kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

১৩ কোটির সাঁতারুদের ওপর চোখ

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : তিন বছর আগে মহা ধুমধামে শুরু হয় সাঁতার প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে’। কোরিয়ান কোচ পার্ক তেগুনের তত্ত্বাবধানে দেশের আনাচে-কানাচে অন্বেষণ চালিয়ে তুলে আনা হয় সেই সেরা প্রতিভাদের। পার্কের ভাষায় যারা ছিলেন কাঁচা সোনা, পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাদের আসল সোনায় রূপান্তরিত করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই পার্ক দেশ ছেড়েছেন বছরখানেক হয়ে গেছে। সেই সাঁতারুরা এখন স্থানীয় চার কোচের অধীনে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।

সাত কোটি টাকার বাজেট নিয়ে প্রতিভা অন্বেষণ শুরু হয়েছিল। তবে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সাঁতার ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক এম বি সাইফ জানিয়েছেন সেই বাজেটটাই ১৩ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে, ‘দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ৬০ জন সাঁতারুকে নিয়ে তিন বছরের ক্যাম্প শুরু করেছি আমরা। তার আড়াই বছর এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। তাদের থাকা, খাওয়া, পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ সব কিছুরই ব্যবস্থা করছি। বিদেশি পুষ্টিবিদ এনে তাদের স্বাস্থ্যের দেখভাল করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই কার্যক্রমে আমাদের ১৩ কোটি টাকার মতো খরচ হচ্ছে।’ এই অর্থ জোগাতে গিয়ে গত দুই বছর সিনিয়র ও জুনিয়রদের দুটি জাতীয় প্রতিযোগিতাও অনিয়মিত হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এই সাঁতারুরা কতটা সুফলা করতে পারবেন ক্রীড়াঙ্গন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তার একটা নমুনা দেখা হয়ে যাবে এবারের জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে। যেখানে এই সাঁতারুরাই অংশ নেবেন বিভিন্ন দলের হয়ে।

৬০ জন নিয়ে ক্যাম্প শুরু হলেও এখন অবশ্য তা ৪২-এ নেমে এসেছে, ১৮ জন বাদ পড়েছেন পারফরম্যান্স, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অন্যান্য কারণে। ক্যাম্পে কোচের দায়িত্বে থাকা সাবেক সাঁতারু শাহজাহান আলী রনি আশা করছেন জাতীয় জুনিয়রে সেরাদের কাতারেই থাকবে তাঁর সাঁতারুরা, ‘গতবার আমাদের ক্যাম্পের সাঁতারুরাই ২২টির মতো সোনা জিতেছিল। এবার আরো ভালো কিছু হবে আশা করি। আগে তো ১০০টি ইভেন্টের মধ্যে বিকেএসপিই জিতত ৭০ শতাংশ সোনা। সেরা সাঁতারুরা এখন বিকেএসপির সেই আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে। এবার আমরা সেরা না হলেও অন্তত কাছাকাছিভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকব।’

বিকেএসপির হয়েও খেলার কথা আছে সেরা সাঁতারুদের ছয়-সাতজনের, আরেক শক্তিশালী দল আনসারেও প্রতিনিধিত্ব থাকবে, বাকিরা খেলবে যাঁর যাঁর জেলার হয়ে। শাহজাহান জানিয়েছেন যদিও পদক নয়, টাইমিংয়ের উন্নতিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

এই ৪২ সাঁতারুর ২০ জন এরই মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন দক্ষিণ এশীয় গেমসের ক্যাম্পেও। শেষ পর্যন্ত দল ছোট করে আনা হলে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীয় এই সাঁতারুদের পাঁচ-ছয়জন টিকে যেতে পারেন বলে আশা শাহজাহান আলীর। যদিও এখনই এই সাঁতারুরা দক্ষিণ এশীয় গেমসে পদকের যোগ্য হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন না, ‘সে জন্য আরো বছর দুয়েক হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।’

বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে বলেই এই সাঁতারুদের দিকে একটা বাড়তি নজর থাকবেই। পার্ক পাঁচ বছরের ছক এঁকেছিলেন। সেই পার্ককে ছাড়া এই কার্যক্রম কতটা গতি হারিয়েছে দেখার বিষয়, পাঁচ বছর শেষে দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে সোনা জেতার মতো গোটা দশেক সাঁতারু তিনি উপহার দিতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ লক্ষ্যটা ছিল বড়, অর্থের দিক থেকে রসদের জোগানও কম ছিল না। প্রাপ্তির দিকে তাই চোখ থাকবেই। এবারের জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের পরপরই আড়াই বছরের ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক আসর এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে এই সাঁতারুরা। প্রাপ্তির আভাসটা মিলবে সেখানেও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা