kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

কার হাতে?

রশিদের সঙ্গী আছেন, সাকিবের সঙ্গী লাগবে

ট্রফি জিততে কারো না কারো যোগ্য সংগতও লাগবে সাকিবের। কে দেবেন সেটি? রশিদকে সেটি দেওয়ার জন্য অফ স্পিনার মুজিবর রহমান কিন্তু আছেন!

মাসুদ পারভেজ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রশিদের সঙ্গী আছেন, সাকিবের সঙ্গী লাগবে

ছবি : মীর ফরিদ

সব শেষ বিশ্বকাপ ক্রিকেট দুজনের একই রকম কাটেনি। একজন অবিশ্বাস্য সাফল্যে উজ্জ্বল হলেও আরেকজন ছিলেন ভীষণ অনুজ্জ্বল। বিশ্বকাপের পর অবশ্য দুজনের সময়ের অদলবদল ঘটেছে। বিশ্বকাপে বিশেষ করে ব্যাট হাতে দারুণ সফল সাকিব আল হাসানকে ছন্দ ফিরে পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে রশিদ খান এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছেন ব্যর্থতার চোরাগলি থেকে।

যদিও বিশ্বকাপে তাঁর স্বমিহমায় দেখা দিতে না পারার কারণ ভিন্ন বলেই ধরা হয়ে এসেছে। বিশ্ব আসর সামনে রেখে হুট করেই বদলে ফেলা হয় অধিনায়ক। তাতে দলের ভেতর ছড়িয়ে পড়া অসন্তোষের জের টানা আফগানিস্তান বিশ্বকাপের পরপরই সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব এই বিশ্বমানের লেগ স্পিনারের কাঁধে তুলে দিতেই সেই চেনা চেহারায় রশিদ। বোলিংয়েই শুধু নয়, চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে ব্যাট হাতেও কার্যকরী ছিলেন তিনি।

ওই টেস্টে হারের পর ব্যাটে-বলে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচও ভালো যায়নি সাকিবের। জিম্বাবুয়ের রায়ান বার্ল তাঁর এক ওভার থেকেই তুলেছিলেন ৩০ রান। কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে যা তাঁর সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভারও। এই অলরাউন্ডার বোলিংয়ে পরের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়ালেও ব্যাটিংয়ে ঠিক জমাতে পারছিলেন না। তাঁর ব্যাটিংও যে বিশ্বমানের, বিশ্বকাপে ৬০৬ রান করা পারফরম্যান্স তা নিয়েও সংশয় রাখেনি কোনো। কিন্তু সমস্যা হলো টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও সেটি মেলে ধরতে পারছিলেন না।

অবশেষে মেলে ধরলেন তখনই, যখন আজকের ফাইনালের আগে আফগানিস্তানের কাছে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি ছিল বাংলাদেশের। চট্টগ্রামে ৪৫ বলে অপরাজিত ৭০ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেই ঢাকায় ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ব্যাটিং বিবেচনায় যিনি নিশ্চিতভাবেই প্রতিপক্ষ অধিনায়কের চেয়ে শ্রেয়তর। সেই সঙ্গে নিজ দলের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব তাঁর কাঁধে থাকলেও বোলার হিসেবে প্রতিপক্ষের ওপর চড়ে বসার ক্ষমতায় এগিয়ে থাকছেন রশিদই। আগের ম্যাচে পাওয়া হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট যাঁর আজকের ফাইনালে খেলা নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয় রেখে দিয়েছে।

সাকিব আর তাঁর মধ্যে শেষ হাসি কার মুখে ফোটে এবং কার হাতে শোভা পায় ট্রফি, এই ফাইনালকে ঘিরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হয়ে উঠেছে এটিই। শিরোপার লড়াইয়ের আগে আফগানদের বিপক্ষে সময়োপযোগী জয়টি পেয়েছে বাংলাদেশ। যা তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে নিঃসন্দেহে। আবার টানা দুই হারের পর জয় দিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করার জন্য নিশ্চয়ই ভীষণ মরিয়া হয়ে আছে আফগানরাও। বিশ্বকাপের পর কেবলই বাজে সময় পার করতে থাকা বাংলাদেশও একটি ট্রফির জন্য কম কাক-প্রতীক্ষায় নেই। দুয়েমিলে জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষা।

যে লড়াইয়ে দুই অধিনায়কেরই সামনে থেকে নিজ নিজ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার আছে। আফগানরা অবশ্য চেনা ফর্মুলায়ই প্রতিপক্ষকে চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও নাকাল করতে চাইবে। সেটি খুব স্বাভাবিকও। কারণ স্পিনই তাদের শক্তির জায়গা। কাজেই সেই অনুযায়ীই যে ফাইনাল প্রস্তুতি সেরেছে স্বাগতিকরা, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথায়ও সেটি স্পষ্ট, ‘মুজিব ও রশিদ স্পিনের দুই বড় নাম। ওদের বিপক্ষে (আমাদের) ব্যাটসম্যানদের অনেককেই ভুগতে হয়েছে। ওরা বিশ্বমানের স্পিনার। নেটে আমরা ওদের সামলানোর প্রস্তুতিও নিয়েছি।’

রশিদদের সামলানোর প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশ যে আফগানদের বিপাকে ফেলতে কৌশলে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, ডমিঙ্গো দিয়েছেন সে ইঙ্গিতও, ‘(ম্যাচের আগে) ১২ জনের দলে আমরা চতুর্থ পেসার অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছি। প্রথম একাদশ চূড়ান্ত করব (ম্যাচের দিন) উইকেট দেখার পর। উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকলে চারজন পেসার খেলিয়ে সেটি আমরা কাজেও লাগাতে পারি।’ অথচ চট্টগ্রামে টেস্টে একজনও পেসার খেলায়নি বাংলাদেশ। আবার ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সব শেষ ম্যাচ জেতা স্বাগতিক দলের একাদশে বোলারদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ স্পিনার বলতে ছিলেন শুধু সাকিবই।

চার পেসার খেললেও ফাইনালে যাঁর ভূমিকা বদলাবে না। ব্যাটে-বলে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের দাবিই থাকবে এই অলরাউন্ডারের কাছে। ট্রফি জিততে কারো না কারো যোগ্য সংগতও লাগবে সাকিবের। কে দেবেন সেটি? রশিদকে সেটি দেওয়ার জন্য অফ স্পিনার মুজিবর রহমান কিন্তু আছেন!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা