kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

জাতীয় দলে এলেই কী হয় নাজমুলের!

সামীউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাতীয় দলে এলেই কী হয় নাজমুলের!

কেউ যখন টেনিস বলেও ক্রিকেট খেলতে শুরু করে, তার মনের ভেতর স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য ব্যাপারটা এখন বোধ হয় উল্টো হয়ে গেছে। জাতীয় দল মানেই যেন নাজমুলের জন্য দুঃস্বপ্ন। বয়সভিত্তিক, হাই পারফরম্যান্স এবং ‘এ’ দল, জাতীয় দলের ঠিক নিচে যতগুলো স্তর আছে সবগুলোতেই সাবলীলভাবে রান করেছেন নাজমুল। অথচ যখনই জাতীয় দলে সুযোগ আসে, তখনই তাঁর পারফরম্যান্সের গ্রাফটা শুধু নিচের দিকেই নামতে থাকে। টেস্ট, ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও কাল অভিষেক হয়েছে নাজমুলের। আউট হয়েছেন ১১ রানে। সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা নাজমুলের সর্বোচ্চ ইনিংসও। গত বছর এশিয়া কাপে খেলা তিন ওয়ানডের একটিতেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন অধিনায়ক, তাঁর ডেপুটি ছিলেন নাজমুল। মিরাজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্বপ্নিল অভিষেকে জাতীয় দলে জায়গাটা পাকা করে ফেললেও নাজমুলকে ধৈর্য ধরতে হলো। তবু ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে ২০১৭ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে দলের অংশ করা হয়। কিন্তু একসঙ্গে অনেক খেলোয়াড় চোট পেয়ে খেলতে না পারায় তালেগোলে সেই সফরেই টেস্টে অভিষেক হয়ে যায় তাঁর। ক্রাইস্টচার্চের সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে নাজমুল করেছিলেন ১৮, পরের ইনিংসে ১২। সর্বনাশটা হয়েছে সেখানেই, এমনটাই অভিমত দীর্ঘদিন ধরেই নাজমুলকে কাছ থেকে দেখে আসা একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেট কোচের। সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক ফারুক আহমেদও মনে করেন, অপরিণত বয়সে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিকূল পরিবেশে অভিষেকের ফলে নাজমুলের মনোজগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়েছে। যেটা জাতীয় দলে খেলার সময় তাঁকে মানসিকভাবে সুস্থির হতে দিচ্ছে না।

টেস্ট, ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও কাল অভিষেক হয়েছে নাজমুলের। আউট হয়েছেন ১১ রানে। সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা নাজমুলের সর্বোচ্চ ইনিংসও। গত বছর এশিয়া কাপে খেলা তিন ওয়ানডের একটিতেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কাঠামোর ভেতর দিয়ে জাতীয় দলে আসেন না, এমন একটা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। নাজমুলের বেলায় এই অভিযোগটা একদমই খাটে না। বরং বলা যায়, কাঠামোর প্রতিটি স্তরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন নাজমুল। স্কুল ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করে নজর কেড়েছিলেন, এরপর অনূর্ধ্ব-১৭ দল হয়ে ঢুকে পড়েন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। বয়সভিত্তিক দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন নাজমুল। এরপর ‘এ’ দল, ইমার্জিং দল, হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড; জাতীয় দলের ছায়ায় থাকা সব স্তরেই নাজমুলের ব্যাট কথা বলেছে রানের ভাষায়। শ্রীলঙ্কার ইমার্জিং দলের বিপক্ষে এক দিনের ও চার দিনের ম্যাচ মিলিয়ে সব শেষ পাঁচটি ইনিংসের রানগুলো হচ্ছে—৮৮*, ১৩৫, ২৫, ৩৯ ও ৭৭। এই জিম্বাবুয়ের তুলনায় বোলিং আক্রমণটা নেহায়েত মন্দ ছিল না শ্রীলঙ্কার উদীয়মান দলের। এই সিরিজের আগে, বিসিবি একাদশের মোড়কে ভারতের কর্ণাটকে একটি চার দিনের ম্যাচের টুর্নামেন্টেও রান করেছেন নাজমুল। যেখানে প্রতিপক্ষে ছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের রঞ্জি দল। অথচ জাতীয় দলের হয়ে ব্যাট ধরলেই কে যেন পালটে দেয় তাঁকে!

গত বছর এশিয়া কাপে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অথচ সে সময়কার কোচ স্টিভ রোডস মুগ্ধ ছিলেন নাজমুলে। বিভিন্ন পর্যায়ে রান করায় নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরও আস্থা আছে তাঁর ওপর। একবার দুইবার হলে ভাগ্যের ওপর দোষ চাপানো যেত। কিন্তু তিন ধরনের ক্রিকেটেই যখন রানখরা, তখন আর ব্যাপারটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না।

সাবেক নির্বাচক ফারুক আহমেদ অবশ্য এখনই ভরসা হারাচ্ছেন না নাজমুলের ওপর থেকে, তবে চাইছেন তাঁর প্রতিভার যেন প্রয়োগটা প্রযুক্ত হয়, ‘নাজমুল যে বলটায় আউট হলো, মনে হচ্ছিল সে আগে থেকেই সিঙ্গেল নেওয়ার কথা ভেবে রেখেছে। সে তো আসলে টি-টোয়েন্টির উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার মতো ক্রিকেটার না। তাকে বিবেচনা করতে হবে ৫০ ওভারে ও টেস্টে।’ নাজমুলকে কাছ থেকে দেখা আরেক কোচের অভিমত, ‘‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করার একটা বিষয় থাকে। এইচপিতে বা ‘এ’ দলে সে নিজে দলের নেতৃত্বে থাকে, নিজের স্বাধীনতা নিয়ে খেলে। এখানে বোধহয় সে ওরকম পরিবেশটা পাচ্ছে না।’’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা