kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরিকল্পনা সঠিক নাকি বেঠিক?

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিকল্পনা সঠিক নাকি বেঠিক?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাঠের লড়াইয়ে হারার পথে বাংলাদেশ। এবার কথার লড়াই। সেটি অবশ্য প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের সঙ্গে নয়; নিজেদের মধ্যেই। টেস্ট হারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঢাকায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের অভিমতে চট্টগ্রামে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের প্রতিক্রিয়া বিপরীতধর্মী।

 

বিসিবি সভাপতি নাজমুল ভীষণ বিরক্ত দলের খেলায়। টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশে অকপট তিনি, ‘দেখে মনে হয়নি এটা বাংলাদেশ। এটি খুবই দুঃখজনক, খুবই খারাপ। আমি পরশু রাতে দেশে এসেছি, কালকে সকালেই (চট্টগ্রাম যাওয়ার) ফ্লাইট ধরার কথা। কিন্তু দলের পরিকল্পনা-কৌশল সব কিছু দেখে এতই হতাশ যে, যাওয়ার চিন্তাই বাদ দিয়ে দিয়েছি।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলের পরিকল্পনা ভুল ছিল বলে দাবি তাঁর, ‘পরিকল্পনা নিশ্চয় ছিল। তবে তা সঠিক ছিল না। এ নিয়ে ওদের সঙ্গে বসতে হবে। কোচ-অধিনায়ক সবাই চট্টগ্রামে। ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরামও ওখানে। ওদের সঙ্গে বসে বুঝতে হবে যে, কেন এ রকম হলো।’

পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে; নাজমুলের ক্ষোভ ক্রিকেটারদের প্রতিও, ‘আমাদের সাকিব, মুশফিক, রিয়াদরা দলের সেরা ব্যাটসম্যান। ওরা যদি টেস্টে পঞ্চাশও করতে না পারে, তাহলে ওই ম্যাচ জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমাদের ব্যাটিং দেখে আমার মনেই হয়নি যে, আমরা টেস্ট খেলছি। প্রথম ইনিংসে সেট হয়ে যাওয়ার পর লিটন দাস যে শট খেলল, মমিনুল পঞ্চাশ করার পর কোথায় এক শ-দেড় শ করবে, কারণ সে হলো টেস্ট স্পেশালিস্ট, সে যে শট খেলল, রিয়াদ যে শট খেলল—এগুলোকে টেস্ট খেলা বলে না।’ বোর্ডের করণীয়র চেয়ে ক্রিকেটারদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করান বিসিবি সভাপতি, ‘এখন যদি আপনারা বলেন, এখানে আমরা কী করতে পারি। ওদেরকে এখন কি বোঝাতে হবে, টেস্ট কিভাবে খেলতে হয়! ওরা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এ রকম করে টেস্ট খেলার কথা না। এ উইকেটে আফগানিস্তান যদি ৩৭০ রান করে, তাহলে বাংলাদেশের ৫০০ না করার কোনো কারণ নেই।’

বাংলাদেশ তা পারেনি। তাতে প্রত্যাশিত স্পিন ট্রাক না পাওয়ার আক্ষেপের কথা এরই মধ্যে জানিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু যে উইকেটে খেলা হয়েছে, সেখানে তো স্পিনারদেরই রাজত্ব। বিসিবি সভাপতি নাজমুলের কথায় আবার তাই পরিকল্পনার গলদ, ‘প্রথমত খেলা হচ্ছে, পেসার কই? নিশ্চয়ই কোনো প্ল্যান আছে, স্ট্রাটেজি আছে। এগুলো কে করেছে, তা আমার জানতে হবে। খেলার মাঝে কোচের সঙ্গে কথা বললে আরো খারাপ হবে। আমি সে জন্য খেলা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছি। ওদের একটা পরিকল্পনা ছিল; আমার মনে হয় সে পরিকল্পনায় ভুল ছিল। চিন্তাধারায় ভুল ছিল।’ নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে দোষ না দিয়ে বিশেষত ব্যাটসম্যানদের দুষছেন তিনি, ‘কোচকে কিছু বলার নেই। ও একদম নতুন। ও প্লেয়ারদেরও চেনে না; কিছুই জানে না। ওকে তাই কিছু বলার নেই। তবে আমার মনে হয় এখান থেকে আমাদের সবারই অনেক কিছু শেখার আছে। আর শেষ পর্যন্ত এসব পরিকল্পনা আসলে কিছু না। আমার ধারণা ছিল, মুশফিক, সাকিব, রিয়াদ, মমিনুল করবে—ওরা সেঞ্চুরি করবে। এই পিচে সেঞ্চুরি না করতে পারার কোনো কারণ নেই। যদি আফগানিস্তানের ওরা পিচ বুঝতে পারে আর আমরা না পারি—তাহলে তো হারবই।’ সম্ভাব্য এই হারকে দেশের ক্রিকেটের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘এটি অবশ্যই ওয়েক আপ কল। সব কিছু যেন হঠাৎ করে বদলে গেছে। তখন বিশ্বকাপ ছিল দেখে কিছু বলা যায়নি। এখন আবার এসেছেন নতুন কোচ। নতুন কোচের থিতু হতে, বুঝতে একটু সময় লাগে।’

নাজমুলের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জানতে চাওয়া হয় সাকিবের কাছে। বোর্ড সভাপতির কথা যে খুব ভালোভাবে নেননি, সেটি বুঝিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিকঠাক খেলতে পারলে এমন হতো না। এখন ফল পক্ষে না গেলে এটি বলা স্বাভাবিক যে পরিকল্পনায় ভুল ছিল।’ খারাপ ফলের সময়ই শুধু এসবের চর্চা হওয়া নিয়েও যেন বিরক্ত সাকিব, ‘পরিকল্পনা বলতে তো বিশাল পরিকল্পনা। এই প্রক্রিয়া অনেক লম্বা। যখন খারাপ করি, তখন এসব নিয়ে অনেক কথা হয়। ভালো ফল করলে এসব কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়গুলোর ভারসাম্য করা জরুরি।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা