kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যে কারণে ব্যাটিং অর্ডারে অদলবদল

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে কারণে ব্যাটিং অর্ডারে অদলবদল

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : সাদমান ইসলামের সঙ্গে সৌম্য সরকারের জায়গায় লিটন কুমার দাসকে নামতে দেখাটা তেমন বিস্ময়কর ছিল না। বোঝাই যাচ্ছিল যে নতুন বলে অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীকে আরো ভালোভাবে সামলাতে ওপেনিংয়ে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন রাখতে চেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু লিটন আউট হতেই বিস্ময়ের শুরু। দেখা গেল প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাট করা মোসাদ্দেক হোসেনকে তিনে উঠিয়ে আনা হয়েছে। মোসাদ্দেক আউট হতেই তিনের মমিনুল হক চলে গেলেন পাঁচ নম্বরে। তিনি বাঁহাতি যে! চারে নামলেন মুশফিকুর রহিম।

কিন্তু ব্যাটিং অর্ডার উল্টে-পাল্টেও ফল সেই একই। ব্যাটিং ব্যর্থতা। এ কারণেই প্রশ্ন উঠল আরো বেশি। দিনের শেষে এর ব্যাখ্যা দিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, ‘আমাদের ৪০০ তাড়া করতে হলে এ রকম কিছু খেলোয়াড়কে দরকার হতো, যাদের বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস আছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওর অনেকগুলো ডাবল সেঞ্চুরি। সে জন্যই এই পরিকল্পনা। তা ছাড়া নবী যেহেতু বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে খুব কার্যকর, সে জন্য আমরা ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন রাখতে চেয়েছি। মোসাদ্দেককে তাই তুলে আনা হয়েছিল।’

এমনকি মোসাদ্দেককে দিয়ে ওপেন করানোরও নাকি পরিকল্পনা ছিল সাকিবের, ‘আমার তো পরিকল্পনা ছিল দুজন ডানহাতিকে দিয়ে ওপেন করানোর। লিটনের সঙ্গে মোসাদ্দেক। সবাই মিলে আমরা কাল রাতে (আগের রাতে) আলোচনাও করেছি। আমার পরিকল্পনা নেওয়া হলে ওরাই ওপেন করত।’ সেটি না হলেও চতুর্থ ইনিংসে তাঁদের পরিকল্পনা কাজে লেগেছে বলেও দাবি অধিনায়কের, ‘প্রথম ইনিংসে কিন্তু প্রথম স্পেলেই উইকেট পেয়েছিলেন নবী। এই ইনিংসে তা পাননি। কাজেই আমরা সফলই। যখনই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এসেছে, ওরা কিন্তু নবীকে আক্রমণে এনেছে। সাদমানের উইকেটও তাঁরই নেওয়া।’

ব্যাটিং অর্ডারে এ রকম ওলটপালট মানসিক প্রস্তুতিতে বাধা কি না, উঠল এমন প্রশ্নও। এই যুক্তিও খণ্ডন করার চেষ্টা করলেন সাকিব, ‘৪০০ তাড়া করতে গেলে আপনাকে অন্য রকম কিছু করতেই হবে। আমরা তো কখনো ৪০০ তাড়া করিনি। যদি ২০০ তাড়া করতাম, তাহলে ব্যাটিং অর্ডার আগের মতোই থাকত। বড় রান তাড়ায় আমাদের কিছু প্রস্তুতি দরকার ছিল। প্রথম ইনিংসে তো আমরা ২০০-ই করেছি। এখান থেকে আর কতই বা খারাপ হতে পারে।’

৩৯৮ রান তাড়া মানে বড় কিছুই। সেই বড় কিছুর চিন্তাও এত অদল-বদলে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, ‘‘৪০০ করতে গেলে আমাদের টপ ফোরের কাউকে ১৫০ বা ২০০ রানের ইনিংস খেলতে হতো। তো ওই জায়গায়ই আমরা কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। আমি যেটা বললাম, সেই পরিকল্পনা ভুলও হতে পারে। আবার ঠিকও হতে পারে। মোসাদ্দেক আজ ১০০ করে অপরাজিত থাকলে সবাই বলত, ‘ওয়াও, কী দারুণ সিদ্ধান্ত।’ যেহেতু পারেনি, তাই এটি বাজে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।”

বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে এলেও মোসাদ্দেকের স্পিন সামলানোর দক্ষতায়ও খুশি অধিনায়ক, ‘এটি সত্যি কথা যে যতক্ষণ ব্যাটিং করছিল, খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। ও থাকলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। প্রথম বা দ্বিতীয় ইনিংসে যতক্ষণ খেলেছে, কখনো মনে হয়নি যে স্পিনের বিপক্ষে ও আউট হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা