়ের তিনজনই ব্রাজিলিয়ান। লাতিন এই দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে খেলে স্কিলে উন্নতিও হচ্ছে থাই ফুটবলারদের। এ জন্যই তারা ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১১৫ নম্বরে।

দুইবার অলিম্পিক ফুটবলে অংশ নেওয়া থাইল্যান্ড এশিয়ান টুর্নামেন্টগুলোয় খেলে একটা মান ধরে রেখে। এ বছরই এএফসি এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। টুর্নামেন্টটিতে ১৯৭২ সালে তৃতীয় হওয়া সেরা অর্জন তাদের। এশিয়ান গেমসে সেমিফাইনাল খেলেছে তিনবার। এবার থাইল্যান্ডের লক্ষ্য বিশ্বকাপের বন্ধ দুয়ার খেলা। থাই মেয়েরা এরই মধ্যে দুইবার খেলেছে বিশ্বকাপে। এবার ছেলেদের পালা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা