kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

এবার আফিফের বোলিং জাদু

সামীউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার আফিফের বোলিং জাদু

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

মাহমুদ উল্লাহ যখন ১ রান করা রহমানউল্লাহ গুরবাজের ক্যাচটি ছাড়লেন, তখন গোটা স্টেডিয়াম হতাশায় ডুবলেও একটা কোনায় উল্লাসের জোরালো বহিঃপ্রকাশ! খেলা দেখতে আসা শখানেক আফগান তরুণীর একটি দল ক্লাব হাউসে ঘাঁটি গেড়েছে জাতীয় পতাকা নিয়ে। স্টেডিয়ামের লাউড স্পিকারে বাজানো পশতু গানে নাচছেন, হাত নাড়ছেন। আর সেই গানগুলো বাজানোর উপলক্ষ তৈরি করে দিচ্ছেন মাঠে থাকা হজরত উল্লাহ জাজাই ও রহমান গুরবাজ। একটা একটা করে চার-ছয় মারছেন, বাজছে আফগানি মূর্ছনা। প্রথম ইনিংসটা প্রায় অর্ধেক হয়ে যাওয়ার পর ‘লাল-সবুজের বিজয় নিশান’ গানটা বাজল আফিফ হোসেনের সৌজন্যে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার বল করার সুযোগ পেয়ে প্রথম ওভারেই যে আফিফ ফিরিয়ে দিয়েছেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জাজাই ও বিপদের সম্ভাবনা ডেকে আনার সামর্থ্য রাখা আসগর আফগানকে। আফিফের করা ম্যাচের দশম ওভারটা থেকেই তো শুরুতে খেই হারানো বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু।

শুরুটাই হয়েছিল নো বল দিয়ে। প্রথম বলেই সাইফ উদ্দিনের পা দাগ থেকে প্রায় এক ফুট বাইরে, মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আমিরের সেই কুখ্যাত নো বলের কথা। কোনো বল হওয়ার আগেই রানের খাতা খুলে গেল আফগানদের, পরের বলটা ফ্রি হিট। ইনিংসের শুরুতেই এমন সৌভাগ্য কজন ব্যাটসম্যানের হয়? তবে পরের বলটা বেশ বুদ্ধি করেই করেন সাইফ, ফ্রি হিটেও বাউন্ডারি হজম করতে হয়নি। পরের ওভারটা করতে এলেন শফিউল ইসলাম। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অস্বস্তিতে গুরবাজ। টানা তিনটি ডট বলের পর অস্থির হয়ে ব্যাট চালান গুরবাজ, ওপরের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। কিন্তু মাহমুদ বলটা রাখতে পারেননি মুঠোয়। দলীয় ৭ রানেই প্রথম উইকেটের পতন হতে পারত, সেটা হলো গিয়ে ৭৫ রানে!

অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে, এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মাহমুদ আর আফিফের হাতে বল দিতে সাহস করেননি। কাল, প্রথম যখন সাকিব বল করতে ডাকেন আফিফকে; তার আগে মাহমুদের শনির দশা! ক্যাচ ছেড়েছেন, পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে বল করতে এসে দিয়েছেন ১৬ রান। একাদশে একজন বোলার কম নিয়ে খেলা সাকিব তখন ২০ ওভারের অঙ্ক মেলাতে একবার মাহমুদ ও একবার মোসাদ্দেককে বোলিং দেন। দুজনের কেউই প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি, ভাঙতে পারেননি উদ্বোধনী জুটি। ১০ম ওভারে খানিকটা নিরুপায় হয়েই সাকিব বল দেন আফিফকে, সেই ওভারটাই পালটে দেয় ম্যাচের রং!

প্রথম ডেলিভারিতেই বলটা বেশ বড় বাঁক নিয়েছিল, পরাস্ত হয়েছিলেন জাজাই। পরের বলে সপাটে চালিয়েছিলেন এই আফগান ব্যাটসম্যান, হয়নি ব্যাটে-বলে। পরের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের ওপরের কানায় লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দেন, ফাইন লেগে যেটা তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজ। এক বল পর আসগর আফগানও লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় বল তুলে দেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। কদিন আগেও এই দুজনে মিলে খেলছিলেন ইমার্জিং দলের হয়ে। কাল দুজনে মিলে জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে স্কোরকার্ডে পাশাপাশি নাম তুলেছেন। আফিফের মেডেন ওভারে জোড়া শিকারে খানিকটা টলোমলো আফগান ব্যাটিং। সুযোগের ফায়দাটা তুলেছেন সাকিব ও মুস্তাফিজ। মোহাম্মদ নবিকে সাকিব লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেছেন মাত্র ৪ রানে, মুস্তাফিজ নিজের বলে নিজেই অনেকটা দৌড়ে ধরেছেন গুরবাজের ক্যাচ। যদিও লিটন ছিলেন পাশেই, তবে শফিউলের মন্দভাগ্য দেখে বোধহয় মুস্তাফিজ অন্যের হাতের ওপর ভরসা করতে চাননি।

বিনা উইকেটে ৭৫ থেকে ৭ উইকেটে ১৩৮, আফগানরা উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। সেই সঙ্গে ধীর হয়েছে রানের চাকাটাও। নো বল আর ক্যাচ হাতছাড়া করার মতো অশনিসংকেত ইনিংসের শুরুতে দেখা গেলেও শেষটা মন্দ হয়নি। সে জন্য কৃতিত্বটা আফিফেরই বেশি প্রাপ্য। তাঁর একটি ওভারেই তো পালটে গেছে পাশার দান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা