kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফুটবলেও আজ প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাকতালীয়ভাবে ক্রিকেটের পর আজ ফুটবলে আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ। আফগান ক্রিকেটের অভাবিত দাপটে দেশের ক্রিকেট কৌলীন্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফুটবলের ভাগ্যে যে কী অপেক্ষা করছে! দক্ষিণের সীমানা ছাড়িয়ে এখন মধ্য এশিয়াতেও আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠিত ফুটবল শক্তি। তাই দুশানবেতে আজ রাত ৮টায় বাংলাদেশ আফগানদের মুখোমুখি হচ্ছে হার এড়ানোর সরলীকৃত লক্ষ্য নিয়ে।

কদিন ধরে আফগান রোলার কোস্টারে চেপেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত দলটি বাংলাদেশের ক্রিকেট যৌবনকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেবে, এটা অকল্পনীয়। প্রতিটি সেশনে আফগানদের প্রাধান্য বিস্তার করাটা বিস্ময়করই। মাঠেই ঘটে এমন বিস্ময়কর ঘটনা। সেখানে শক্তির ব্যবধানে যেমন আগাম ফেভারিট বলার রেওয়াজ আছে, তেমনি অনেক সময় শক্তিকে লঘু করে গর্জে ওঠে আন্ডারডগরা। ফুটবলের বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলবে আন্ডারডগ হয়ে। গ্রুপে কাতার, ওমান, ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের ভাবনা উঁকিও দিচ্ছে না। জেমি ডে-ও সামর্থ্য বুঝেই আন্ডারডগ বলছেন নিজের দলকে। তাই বলে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ হাত-পা ছেড়ে দিয়ে আগেভাগে বড় প্রতিপক্ষের হাতে ম্যাচ তুলে দিতে রাজি নন, ‘হারব ভেবে খেললে তো আর খেলা হলো না। ৯০ মিনিটে কিছু সুযোগ তো পাওয়া যাবে, যদি আমরা কৌশল মেনে খেলি। রক্ষণ সংগঠন ভালো রাখতে হবে আমাদের। আফগানিস্তানের কয়েকজন ভালো মিডফিল্ডার আছে, তাই মধ্যমাঠেও আমাদের অর্গানাইজেশন ঠিকঠাক রেখে খেলতে হবে। এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা তৈরি।’ বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ফর্মুলা ওই একই—নিশ্ছিদ্র রক্ষণ সাজিয়ে কাউন্টারে খেলা।

ইতিহাসে চোখ রাখলে আফগানিস্তান ফুটবল কখনো সেই মানের মহীরুহ মনে হবে না। ঢাকার মাঠে ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তাদের ৪-১ গোলে হারানোর রেকর্ড আছে লাল-সবুজের। ওই সময় ফুলে-ফলে পল্লবিত এ দেশের ফুটবলের সামনে আফগানিস্তান ছিল মামুলি প্রতিপক্ষ। এরপর যুদ্ধের কারণে তাদের ফুটবল যায় নির্বাসনে আর এখানকার ফুটবলে ধরে ক্ষয়রোগ। এই শতাব্দীর শুরুতে তারা আবার ফুটবলে ফেরে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খেলা প্রবাসী আফগানদের নিয়েই দল গড়ে। দেশের একটা ভৌগোলিক সীমা থাকলেও এটা আসলে আফগান প্রবাসী ফুটবল দল। সেই দল নতুন শতাব্দীতে টানা তিন ম্যাচ ড্র করার পর ২০১৫ সালের সাফে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।

সেই ভয়েই চলছে এখনো। র‍্যাংকিংয়েও তারা এগিয়ে গেছে। ভয়ের আরেকটি কারণ হলো আফগানরা সাফের বৃত্ত ভেঙে যোগ দিয়েছে মধ্য এশিয়ার ফুটবলে। সাফের দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটাকে এখন হয়তো সময়ের অপচয় বলেই মনে করছে তারা! বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই একমাত্র জয়ের ম্যাচে খেলা আনোশ দস্তগীর এখন আফগানিস্তান দলের কোচ। কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলে হারা এই আফগান কোচ বলছেন, ‘একটিমাত্র ম্যাচই আমরা জিতেছি বাংলাদেশের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে আমিও খেলেছি। বাংলাদেশের ফুটবল ও তাদের লিগ সম্পর্কে জানি, এটা হবে ভিন্ন ম্যাচ।’ এদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও ভাবছেন ভিন্নভাবে, ‘আফগানিস্তান ভালো দল। তবে এই ম্যাচের জন্য আমরা মুখিয়ে আছি, কারণ আমাদেরও পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ আছে।’ অসম্ভব নয়। খেলার মাঠে তো কাগুজে অঙ্কে গরমিল হয় প্রায়ই!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা