kalerkantho

রেফারিকে দুষছেন জেমি ডে

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেফারিকে দুষছেন জেমি ডে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই পরাজয় কি বাংলাদেশের খুব প্রাপ্য ছিল? শক্তির বিচারে হয়তো ছিল, তবে মাঠের খেলায় একটু অবিচারের গন্ধ শুঁকছেন বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে, ‘শেষ মুহূর্তে একটি পেনাল্টি আমাদের পাওনা ছিল, পেছন থেকে জীবনের (নাবিব নেওয়াজ) গোড়ালিতে মেরেছে। শতভাগ পেনাল্টি। রেফারি দেননি, অন্য দিন অন্য ম্যাচে এই ফাউলে রেফারি পেনাল্টিই দেবেন !’

চীনা রেফারির বেসুরো বাঁশিতেই উড়ে গেছে লাল-সবুজের পয়েন্টের স্বপ্ন। তখন ইনজুরি টাইমের খেলা, ম্যাচ শেষ হতে বাকি মিনিটখানেক। ইয়াসিনের এক ব্যাক-হিলে বল আফগান পোস্টের সামনে দাঁড়ানো নাবিব নেওয়াজের পায়ে। গোললাইন থেকে মাত্র দুই পা দূরে দাঁড়িয়ে তিনি ভুল করেন ‘ফার্স্ট টাইম’ ফিনিশ না করে। এরপর পেছন থেকে আফগান ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে ভূপাতিত নাবিব, আর এর সঙ্গেই ঠিক হয়ে যায় লাল-সবুজের হারের নিয়তি। রেফারি পেনাল্টির দাবি নাকচ করে দিতেই হাঁপ ছেড়ে বাঁচে আফগানরা।  

শুধু এই একটা মুহূর্তে আফগানদের অন্তরাত্না কেঁপে উঠেছিল ভয়ে। ‘ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি’ থাকলে তো বটেই কিংবা রেফারি চাইলেই পেনাল্টি দিতে পারতেন। এসব কিছুই হয়নি, তাই আগের ম্যাচে কাতারে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান দ্বিতীয় ম্যাচে ১-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে খোলে পয়েন্টের খাতা।

ওই মুহূর্তটির আগে মাঠে তারাই খেলেছে, আক্রমণে উঠেছে, পোস্টে শট করেছে, আর ঠেকিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এভাবে রক্ষণাত্মক খেলাটাই ছিল আসলে জেমির ছক। কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে এর চেয়ে ভালো উপায় তিনি বের করতে পারেননি। ম্যাচ শেষেও নিজের কৌশলকে সঠিক মানছেন, ‘আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লিগ খেলে। তারা গুনে-মানে এগিয়ে। ম্যাচে তাদের দাপট থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এমন দলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ও কাউন্টারে খেলা ছাড়া উপায় ছিল না। এই কৌশলে আমাদের খেলোয়াড়রা খুব ভালো খেলেছে।’ আফগানরা গুনে-মানে এগিয়ে ঠিক, তবে সেটা কি এতটাই যে তাদের শুরু থেকে পুরো মাঠ ছেড়ে দিয়ে সবাই গিয়ে রক্ষণ পাহারা দেবে? ওপরে নাবিব ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠ থেকে সামনে খেলার চেষ্টা করেননি, বরং জামাল ভূঁইয়া-সোহেল রানারা প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠ ছেড়ে নেমে গেছেন রক্ষণে। তাতে করে নির্ভয়ে আফগানরা হানা দিয়েছে বাংলাদেশ রক্ষণে। কখনো ছোট পাসে, কখনো বা লং বলে খেলেছে। তবে ছোট পাসে খেলে ভাঙতে পারেনি ইয়াসিন-বাদশা-রহমতদের রক্ষণব্যূহ। প্রতিপক্ষের চাপে কখনো দিশাহারা হয়ে যায়নি বাংলাদেশ রক্ষণ।

শেষ মুহূর্তে একটি পেনাল্টি আমাদের পাওনা ছিল, পেছন থেকে জীবনের (নাবিব নেওয়াজ) গোড়ালিতে মেরেছে। শতভাগ পেনাল্টি। রেফারি দেননি, অন্য দিন অন্য ম্যাচে এই ফাউলে রেফারি পেনাল্টিই দেবেন

যা পরীক্ষা দিতে হয়েছে ওই দূরের শটে। দু-একবার সে রকম চেষ্টাতেও পরাস্ত করতে পারেনি গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে। কিন্তু ২৭ মিনিটে আর রেহাই মেলেনি বাংলাদেশের। সেটি অনেক দূর থেকে নেওয়া এক ফ্রি-কিক, দূরের পোস্টে ফারশাদ নূর দুই ডিফেন্ডারের মাঝে দাঁড়িয়ে হেড করেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রানা সেই হেডে হাত লাগিয়েও পারেননি শেষ রক্ষা করতে। গোলটা যেন হতোই, টানা কতক্ষণ আর রক্ষণ আগলে রাখা যায়। রক্ষণের পাশাপাশি ভালো কাউন্টার অ্যাটাক হলে চাপ কিছু কমত। পাল্টা-আক্রমণের সূত্রধর হতে পারতেন সাদউদ্দিন আর বিপলু। কিন্তু দু-একবার এগোতে গিয়ে ফিরেছেন প্রতিপক্ষের পায়ে বল জমা করে। ফারোয়ার্ডের খেলোয়াড় হলেও তাঁদের মাথায় যে রক্ষণের প্রগ্রামিং করা হয়েছে!

বিরতিতে যখন অন্য প্রগ্রাম দেওয়া হয়েছে তখন আবার ভিন্ন মেজাজে এই দল। এতক্ষণ যাঁরা রক্ষণ করেছেন, তাঁরা কী সুন্দর ফরোয়ার্ড পাস খেলেছেন। মাঝমাঠ সংগঠিত করে পাসিং ফুটবল খেলেছেন। আক্রমণগুলো বারবার আফগান রক্ষণে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছে, এর পরও তাঁদের শরীরী ভাষায় দেখা গেছে গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা। এ সময় বোঝা গেছে, আফগানদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের ফুটবল মানের তফাত আকাশ-পাতাল নয়। শুরু থেকে আফগানভীতি অত প্রকট না হলেও হতো। আগের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলে হারা এই দলের বিপক্ষে আরেকটু ইতিবাচক খেললে ফল অন্য রকম হলেও হতে পারত। বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে অবশ্য তা মনে করেন না, ‘আমাদের কোনো ভয় ছিল না, স্রেফ কৌশল অনুযায়ী খেলেছে ছেলেরা। সেরাটা দিয়ে তারা চেষ্টা করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ফিটনেসের সমস্যাটা একটু চোখে পড়লেও তারা লিড ধরে রাখার জন্য রক্ষণ জমাট করে খেলেছে। তখনই কোয়ালিটির দরকার পড়ে, সুযোগও আমরা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু রেফারি অন্য রকম ভেবেছে বলেই ...।’

চীনা রেফারির ওই সিদ্ধান্তই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে আফগানিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচে!

মন্তব্য