kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

টি-টোয়েন্টি বলেই আশঙ্কার মেঘ

নোমান মোহাম্মদ   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টি-টোয়েন্টি বলেই আশঙ্কার মেঘ

ছবি : মীর ফরিদ

পঞ্জিকার হিসাবে মধুপূর্ণিমা আজ। চাঁদের আলোয় চরাচর ভেসে যাওয়ার নিশ্চয়তা তবু কোথায়! থমথম আকাশে মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেওয়ার সাহসই হয়তো হবে না ওই রুপালি নক্ষত্রের।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে পূর্ণিমার উপলক্ষ চলে গেছে তা-ও বহুদিন। মেঘের পরে মেঘ জমছে; কেবলই জমছে। স্বপ্নভঙ্গের বিশ্বকাপ, দুঃস্বপ্নের শ্রীলঙ্কা সফরের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুঃসহ টেস্ট হার। আজ থেকে শুরু ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আবহ তাই থমথমে। আর এই ফরম্যাটে মেঘ ঠেলে চাঁদ খুঁজে বের করাও বড্ড দুরূহ বাংলাদেশের জন্য।

বছরখানেক পর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে সে চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার বিকল্প নেই যদিও!

তিন ফরম্যাটের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে খারাপ কোনটিতে? টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির মধ্যে হবে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে; আফগানিস্তানেরও পরে। এ ফরম্যাটে ২০১৬ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ মোট ম্যাচ খেলেছে ২৩টি। এর মধ্যে হার ১৭টিতে। ৬ জয়ের তিনটি করে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা তো বটেই, এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষেও এ সময় তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের খেলা। এখানেই বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা। ২০১৬ বিশ্বকাপের পর থেকে খেলা ২৩ ম্যাচে চার শর ওপর রান মাত্র চার ব্যাটসম্যানের—মাহমুদ উল্লাহ (৫৬৫), মুশফিকুর রহিম (৪৩৫), সৌম্য সরকার (৪১৯) ও তামিম ইকবালের (৪০২)। ধুকপুকানি আরো স্পষ্ট হবে, স্ট্রাইক রেটের রেকর্ডে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পতিত নক্ষত্র মোহাম্মদ আশরাফুলের ২৩ টি-টোয়েন্টি খেলে যে ১২৬.৪০ স্ট্রাইক রেট, সেটি সাকিব (১২২.৯৯), সৌম্য (১২২.৯৪), সাব্বির (১২২.৫৯), মাহমুদ উল্লাহ (১২২.১৬), মুশফিক (১১৯.১৬), তামিম (১১৭.১৬)—সবার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেটের চেয়ে বেশি এখনো। অথচ এখানকার সিনিয়র চারজনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার ৭০ ম্যাচের ওপরে; সৌম্য-সাব্বিরেরও ৪০ ম্যাচের ওপরে। বাংলাদেশের হালফিলের সেটআপে এ সময়ে একমাত্র লিটন দাসের স্ট্রাইক রেটই শুধু উল্লেখ করার মতো। ১৮ ম্যাচ খেলে তা ১৪০.১৪।

আসুন সাম্প্রতিক সময়ে। সেখানেও লিটন ছাড়া অন্য কারো স্ট্রাইক রেট গর্ব করার মতো না। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ১৫ ম্যাচ খেলে লিটনের স্ট্রাইক রেট ১৪৬.১৫। এ ছাড়া আগের যে ছয়জনের উল্লেখ, তাঁদের অবস্থা তথৈবচ। এ সময়ে ২০ ম্যাচ খেলে মুশফিকের স্ট্রাইক রেট ১৩২.৬২, সৌম্যর ২২ ম্যাচে ১৩২.১৭, মাহমুদ উল্লাহর ২৩ ম্যাচে ১৩১.০৯, সাব্বিরের ১৫ ম্যাচে ১২৭.৪২, তামিমের ১৯ ম্যাচে ১২৫.২৩ এবং সাকিবের ১৮ ম্যাচে ১২৪.৭৪। মূল ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট এমন হলে দলীয় স্কোর দেড় শ হওয়াই মুশকিল। তা দিয়ে এ জমানার টি-টোয়েন্টি জেতা সম্ভব?

এ ফরম্যাটে বাংলাদেশের উন্নতির পথে বড় অন্তরায় কম ম্যাচ খেলা। ২০১৬ বিশ্বকাপের পর ভারত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ৪৫টি। বাংলাদেশ এর প্রায় অর্ধেক ২৩টি। পাকিস্তান (৩৭), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩৬), শ্রীলঙ্কা (৩২), অস্ট্রেলিয়া (২৯), নিউজিল্যান্ড (২৭), এমনকি আফগানিস্তান (২৪) পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। আগামী বছর অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অবশ্য এই ফরম্যাটে অনেক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আজ থেকে শুরু হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে অন্তত চারটি, ফাইনাল খেললে পাঁচটি; এরপর ভারতের বিপক্ষে তিনটি, পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচটি, এশিয়া একাদশ-বিশ্ব একাদশের মোড়কে দুটি, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ। আর গতবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠা পর্যন্ত খেলে ছয়টি ম্যাচ। আগামী বছরের টুর্নামেন্টেও তাহলে সাকল্যে বিশ্বকাপের আগে ৩০টির মতো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

গত বিশ্বকাপের পর সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশ কুড়ি-বিশের যতটি ম্যাচ খেলেছে, সামনের এক বছরেই তার চেয়ে সাতটি ম্যাচ বেশি খেলার সম্ভাবনা। রান-স্ট্রাইক রেট তথা জয়ের রেকর্ড সমৃদ্ধ করতে না পারলে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ তাই থাকবে না। না পারলে বরং আজকের এমন ভরা পূর্ণিমা রাতও বাংলাদেশের জন্য হবে মরা অমাবস্যা রজনী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা