kalerkantho

দায়টা আমার ওপরই পড়ে

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দায়টা আমার ওপরই পড়ে

শেষ দিনে ৭০ মিনিটও টিকতে না পারার দায় নিজের ওপর নিলেন যেমন, তেমনি অন্যদের ভুলভ্রান্তিও ধরলেন তিনি। বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা থেকে শুরু বিসিবির শীর্ষ মহলের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা, আফগানিস্তানের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান কথা বলেছেন অনেক কিছু নিয়েই। সেখানে ছিলেন কালের কণ্ঠ’র মাসুদ পারভেজ

প্রশ্ন :  এমন পারফরম্যান্সের পর দলকে ১০০-তে কত দেবেন?

সাকিব আল হাসান : জিরো।

প্রশ্ন : শেষ দিনে ১৮ ওভার টিকতে না পারা কতটা হতাশার?

সাকিব : মেনে নেওয়া অবশ্যই কষ্টকর। খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। আমি আমারটা বলতে পারি, বাকিদেরটা বলা কঠিন।  যেহেতু আমি প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছি, ফলে দলের জন্য কাজটা আরো কঠিন হয়ে গেছে। দায়টা আমার ওপরই পড়ে। প্রথম বলে ওভাবে কাট শটটা খেলা উচিত হয়নি। ওটাতেই দল অনেক বেশি চাপে পড়ে গেছে। আমি যেহেতু অপরাজিত ছিলাম, আমারই উচিত ছিল মূল ভূমিকাটা পালন করার। এটা যদি করতে পারতাম, তাহলে ড্রেসিংরুমও অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত।

প্রশ্ন : বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে কাট শট কী ভেবে খেলেছিলেন?

সাকিব : আমার মধ্যে তখন নার্ভাসনেস কাজ করছিল অনেক বেশি। দুপুরবেলা যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছি, তখন মাথা কাজ করেনি। আমারই ভুল।

প্রশ্ন : এটিও কি আপনার দেখা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোর একটি?

সাকিব : জানি না তো, আমার স্মৃতি খুব দুর্বল! এমন না যে এর আগে কোনো দিন হারিনি কিংবা জিতিনি। আসলে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়েই আমরা বেশি আলোচনা করি।

প্রশ্ন : টেস্টে পেসারদের নিয়ে সংশয় থাকে। পাশাপাশি উইকেটে সুবিধা না থাকলে স্পিনাররাও কার্যকর হন না। ব্যাটসম্যানরাও খেলে ভয় নিয়ে। এত সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট কোথায় দাঁড়িয়ে?

সাকিব : কঠিন প্রশ্ন! ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে চাইলে আমাদের খেলোয়াড়দের কোয়ালিটি আরো বাড়াতে হবে। তা না হলে উইকেটের সুবিধা বা ফেভার নিয়েই আমাদের ফল বের করতে হবে।

প্রশ্ন : ৭০ মিনিট টিকে থাকার সামর্থ্যও কি এই দলের নেই?

সাকিব : ফল দেখে তো বলতেই হবে, অবশ্যই নেই। কারণ সেই সামর্থ্য থাকলে আরো ভালো কিছু দেখাতে পারতাম। তাইজুলেরটা আউট ছিল না। কিন্তু মিরাজ আগে ভুল রিভিউ নিয়ে নষ্ট করেছে। এটা যে একদিন ক্রিকেট খেলেছে সে-ও বুঝবে আউট। ও (মিরাজ) রিভিউ না নিলে তাইজুল নিতে পারত। এটা একটু হলেও আমাদের সহায়ক হতো। কারণ তাইজুল আগের ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করেছিল। এই ধরনের ভুলভ্রান্তি হয়। সৌম্য যখন সিঙ্গেল নিয়ে (শেষ ব্যাটসম্যান নাঈম হাসানকে স্ট্রাইক দিয়ে) মাথায় হাত দিচ্ছে, বুঝতে পারছে না আসলে ওর ভূমিকাটা কী বা কী করা উচিত। এই জিনিসগুলোতে অনেক কিছু শেখার আছে, অনেক কিছু বোঝার আছে। কত দিন যে লাগবে শিখতে!

প্রশ্ন : নতুন হেড কোচের শুরুও হলো হার দিয়ে।

সাকিব : আমাদের কোচদের কপালই খারাপ! বাজে হার দিয়ে শুরু হয়। স্টিভ রোডস যখন এসেছিলেন, তখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে ৪৩ রানে অল আউট হয়েছিলাম। একদিক থেকে ভালো এটা, সবচেয়ে খারাপ জিনিসটা তাঁরা শুরুতেই দেখে ফেলেন।

প্রশ্ন : এমন হার কতটা লজ্জার?

সাকিব : লজ্জাজনক বলে আমার মনে হয় না। তবে যন্ত্রণার অবশ্যই।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। এরপরই এ রকম বাজেভাবে হারা। আকাশ থেকে পড়ে গেলেন কি?

সাকিব : বিশ্বকাপে ভালো করার পর আমি আকাশে ছিলাম বলেও যেমন মনে করিনি, তেমনি এই ম্যাচে খারাপ করার পর মাটির নিচে চলে গেছি বলেও মনে করছি না। আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই আছি।

প্রশ্ন : তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা আলাদা দল গড়ার সময় এসেছে কি না?

সাকিব :  কে কোন ফরম্যাটে ভালো বিকল্প সেটি আগে আমাদের বুঝতে হবে। আবার খেলোয়াড় পছন্দ করার খুব বেশি জায়গাও আমাদের নেই। আমাদের আসলে সব জায়গা থেকে বড় পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। নয়তো এমন ফল বিপর্যয় হতেই থাকবে। যেটা শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গেও হলো। দ্রুত আমরা ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে ভালো কিছু চিন্তা করা কঠিন হবে। বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

প্রশ্ন : ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবির শীর্ষ মহলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কি না?

সাকিব : অধিনায়কত্ব করতে না হলেই বরং আমার ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে। আর নেতৃত্ব যদি দিতেই হয়, তাহলে অবশ্যই অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করার ব্যাপার আছে।

মন্তব্য