kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লক্ষ্যে স্থির আছে তীর

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্যে স্থির আছে তীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘গো ফর গোল্ড’। সেই সোনার খোঁজ যেখানে-সেখানে নয়, তাঁরা করছেন অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের মতো আসরে! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এতটা উচ্চাশা নিয়ে লক্ষ্য স্থির করা হয়নি আর কোনো খেলায়। যেটা হয়েছে আর্চারিতে। আর সে সাহসটা দেখিয়েছে সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ড ‘তীর’। বছর দেড়েক আগে তারাই শুরু করে ‘তীর গো ফর গোল্ড’ প্রগ্রামটা। তখন বাড়াবাড়িই শুনিয়েছিল অলিম্পিক, এশিয়ান সোনা জেতার জন্য ছোটার এই ঘোষণা। কী আশ্চর্য, বছর ঘুরতেই রোমান সানা দেখিয়ে দিলেন বড় আশা নিরাশ করে না সব সময়।

বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্য অর্জন করে সেই সোনার স্বপ্নেই যে রং মাখিয়ে দিয়েছেন এই তীরন্দাজ। গো ফর গোল্ড প্রগ্রামটা পাঁচ বছরের। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক ছাড়িয়ে ২০২২ এশিয়ান গেমস পর্যন্ত। আর্চারদের মানোন্নয়নের জন্য প্রথম বছরেই এক কোটি ৮০ লাখ টাকা দিয়েছিল সিটি গ্রুপ। সেই বছর শেষেই রোমানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ব্রোঞ্জ আর অলিম্পিক টিকিটের পর পরশু ফিলিপাইন থেকে এলো এশিয়া কাপ সোনা জয়ের খবর।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আর্চারির যাত্রাই শুরু হয় ২০০৩ সালে। ২০০৯ সালে তারা প্রথম আন্তর্জাতিক পদক পায়। এর পর থেকে সাফল্যের ট্র্যাক থেকে পথ হারিয়ে ফেলেনি আর্চারি। ২০০৯-এই জুনিয়র এশিয়ান আর্চারিতে সোনা জিতে যুব অলিম্পিকেরও টিকিট পেয়েছিলেন ইমদাদুল হক, জুনিয়রদের বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে উঠে গিয়েছিলেন সেরাদের কাতারে। রোমানই ২০১৪ সালে জেতেন প্রথম আন্তর্জাতিক সোনা থাইল্যান্ডে হওয়া এশিয়ান গ্রাঁপিতে। এর পর থেকে নিজেকে শুধু এগিয়েই নিয়েছেন এই আর্চার। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তীরের সঙ্গে ‘গো ফর গোল্ড’ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যেন গতি পায় তাঁর অগ্রযাত্রা। এরই মধ্যে ঢাকায় আসেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। তাঁর সঙ্গে কাজ করাটা এতটাই লোভনীয় ছিল যে অলিম্পিকের বৃত্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের প্রশিক্ষণের সুযোগও তিনি পুরোপুরি গ্রহণ করেননি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এতটা উচ্চাশা নিয়ে লক্ষ্য স্থির করা হয়নি আর কোনো খেলায়। যেটা হয়েছে আর্চারিতে। আর সে সাহসটা দেখিয়েছে সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ড ‘তীর’। বছর দেড়েক আগে তারাই শুরু করে ‘তীর গো ফর গোল্ড’ প্রগ্রামটা। তখন বাড়াবাড়িই শুনিয়েছিল অলিম্পিক, এশিয়ান সোনা জেতার জন্য ছোটার এই ঘোষণা। কী আশ্চর্য, বছর ঘুরতেই রোমান সানা দেখিয়ে দিলেন বড় আশা নিরাশ করে না সব সময়।

টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে আর্চাররা নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন করতেন আগে থেকেই। তীরের সঙ্গে চুক্তির পর সেই আর্চারি সেন্টার রূপ পায় একাডেমির। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয় সেখানে। ফ্রেডরিকের অধীনে আর্চারদের শুরু হয় নবযাত্রা। যার পুরোভাগে থাকেন রোমান। এ বছরের এপ্রিলেই আর্চারি বিশ্বকাপে প্রথম সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ, রোমানের পাশাপাশিই দারুণ পারফরম্যান্স দেখান তামিমুল ইসলাম ও আব্দুল হাকিম। হারান তাঁরা ভারত, নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে। এর পরপরই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অলিম্পিক পদকজয়ী আর্চারকে হারিয়ে রোমানের একক ব্রোঞ্জ, টোকিও অলিম্পিকের টিকিট। সেই ধারাবাহিকতা রেখেই এশিয়ান আর্চারিতে এসেছে সোনা। সেই তামিম, হাকিম এখানেও রোমানের সঙ্গে মিলে লড়ে সোনার লড়াই, শেষ পর্যন্ত দলগততে অবশ্য রুপা জেতে বাংলাদেশ। জুনিয়র এই দুই আর্চার কিছুদিন আগে বিশ্ব যুব আর্চারিতেও ভারতকে হারিয়ে খেলে কোয়ার্টার ফাইনাল। ‘এই মুহূর্তে রোমানের সমমানের কেউ নেই’—ফ্রেডরিক এমনটা বললেও পরপরই ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাঁর চোখ, ‘এই মুহূর্তে নেই বটে। কিন্তু আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা রোমান মানেরই আরো কিছু আর্চার পেয়ে যাব—এই বিশ্বাস আমার আছে। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি।’

আর্চারি সেন্টারে এই মুহূর্তে জাতীয় দলের ক্যাম্পের ২৬ জন ছাড়াও নিয়মিত প্রশিক্ষণে আছেন আরো ১৫ জন জুনিয়র আর্চার। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ অবশ্য জানিয়েছেন সব মিলিয়ে ১০০ জন তরুণ আর্চার তাঁদের নজরদারিতে আছেন, ‘টঙ্গীর আর্চারি সেন্টার ছাড়াও নড়াইলে আমি নিজের উদ্যোগে একাডেমি করেছি। ফরিদপুর ডিএফএর সহযোগিতায় একটা একাডেমি চলছে। আর এদিকে বিকেএসপি তো আছেই। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে ১০০ জনের একটা জুনিয়র গ্রুপ আছে। যারা আগামীতে রোমানের মতো এমন আরো অনেক সাফল্য উপহার দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’

রোমান সানার অগ্রযাত্রা সে বিশ্বাসে আস্থাও বাড়াচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা