kalerkantho

শনিবার । ১৪ চৈত্র ১৪২৬। ২৮ মার্চ ২০২০। ২ শাবান ১৪৪১

বাংলাদেশের গর্বের ড্র

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের গর্বের ড্র

আত্মবিশ্বাসটাই নড়ে গিয়েছিল মারিয়া মাণ্ডাদের। জাপান ম্যাচে ৯ গোলের বিপর্যয় কাটানোটা ছিল চ্যালেঞ্জ। তাতে সফল গোলাম রব্বানীর দল। এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমান তালে খেলে ২-২ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। প্রেসিং ফুটবলে দুইবার এগিয়েও গিয়েছিল তারা। মেয়েদের ফুটবল সাফল্যের মুকুটে তাতে যোগ হয়েছে নতুন পালক। বাংলাদেশের দুটি গোলই তহুরা খাতুনের। তাঁর দুই গোলে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে প্রথম পয়েন্ট মেয়েদের।

২১ মিনিটে এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম গোলটি পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার একটি আক্রমণ প্রতিহত হয় আঁখি খাতুনের হেডে। সেই বল ডি বক্স থেকে আসে ঋতুপর্ণা চাকমার পায়ে। বাঁ দিক দিয়ে লম্বা করে বাড়ানো তাঁর লব পান তহুরা খাতুন। ডি বক্স ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক মিরান্দা টেমপ্লেমান আসেন এগিয়ে। কিন্তু তহুরার বুদ্ধিদীপ্ত শটে কিছু করার ছিল না তাঁর। আইপিই স্টেডিয়ামে আসা অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকরা চুপসে যান একেবারে। আগের ম্যাচে উড়ে যাওয়া এক দল শুরুতে গোল দিয়ে বসবে ভাবেনি অস্ট্রেলিয়াও। বিরতির আগে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তাতে অন্যতম অবদান গোলরক্ষক রুপনা চাকমার অসাধারণ কটি সেভ।

ম্যাচ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ান কোচ রায়েনে দোয়ের মিউজিকের তালে শরীর দোলাচ্ছিলেন ডাগ আউটে। ম্যাচ শুরুর পরও ছিলেন চুপচাপ বসে। বাংলাদেশের গোলের পর ডাগ আউট ছেড়ে এসে রীতিমতো অস্থির তিনি! ২০২৩ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার স্বপ্ন দেখা দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স বিশ্বাসই হচ্ছিল না তাঁর।

একাদশে তিনজনের পরিবর্তনে গতি বাড়ে বাংলাদেশের। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড সাজেদা খাতুন চাপে রেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান রক্ষণ। তাঁর সঙ্গে একাদশে ফিরেছিলেন দুই ডিফেন্ডার  ঋতুপর্ণা চাকমা ও মোসা. সুলতানা। বাদ পড়েছিলেন শামসুন্নাহার সিনিয়র, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও আনুচিং মোগিনি। বিরতির পর অবশ্য সুলতানার বদলে নামানো হয় অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার সিনিয়রকে। সমতা ফেরাতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া বিরতির পর বাড়ায় আক্রমণের ধার।

৭৭ মিনিটে আর সুরক্ষিত রাখা যায়নি পোস্ট। কর্নার থেকে আসা বলে ক্লওদিয়া লরেনের হেডে ফেরে সমতা। এক মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রতি-আক্রমণে লম্বা করে বাড়ানো বলে ফরোয়ার্ডের গোলের কৌশল মেয়েদের ফুটবলে পুরনো। সেই কৌশল কাজে লাগে আরো একবার। আঁখি খাতুনের বাড়ানো লবে নিজের দ্বিতীয় গোল তহুরা খাতুনের। বাংলাদেশি ছোটখাটো গড়নের গোলরক্ষক রুপনাকে ফাঁকি দিতে ম্যাচের শুরু থেকে বক্সের বাইরে থেকে শট নিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া, যা কাজে লাগে ৮০ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে পাইগি জোয়েশের শট ফিস্ট করতে পারেননি রুপনা। চার মিনিটের ব্যবধানে হয় দুই দলের তিন গোল। ম্যাচে সমতা ২-২। শেষ দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে ম্যাচটা শেষও হয় তাতে।

অন্য ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৮-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ৭ পয়েন্ট পাওয়া জাপান। এই গ্রুপ থেকে শেষ চারে নাম লেখানো অন্য দল ৫ পয়েন্ট পাওয়া অস্ট্রেলিয়া। থাইল্যান্ডের পয়েন্ট ৩ বাংলাদেশের ১। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে গত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ করেছিল ২ গোল, হজম করতে হয় ১৫টি। এবার নিজেদের জালে জড়িয়েছে ১২ আর নিজেরা করেছে দুটি। সবচেয়ে বড় অর্জন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ১ পয়েন্ট। কে জানে, থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালেও খেলতে পারত বাংলাদেশ?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা