kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

অনেক পরিবর্তনের অনেক ব্যাখ্যা

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনেক পরিবর্তনের অনেক ব্যাখ্যা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একসঙ্গে তিন-তিনটি দল গড়তে গিয়ে গলদঘর্ম নির্বাচকরা। বাংলাদেশ ‘এ’ দল যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সফরে। ভারত যাচ্ছে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলও। তবে গতকাল সকালে ত্রিদেশীয় সিরিজের পরের দুটি টি-টোয়েন্টির জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা হয়ে যেতেই নির্বাচকদের পড়তে হয়েছে ব্যাপক সমালোচনার মুখে। সেটি খুব অস্বাভাবিকও নয়। কারণ আগের দুই ম্যাচের দলে থাকা কেউ কেউ বাদ পড়েছেন না খেলেই। আবার কোথাও কিছু না করে পরের দুই ম্যাচের দলেও জায়গা করে নিয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। যা দেখে স্পষ্ট যে আগের রাতে আফগানিস্তানের কাছে হারের ধাক্কা দল গঠনে অস্থিরতাও বাড়িয়েছে।

যে অস্থিরতায় নির্বাচকদের ভাবনার জগৎও এলোমেলো হয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এঁদেরই অন্যতম সাবেক জাতীয় কোচ ও ক্রীড়া লেখক জালাল আহমেদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘মহিন্দর অমরনাথ একসময় ভারতীয় নির্বাচকদের ‘বাঞ্চ অব জোকার্স’ বলেছিলেন। কথাটি সে সময়ে গণসমর্থন পায়নি। আজকে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এ রকম বললে প্রচুর সমর্থন পাবে।’’ যদিও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তাঁদের নিয়ে সমালোচনায় যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না, ‘মানুষ যে এত সমালোচনা করছে, একে নিয়ে আসলাম, ওকে নিয়ে আসলাম। এরা তো বিসিবির পাইপলাইনেরই খেলোয়াড়। বাইরের কেউ তো নয়।’ দুই ম্যাচ পরই ঢালাও পরিবর্তনেও তাঁর ব্যাখ্যা, ‘দলে পরিবর্তন আনা হবে বলেই তো আমরা প্রথম দুই ম্যাচের জন্য দল দিয়েছিলাম, সব ম্যাচের জন্য দিইনি।’

সেই দলে পেসার ইয়াসিন আরাফাত ছিলেন। তাঁর চোটের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচের আগে বাঁহাতি পেসার আবু হায়দারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনিও না খেলেই বাদ। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে সারা দিনে আসা অসংখ্য ফোনে হয়তো সন্ধ্যায় মেজাজ বিগড়ে গিয়ে থাকবে মিনহাজুলের, ‘১৫ জন কি খেলবে নাকি? খেলবে তো ১১ জন। না খেলে বাদ মানে?’ যদিও পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলেছেন, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর পরামর্শেই বাদ দেওয়া হয়েছে হায়দারকে, ‘কোচের ভাষ্য হলো, প্র্যাকটিসে হায়দারকে দেখে খুব একটা ভালো অবস্থায় আছে বলে তাঁর মনে হয়নি।’ এইচপি দলের হয়ে ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও কোচের আগ্রহেই আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং নাজমুল হোসেন শান্তকেও দলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিনহাজুল। আমিনুল মূলত ব্যাটসম্যান হলেও গত কিছুদিন ধরে এইচপির হেড কোচ সায়মন হেলমট তাঁকে লেগ স্পিনার হিসেবে তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁকে কয়েক ঝলক দেখে নাকি ডমিঙ্গোরও ভালো লেগেছে, ‘‘হেড কোচ বলেছেন, ‘এইচপিতে একজন লেগ স্পিনার আছে। আমার ভালো লেগেছে। আমাকে একটু দেখান। স্কোয়াডে দিন।’ দূরে থাকলে তো দেখতে পারবেন না। দেখে যদি মনে হয় খেলার জন্য তৈরি আছে, তাহলে খেলানোর ব্যবস্থা করতেও পারেন।’’

২টি টেস্ট এবং ৩টি ওয়ানডে খেলে ভালো করতে না পারায় বাদ পড়া নাজমুলকে এর আগে কখনোই টি-টোয়েন্টির জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়নি। তাঁরও প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেওয়াও ডমিঙ্গোর জন্যই, ‘‘শান্তকেও কোচই চেয়েছেন। যেহেতু উনি খেলোয়াড় দেখেন না। চট্টগ্রামে তিনি দেখবেন। শান্ত সম্প্রতি ‘এ’ দলের হয়ে ভালো খেলেছে। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে খেলাতেও পারে।’’ সংগত কারণেই বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮০৭ রান করা নাঈম শেখকে। সম্প্রতি আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরিও করেছেন। আমিনুল ও নাজমুলের মতো প্রথমবারের মতো নাঈমের দলভুক্তি তাই ওই অর্থে চমক নয়, ‘জরুরি ভিত্তিতে আমরা ওপেনার হিসেবে নতুন একজন খেলোয়াড়কে দেখার চিন্তাভাবনা যেহেতু করেছি, তাই নাঈমকে নেওয়া হয়েছে।’ তাঁকে জায়গা ছেড়ে দিতে বাদ পড়া সৌম্য এবং এই সিরিজেই সুযোগ না পাওয়া অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মিনহাজুল। সেখানে যাচ্ছেন প্রথম দুই ম্যাচের দলে থাকা মেহেদী হাসানও।

এই অফ স্পিনারের না খেলেই বাদ পড়ার কারণ, ‘জরুরি ভিত্তিতে যদি ব্যাকআপ লাগে, সে জন্য মেহেদীকে রাখা হয়েছিল। কারণ দলে একই ধরনের তিনজন স্পিনার আছে। মাহমুদ উল্লাহ, মোসাদ্দেক ও আফিফ।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দলে তিনজন পেসার রাখা হলেও খেলেননি একজনও। আর প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে একই ধরনের তিনজন স্পিনার থাকার পরেও ব্যাকআপ! না খেলে মেহেদী বাদ পড়লেও মাঝখানে কোথাও টি-টোয়েন্টি না খেলেই ফিরেছেন দুই পেসার শফিউল ইসলাম ও রুবেল হোসেন। প্রথমজন ২০১৭ সালের অক্টোবরে শেষবার টি-টোয়েন্টি খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। পরেরজন শেষ খেলেছেন গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে। হঠাৎ করে এঁদের প্রয়োজন পড়ার কারণ, ‘ফাস্ট বোলার দরকার হয়েছে, তাই নিয়েছি। তা ছাড়া চট্টগ্রামে উইকেটও ভিন্ন।’ আফগানিস্তানের কাছে হারের ধাক্কায় দেখা যাচ্ছে নির্বাচকদের ভাবনার জগৎও অন্যদিকে ঘুরে গেছে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা