kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

‘আফগান গেরো’ কাটার পর...

এবার ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও ফাইনালের ‘গেরো’ খোলার সুযোগ। শেষ ম্যাচের জয় থেকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটে থাকার কথা পুরো বাংলাদেশ শিবিরেই। বাকিটা জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আফগান গেরো’ কাটার পর...

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওপেনিং সমস্যার সমাধান হয়নি এখনো। তবু ফাইনালের আগে তা নিয়ে নির্বাচক কিংবা দলসংশ্লিষ্টদের অস্থিরতাও নেই। অবশেষে আফগানিস্তানের কাছে টানা চার হারের পর পাওয়া জয় যেন স্বস্তির পরশই বুলিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক শিবিরে।

অথচ ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের পর কী অস্থিরতাই না বিরাজ করছিল বাংলাদেশ দলে। দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের কাছে হারের পরপরই দলে ব্যাপক রদবদল আনা হয়। ঢালাও খেলোয়াড় পরিবর্তনে এবং কাউকে কাউকে খেলার সুযোগ না দিয়েই বাদ দেওয়ার ব্যাপারটি সমালোচিতও হয়েছিল খুব। বলা হয়েছিল আসরে নিজেদের তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচের দল সেটি।

এর শেষ ম্যাচটিতেই রশিদ খানের দলের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয়ে ‘আফগান গেরো’ ছুটেছে বলেই দলে আর কোনো পরিবর্তনের হাওয়া নেই। বরং ম্যানেজার সাব্বির খান জানিয়েছেন, শেষ দুই ম্যাচের স্কোয়াডই অপরিবর্তিত থাকছে। অথচ দুই ম্যাচেই ওপেনিংয়ে ব্যর্থ হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ম্যাচ মিলিয়ে (১১ ও ৫) করেছেন মোটে ১৬ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২২ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেললেও লিটন কুমার দাশের ব্যাটিংয়ে দলকে ওপেনিং নিয়ে স্থিরতা দেওয়ার লক্ষণ নেই। শেষ ম্যাচে আউট হয়েছেন ৪ রান করে। সাকিব আল হাসান বাদে অন্যরাও যে খুব দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন, তা নয়। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে অধিনায়কের হার না মানা ৭০ রানের ইনিংসেই ছুটেছে ‘আফগান গেরো’।

এবার ফাইনাল। তবে ফাইনালও আর এখন বাংলাদেশের জন্য অমীমাংসিত রহস্য হয়ে নেই। বহুকাল আটকে থাকার পর সেই ‘ফাইনাল গেরো’ও বাংলাদেশ ছুটিয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক ফাইনালে হারের বেদনায় নীল হতে হতে টাইগাররা আনন্দে মাতার উপলক্ষ পেয়েছে বিশ্বকাপের ঠিক আগে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপার নাগাল পায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ডাবলিনের পর এবার দেশের মাটিতেই শিরোপা দিয়ে আরেকটি আসর রাঙানোর সুযোগ সাকিবের দলের সামনে। আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেই ফাইনাল আবার বাংলাদেশের জন্য প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতার সুযোগও।

এর আগে গত চার বছরে দুইবার কোনো বহুজাতিক টি-টোয়েন্টি আসরের ফাইনাল খেলেও ট্রফি জেতা হয়নি বাংলাদেশের। প্রথমবার ২০১৬ সালে দেশের মাটিতে এশিয়া কাপের ফাইনালে হারে ভারতের কাছে। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালেও সেই একই প্রতিপক্ষ স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডোবায় সাকিবদের। আয়ারল্যান্ডে ফাইনাল জিতলেও টি-টোয়েন্টিতে সেই ‘গেরো’ যে এখনো খোলেনি, সে সিদ্ধান্তে তাই পৌঁছানোই যায়। অবশ্য এমনও নয় যে কোনো বহুজাতিক টি-টোয়েন্টি আসরের ফাইনালে জেতেনি বাংলাদেশ। তবে সেটি কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছিল না। ২০১০ সালে চীনের গুয়ানজোতে ক্রিকেটের শিরোপা জিতে দেশকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে সোনা এনে দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তাও আবার ফাইনালে তারা ৩ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল আফগানিস্তানকেই। সেই দলের দুজন আছেন এই আফগান দলেও—আসগর আফগান ও মোহাম্মদ নবি। ওই ফাইনালে খেলা একজনই আছেন এখনকার বাংলাদেশ দলে। তিনি সাব্বির রহমান। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে যিনি ১৮ বলে ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ম্যাচ ভাগ্য গড়েছিলেন।

তবে সময়ে সেই আফগানিস্তান দলই এখন এমন পরিণত ও কার্যকরী যে তাদের বিপক্ষেও নিজেদের ফেভারিট ঘোষণা করে নামতে পারে না বাংলাদেশ। সম্প্রতি চট্টগ্রামে তাদের কাছে একমাত্র টেস্টের হারে যা প্রমাণিতও। এরপর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজেও প্রথম দেখায় হার। এর আগে ভারতের দেরাদুনেও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ ‘আফগান গেরো’ খুলল সব শেষ ম্যাচে। এবার ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও ফাইনালের ‘গেরো’ খোলার সুযোগ। শেষ ম্যাচের জয় থেকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটে থাকার কথা পুরো বাংলাদেশ শিবিরেই। বাকিটা জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা