kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

সেই ঘাটতি কি মিটবে আফিফের ব্যাটে?

নোমান মোহাম্মদ    

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সেই ঘাটতি কি মিটবে আফিফের ব্যাটে?

একটি মাত্র ইনিংস খেলেই মাশরাফি বিন মর্তুজাকে পেরিয়ে গেলেন আফিফ হোসেন! মিলিয়ে দিলেন ২০০৬ ও ২০১৯। হাইফেন হয়ে গেলেন বাংলাদেশ প্রথম ও সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের।

কিভাবে?

২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ; খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আট নম্বরে নেমে দুটি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ৩৬ রানের ইনিংস মাশরাফির। পরে বোলিংয়েও ১ উইকেট পান, কিন্তু দলের জয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন মূলত ব্যাটিং ঝড়ের কারণেই। কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে এত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের আট নম্বর ব্যাটসম্যানের সেটিই সর্বোচ্চ ইনিংস। পরশু দেশের ৮৬ নম্বর টি-টোয়েন্টিতে তা পেরিয়ে যান আফিফ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৬ বলে ৫২ রানের সাহসী সুন্দর ইনিংসের কারণে। আর মাশরাফির মতো ম্যাচসেরার পুরস্কারও তো ওঠে তাঁর হাতে!

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লোয়ার মিডল অর্ডারের ধাঁধার উত্তর কি মেলার প্রতিশ্রুতি নেই তাতে?

এ কথা ঠিক যে আফিফ ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান নন। বরং সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে প্রস্তুত করছেন পুরোদস্তুর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে। আফগানিস্তান ‘এ’, শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল এবং সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের হয়ে ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচের মধ্যে বেশির ভাগ সময় ব্যাটিং করেছেন পাঁচে; বারকয়েক ছয় নম্বরে। এসব জায়গায় পারফরম করেই জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন আফিফের। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আন-অফিশিয়াল টেস্টের তিন ইনিংসে ১০৬ রান; পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুই ফিফটিতে ৪৬.৫ গড়ে ১৮৬ রান; ইমার্জিং দলের জার্সিতে তিন ওয়ানডেতে ১৯, ১৮, ৬৮* এবং বড় দৈর্ঘ্যের দুই ম্যাচে দুই ইনিংস খেলার সুযোগ পেয়ে ৫৪ ও অপরাজিত ১০০।

এ সবই পাঁচ-ছয় নম্বরে খেলে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন, সেটি চার নম্বরে। কিন্তু পরশু আট নম্বরে ওই খুনে ইনিংস খেলার পর আফিফের ব্যাটিং অর্ডারের ওপরের দিকে ওঠার দাবি উঠবে নিশ্চিতভাবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টেই যেমন আট নম্বরে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত ৪৮ রান করার পুরস্কারে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন তিন নম্বরে। যদি ওই ‘লোভ’ সামলে ছয়-সাত-আটের এই লোয়ার মিডল অর্ডারে আফিফকে খেলায় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট, তাহলে এ ফরম্যাটে ইনিংসের শেষ দিকের ঝড়ের সম্ভাবনা বাড়বে বৈকি!

টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেই যেটি খুব একটা দেখা যায়নি বাংলাদেশের বেলায়। এই ফরম্যাটে ভালো করার জন্য যা আমদানির বিকল্প নেই বাংলাদেশের খেলায়।

২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড (৫০*) ও নিউজিল্যান্ডের (৫০) বিপক্ষে। আর ৪৫ ইনিংস খেলে মাহমুদ উল্লাহর দুটি; ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ে (৫৪) ও ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের (৫২) বিপক্ষে। এখানে পরশু নতুন নাম যোগ হয়েছে আফিফ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল থেকে ভারতের হার্দিক পাণ্ডে—লোয়ার মিডল অর্ডারে খুনে ব্যাটিংয়ে পাল্টে দিয়েছেন কত ম্যাচের রং! দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে এখানটায় বাংলাদেশের হাপিত্যেশ চিরকালীন। আগের ৮৫ টি-টোয়েন্টিতে ছয় থেকে আট নম্বরে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং করেছেন ৩৩ জন। তাঁদের সম্মিলিত ২১৪ ইনিংসের মধ্যে ফিফটি মাত্র চারটি। ১৮ ইনিংস খেলে নাসির হোসেনের দুটি; ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড (৫০*) ও নিউজিল্যান্ডের (৫০) বিপক্ষে। আর ৪৫ ইনিংস খেলে মাহমুদ উল্লাহর দুটি; ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ে (৫৪) ও ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের (৫২) বিপক্ষে। এখানে পরশু নতুন নাম যোগ হয়েছে আফিফ।

ফরম্যাটের চাহিদায় এ সময় ব্যাটে বিস্ফোরণের দাবি। সে দাবিও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সেভাবে মেটাতে পারেননি কখনো। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ধরলে সাড়ে তিন বছরে এ ফরম্যাটে ২৪ ম্যাচ খেলেছে দল। ব্যাটিং অর্ডারের ছয় থেকে আট নম্বরে অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন, এমন ব্যাটসম্যানের সংখ্যা পাঁচ। তাঁদের কারো স্ট্রাইক রেটই চাহিদার সঙ্গে মানানসই নয়। এ পজিশনগুলোয় সবচেয়ে বেশি ১৫ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ৩৮৮ রান মাহমুদ উল্লাহর। স্ট্রাইক রেট যদিও আহামরি না—১৩১.৫২। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আফিফের পাশাপাশি ব্যাটিং বীরত্ব যাঁর, সেই মোসাদ্দেক হোসেন দিন দুয়েক আগের ২৪ বলে অপরাজিত ৩০ রানে সামগ্রিক স্ট্রাইক রেট বাড়িয়েছেন কিছুটা। তবু পাঁচ থেকে আট নম্বরে খেলা সাত টি-টোয়েন্টিতে তা ১০১.৮৩। এসব পজিশনে ৯টি করে ম্যাচ খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও আরিফুল হক। তাতে প্রথমজনের স্ট্রাইক রেট ১২৩.৭২ এবং পরেরজনের ৯৬.৭২। এখানে যাঁর ব্যাটে বারুদ লুকিয়ে বলে অনেকের বিশ্বাস, সেই সাব্বির রহমানের ব্যাট বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বারবার। এ পজিশনগুলোয় ছয় ইনিংসে তাঁর রান মাত্র ৭৩; সর্বোচ্চ ৩০। এবং সবচেয়ে বড় কথা স্ট্রাইক রেট ১০৫.৭৯।

এখানেই আফিফে আশা। এখানটাতেই আফিফে ভরসা। তাঁর ডাকনাম তো ধ্রুব। আকাশের ধ্রুবতারা ততটা আলো ছড়ায় না, যতটা পথ দেখায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ধ্রুবর কাছে কিন্তু আশার যুগলবন্দি। তিনি আলো ছড়াবেন, টি-টোয়েন্টির লোয়ার মিডল অর্ডারে পথও দেখাবেন। এক ইনিংসেই প্রত্যাশার কত রং খেলা করছে এখন আফিফের আকাশে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা