kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অভিনন্দন

আফগান রূপকথার নেপথ্যে...

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগান রূপকথার নেপথ্যে...

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : টেস্টের তৃতীয় দিনে চট্টগ্রামে আফগানিস্তান দলের ঠিকানা র্যাডিসন হোটেলে এসে ঢুকলেন আরো এক ঝাঁক ক্রিকেটার। সংখ্যাটা কম নয়, ১৪ জন! ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে একটু আগেভাগেই বাংলাদেশে চলে এসেছেন ১৭ জনের স্কোয়াডের এই সদস্যরা। আর তাঁদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে টেস্ট শেষে চলে যাচ্ছেন ১৫ জনের দলের ১২ জনই!

দুই ফরম্যাটের জন্য একেবারেই আলাদা দল গড়ে আফগানরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য রীতিমতো আটঘাট বেঁধেই নেমে পড়েছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে উপযোগিতার কারণে তাদের টেস্ট সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তা এরই মধ্যে তিন টেস্টের দুটিতে জিতে ভুল প্রমাণ করেছে রশিদ খানের দল। একই সঙ্গে দুই ফরম্যাটের জন্য আলাদা দল গড়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের জোগানেও যে তাদের কোনো সমস্যা নেই, তাও এখন প্রশ্নাতীত।

অধিনায়ক রশিদসহ টেস্ট দলের আর দুজনই শুধু আছেন টি-টোয়েন্টি দলে— মোহাম্মদ নবী ও আসগর আফগান। ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আসা ১৪ জন আর ফিরে যাওয়া ১২ জন মিলিয়ে এই এক সফরেই এসেছেন আফগানিস্তানের ২৯ জন ক্রিকেটার। অথচ টেস্টে হারের পর টি-টোয়েন্টি নিয়েও নিঃসংশয় শোনায় না বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠ, ‘টেস্টে তো তাও ভালো। বড় বড় দলের সঙ্গে আমরা নিয়মিত জিতছি। টি-টোয়েন্টিতে তো ধারেকাছেও যেতে পারি না কোনো দলের।’

আসছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানদেরও ধরা যাবে কি না, সে প্রশ্ন সময়ের হাতেই তোলা থাকছে। তবে একমাত্র টেস্টে পরিকল্পনা ও কার্যকারিতায় বাজিমাত করেই স্বাগতিকদের ভরাডুবি ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফগানরা। এবং টেস্টে ভালো খেলার প্রস্তুতিও তারা নীরবে-নিভৃতে সারছিল। সেটির ফলও হাতেনাতে পাওয়ায় কালই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো মোহাম্মদ নবী ঘরোয়া ক্রিকেটের গুণগানও গাইতে পারলেন, ‘টেস্টে আমরা নতুন হলেও জিতলাম তিন ম্যাচের দুটিতেই। এটিই প্রমাণ করে যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো খুব শক্তিশালী।’

সেটি হোক বা না হোক, ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরেও তাদের টেস্টের পূর্বপ্রস্তুতি চলছিল অনেক দিন থেকেই। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলার সামর্থ্য প্রমাণ করেই টেস্ট মর্যাদা পেয়েছেন বলেও দাবি করলেন এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার, ‘আমরা ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপ (আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলোর জন্য চার দিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট) খেলে দুইবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্স-আপ হয়েছি। দারুণ ফলের জন্যই আইসিসি আমাদের টেস্ট মর্যাদা দিয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেটের এমন একটি প্রজন্মের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।’

নবী গর্বিত প্রথম প্রজন্মেরই অংশ। অথচ বাংলাদেশে কত প্রজন্ম এলো আর গেল। টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় ২০ বছর পার করার পথে। তবু ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্বল কাঠামো নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। তাই আরো আগে থেকেই টেস্ট প্রস্তুতি নিতে শুরু করা আফগানদের সামনে নাস্তানাবুদ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা