kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন রানি আন্দ্রেস্কু

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন রানি আন্দ্রেস্কু

রূপকথাও সত্যি হয় তাহলে! সেরেনা উইলিয়ামসের বুক ভেঙে বিয়াংকা আন্দ্রেস্কুর ইউএস ওপেন জয়ের গল্পটা তো টেনিস রূপকথাই। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালে সেরেনাকে টানা ইউএস ওপেন জিততে দেখে তাঁর সাধ হয়েছিল টুর্নামেন্ট জয়ের চেকটা নেড়েচেড়ে দেখার। আসল চেক পাওয়ার তো উপায় নেই, তাই নকল চেক বানিয়ে বসিয়ে দেন নিজের নাম! কে জানত পাঁচ বছর পর ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারের আসল চেকটাই পেয়ে যাবেন ১৯ বছরের এই কানাডিয়ান। ফাইনালে সেরেনাকে ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারিয়ে পূরণ করলেন দুরন্ত কৈশোরে দেখা স্বপ্নটা। এরপর আন্দ্রেস্কুর উচ্ছ্বাস, ‘এটা ভাষায় বলা কঠিন। বিশ্বাসই হচ্ছে না আমার। তবে এই মুহূর্তটির জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছি।’

মা হওয়ার পর এ নিয়ে চার চারটি গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল হারলেন সেরেনা। তাই ছোঁয়া হলো না মার্গারেট কোর্টের ২৪ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি। এত কাছে গিয়েও বারবার শেষ বাধা পার করতে না পারার হতাশা আছে সেরেনার। তবে তাঁকে আদর্শ করে বেড়ে ওঠা আন্দ্রেস্কুর জন্য খুশি এই কিংবদন্তি, ‘আমি নিজের সবটা দিয়েছি। ভেনাস বাদে একমাত্র আন্দ্রেস্কু জিতলেই আমি খুশি হতাম, আর হয়েছেও সেটা।’

কানাডার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আন্দ্রেস্কু জিতলেন কোনো গ্র্যান্ড স্লাম। এর আগে ২০১৪ সালে ইউজিনি বুশার্ড আর ২০১৬ সালে মিলোস রাওনিক উইম্বলডন ফাইনালে পৌঁছলেও শিরোপা জিততে পারেননি। এমন সাফল্যেও পা মাটিতে রাখছেন তিনি, ‘আমি কখনো একসঙ্গে এত ডলার দেখিনি! অবিশ্বাস্য লাগছে পুরো ব্যাপারটা। সবাই আমাকে তারকা বলবে, এ ধরনের স্বপ্ন দেখিনি। তবে চাই আরো বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জিততে।’

২০১৪ সালে সভেতলানা কুজনেতসোভার পর সবচেয়ে কম বয়সী গ্র্যান্ড স্লামজয়ী খেলোয়াড় এখন আন্দ্রেস্কু। ১৯৯০ সালে মনিকা সেলেস প্রথম মেজর জিতেছিলেন নিজের চতুর্থ গ্র্যান্ড স্লামে। তাঁর রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন এই কানাডিয়ান। ১৭৮ নম্বরে থেকে বছর শুরু করা আন্দ্রেস্কু র‍্যাংকিংয়েও উঠে এসেছেন পাঁচে। স্বপ্নের ঘোর কাটতে সময় লাগবে তাঁর!

ফাইনালের আগে ছয় ম্যাচে মাত্র তিনবার নিজের সার্ভে গেম হারিয়েছিলেন পয়েন্ট। অথচ ফাইনালে দুই সেটেই এটা হয়েছে ছয়বার। প্রথম সার্ভে পয়েন্ট মাত্র ৪৪ শতাংশ, দ্বিতীয় সার্ভে আরো কম ৩০ শতাংশ। ডাবল ফল্ট আটটি। তাই সেরেনা লুকাননি হতাশাটা, ‘সত্যি বলতে ভীষণ হতাশ আমি। খুব, খুব, খুব কাছে গিয়েও পারছি না। জানি না কী বলা উচিত। তবে হাল ছাড়ছি না।’

সেরেনার বন্ধু ও সাবেক তারকা মারিয়ন বারতোলি এই ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘সেরেনা আসলে ফাইনালে বেশি চাপ নিয়ে ফেলছে। ভাবছে এবারই জিতে ২৪ গ্র্যান্ড স্লাম করে ফেলতে হবে, এরপর ২৫টি। এই চাপটা কাটাতে হবে।’ ৩৮ বছর ছুঁই ছুঁই সেরেনা পারবেন কি? এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা