kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ফাইনালে ওঠার তৃপ্তির সঙ্গে কিছু প্রশ্নও

সামীউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফাইনালে ওঠার তৃপ্তির সঙ্গে কিছু প্রশ্নও

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ বছর পর টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখা পাওয়া গেছে। সেই ২০১৪ সালে, বিশ্ব টি-টোয়েন্টির গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৯ উইকেটে জয়ের পর কাল ৪ উইকেটের জয়ে ভাঙল ৪ ম্যাচে হারের বৃত্ত। এই জয়ে তৃপ্তি যেমন আছে, তেমনি জয়ের পরে থেকে যাচ্ছে কিছু প্রশ্নও।

ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে সাকিব আল হাসান বললেন, ‘গত কয়েকটি মাস ধরে টি-টোয়েন্টিতে আমরা ভালো করতে পারিনি। আমরা ভালো করার চেষ্টা করছি। এই উইকেটেও বোলাররা ভালো করেছে। কাউকে না কাউকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে হতো আর সৌভাগ্যক্রমে দিনটা ছিল আমার। কখনো মনে হয়নি আমি ছন্দে ছিলাম না। যে বলটা যেভাবে মারতে চেয়েছি, সেভাবেই হয়েছে। শুধু মাঠে গিয়ে খানিকটা সময় কাটানো দরকার ছিল।’ শুরুতে আফগানদের উদ্বোধনী জুটি দ্রুত রান তুললেও মাঝপথে রাশ টেনে ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। এ জন্য কৃতিত্বটা বোলারদের দিচ্ছেন সাকিব, ‘আসরজুড়েই বোলাররা ভালো বোলিং করে গেছে আর ফিল্ডাররাও যথাসাধ্য চেষ্টা করে গেছে। বেশির ভাগ সময়ই আমাদের ডুবিয়েছে ব্যাটসম্যানরা। এই জয় ফাইনালে যাওয়ার আগে আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে আর আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ তবে সাগরিকার সঙ্গে মিরপুরের তফাতটা মাথায় রেখেই কথাটা বলেছেন সাকিব, ‘মিরপুরের কন্ডিশনটা ভিন্ন হবে। সেটা একেবারেই নতুন একটা ম্যাচ। আফগানরা ভালো দল। তাইতো তারা র‌্যাংকিংয়ে সাতে, আমাদের ওপরে।’

ফিল্ডিং করার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রশিদ খান। ফিরে এসে বল করেছেন, উইকেটও নিয়েছেন; কিন্তু আগের মতো দুর্ধর্ষ মনে হয়নি তাঁকে। ইনিংসের ১৮তম ওভারে, তাঁর বলেই তো ১৮ রান নিলেন মোসাদ্দেক ও সাকিব। ফাইনালের আগে সুস্থ হয়ে উঠবেন, এমন প্রত্যাশাই করছেন এই লেগ স্পিনার, ‘হ্যামস্ট্রিংয়ে খানিকটা সমস্যা করছে, আশা করি দু-এক দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। এখনো জায়গাটা একটু আড়ষ্ট হয়ে আছে। আসলে মাঠে নেমে দেখতে চাচ্ছিলাম বোলিং করা যায় কি না। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ঠিক আছি, বাকিটা সমস্যা করছে। মাঠে ফেরার সেটাই ছিল পরিকল্পনা।’ বিনা উইকেটে ৭৫ থেকে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া, এখানেই ম্যাচটি ফসকে গেছে বলে মনে করেন আফগান অধিনায়ক। তবে হারের জন্য খুব একটা আক্ষেপ নেই তাঁর, ‘আমরা একসঙ্গে খুব বেশি উইকেট হারিয়েছি, তাও ম্যাচের খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ভাগ্য ভালো যে এটা গ্রুপ পর্বেই ঘটে গেল। আমাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে আর একদম মৌলিক পাঠগুলো ফাইনালের আগে ফের ঝালিয়ে নিতে হবে।’

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। তাঁর কণ্ঠেও ফাইনালে ভালো করার আত্মবিশ্বাস। সেই সঙ্গে মনে করেন, খানিকটা হলেও কাটিয়ে ওঠা গেছে রশিদ ফ্যাক্টর, ‘চোট নিয়ে ফিরে এসেও কিন্তু রশিদ উইকেট নিয়েছে। আমাদের একটা ওভারে সুযোগ নিতেই হতো, সেটাই ১৮তম ওভারে গিয়ে নিয়েছি, ঝুঁকিটা কাজে লেগেছে।’ আফগানদের বিপক্ষে

জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের পালে লাগা নতুন হাওয়াটা টের পাচ্ছেন মোসাদ্দেক, ‘এই ম্যাচটি জিতে আমরা আকাশে উঠে যাইনি আবার হারলেও মাটিতে পড়ে যেতাম না। তবে এই জয় নিশ্চিতভাবেই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। শেষ দুটি ম্যাচে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছি। ফাইনালে এভাবে খেলতে পারলে সিরিজ জেতা কঠিন কিছু নয়।’ আয়ারল্যান্ডে মোসাদ্দেকের ব্যাটেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফাইনালে হারের বৃত্ত ভেঙেছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই অলরাউন্ডার, ‘ফাইনালে যেকোনো কিছুই হতে পারে। তবে (একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে) জিতে ফাইনালে খেলতে নামলে সেটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়।’

ফাইনালে পা রাখা হলো, আফগানদের বিপক্ষে জয়ও এলো। কিন্তু উদ্বোধনী জুটির রানখরা ঘুচল না।

কমল না ক্যাচ ফেলার পুরনো রোগও। তাই ফাইনালে খেলার তৃপ্তির আড়ালে ভাবাচ্ছে এই প্রশ্নগুলোও। যে উত্তরগুলো না মিললে ফাইনালের গল্পটা এই ম্যাচের মতো নাও হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা