kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

নবি ঝড়ের আগে সাকিব-সাইফ উদ্দিন

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নবি ঝড়ের আগে সাকিব-সাইফ উদ্দিন

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তছনছ হওয়ার আগে বাগান বেশ সাজিয়েছিলেন তাঁরা দুজন। আগের ম্যাচেই নিজের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং করা সাকিব আল হাসান এবার ঘুরে দাঁড়ালেন। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পাশাপাশি শিকার ধরায়ও সমান কার্যকর অধিনায়কের সঙ্গে বাগান সাজানোর সুদক্ষ ‘মালি’ হয়ে গেলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও। দুজনে মিলে সেই বাগান যখন প্রায় সাজিয়েই ফেলেছেন, তখনই সেটি তছনছ করতে শুরু করে দিলেন মোহাম্মদ নবি। এবং শেষ পর্যন্ত করেও ছাড়লেন।

আগের দিন জিম্বাবুয়ের বোলারদের তুলাধোনা করেছেন এই আফগান অলরাউন্ডার। ১৮ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পথে মেরেছিলেন টানা চার ছক্কাও। তাঁর ব্যাটে ছক্কার সেই ঝড় কাল বেগবান হলো আরো। তাতেই সাকিব আর সাইফ উদ্দিনের বোলিং আফগানদের গলার ফাঁস হয়ে উঠলেও সেটি আলগা হতে সময় লাগল না। ১২১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর রশিদ খানের দল শেষ ২০ বলে তুলেছে ৪৩ রান। যার ৩৬ রানই এসেছে নবির ব্যাট থেকে। তাও মাত্র ১৪ বলে। এর মধ্যে চারটি বিশাল ছক্কার সঙ্গে ছিল দুটি বাউন্ডারির মারও।

এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের উজ্জ্বল আলোয়ও সাকিব আর সাইফ উদ্দিনকে ম্লান দেখাতে বাধ্য। বৈচিত্র্যময় আফগান বোলিং আক্রমণ বিবেচনায় তাদের সাধ্যের মধ্যে আটকে রাখার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেও যে সেটি করা যায়নি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ওই রানটাও যথেষ্ট বলে প্রমাণিতও হয়েছে। মুজিব উর রহমান-রশিদ খানদের বোলিং তোপে ১৩৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ২৫ রানে হেরেছে সাকিব আল হাসানের দল।  শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান কিছুটা লাগাম না পরালে আফগানদের সংগ্রহ নিশ্চিতভাবেই আরো বড় হয়। ‘কাটার মাস্টার’ দেন মাত্র ৩ রান। যদিও আগের দুই ওভারে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সর্বনাশ যা করার করে দেন নবি।

মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পাশাপাশি শিকার ধরায়ও সমান কার্যকর অধিনায়কের সঙ্গে বাগান সাজানোর সুদক্ষ ‘মালি’ হয়ে গেলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও। দুজনে মিলে সেই বাগান যখন প্রায় সাজিয়েই ফেলেছেন, তখনই সেটি তছনছ করতে শুরু করে দিলেন মোহাম্মদ নবি। এবং শেষ পর্যন্ত করেও ছাড়লেন।

সৌম্য সরকারের করা ইনিংসের ১৮তম ওভার থেকে আসে ২২ রান। সাইফ উদ্দিনের করা পরের ওভার থেকে আসে আরো ১৭ রান। ওই দুই ওভারের ঝড়েই ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলার সম্ভাবনা জাগান নবি। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ৮৯ রানের ইনিংসই তাঁর ক্যারিয়ার সেরা। শেষ ওভারে মুস্তাফিজের আঁটসাঁট বোলিংয়ে তা পেরিয়ে যেতে না পারলেও ৫৪ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকা নবি আফগানদের পৌঁছে দেন ৬ উইকেটেই ১৬৪ রানে।

নবির ব্যাটে বেদম মার খাওয়ার আগ পর্যন্ত অবশ্য সাইফ উদ্দিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং আরো উজ্জ্বল হওয়ার অপেক্ষায়ই ছিল। এর আগে ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়াই ছিল এই পেসারের সেরা বোলিং। কাল প্রথম ৩ ওভারেই মাত্র ১৬ রান খরচায় নিয়ে নেন ৪ উইকেট। ইলিয়াস সানী, মুস্তাফিজ ও সাকিবের পরে চতুর্থ বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচে ৫ উইকেট পান কি না, সাইফ উদ্দিনের শেষ ওভার শুরুর সময় ছিল সেই কৌতূহলও। যা অমূলকও ছিল না। ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করে ফেরান।

দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে মারকুটে নাজীব তারাকাইও তাঁর শিকার। নিজের তৃতীয় ওভারে চার বলের মধ্যে ফেরান নবির মতোই বিধ্বংসী হয়ে উঠতে থাকা আসগর আফগান ও গুলবাদিন নাইবকে। আগের ম্যাচে মার খাওয়া অধিনায়কও এদিন সাইফ উদ্দিনকে নিয়ে শিকারযজ্ঞে যোগ দেন শুরু থেকেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সাকিবের এক ওভার থেকেই রায়ান বার্ল তুলে নেন ৩০ রান। সাকিবের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভারও। ওই ওভারে তিনটি করে ছক্কা ও বাউন্ডারি হাকান বার্ল। আগের ৩ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিলেও ৪ ওভার শেষে তাই সাকিবের বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় : ৪-০-৪৯-০।

আগের ম্যাচের তুলনায় কালকেরটা দেখুন : ৪-১-১৮-২! সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে বোলিং ওপেন করতে গিয়ে চতুর্থ বলেই তুলে নেন উইকেট। তাঁর শিকার হজরতউল্লাহ জাজাই। আগের দিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিধ্বংসী ইনিংস খেলা নজিবউল্লাহ জাদরানকেও (৫) অল্পতেই সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাঝে আবার একটি মেডেন ওভারও দেন তিনি। তাঁর এমন মিতব্যয়ী বোলিংয়ের সঙ্গে সাউফ উদ্দিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং যোগ হয়ে বাগান প্রায় সাজতেই চলেছিল বাংলাদেশের।

যেটি একদম তছনছ করে দেন নবি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা