kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মনের ভয়েই এ হাল!

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মনের ভয়েই এ হাল!

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

ঢাকায় বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান ভুল পরিকল্পনা নিয়ে ঝড় বইয়ে দিয়েছেন। এদিকে চট্টগ্রামে আফগান স্পিন-ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ দলও হারের নিয়তি মেনে নেওয়ার অপেক্ষায়। এমন দ্বিমুখী ঝড়ের দিনেই পাঁচ দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সংবাদ সম্মেলনে চলে এলেন সাকিব আল হাসান। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পরের ২০ মিনিটও কম বিস্ময়কর ছিল না। প্রায় প্রতি প্রশ্নেই হেসে হেসে জবাব দেওয়া উত্ফুল্ল বাংলাদেশ অধিনায়ককে দেখে বরং মনে হতে থাকল যে তিনি বোধ হয় কোনো এক সুখী পরিবারের গৃহকর্তাই।

যদিও বাস্তবে ঘটে চলেছে এর উল্টোই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলের যা পারফরম্যান্স, তাতে উত্ফুল্ল থাকার কোনো কারণই নেই। তবু ‘সতীর্থদের ওপর থেকে চাপ’ কমাতে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিবের ভেতর আর বাইরের বিপরীতমুখী রূপ নিয়ে একটি উপসংহারে পৌঁছাতে চাইলেন এক সহকর্মী। আর সেটি জগজিৎ সিংয়ের গানের ভাষায়ই, ‘তুম ইতনা জো মুশকুরারে হো, ক্যায়া গ্যাম হ্যায় জিসকো ছুপা রাহা হো?’ যার বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘তুমি যে হাসছ, কী দুঃখ আছে যা লুকাচ্ছ?’

হতে পারে যে হাসির আড়ালেই দলের বাজে পারফরম্যান্সের বেদনা লুকাতে চেয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে চাঙ্গা রাখার কৌশলও হতে পারে। তবে যা-ই হোক না কেন, এই দুরবস্থার জন্য ব্যাটসম্যানদের মন খুলে না খেলার ব্যাপারটিও প্রকাশ্য করে দিতে দ্বিধা করেননি তিনি। সাকিবের মতে মন না খুললে ভয়ের দুয়ারও খুলে যায়, ‘আমি বলব (পরিকল্পনা) বাস্তবায়নের অনেক সমস্যা। ওই বড় মন না নিয়ে খেলার সমস্যা। যখন আপনি ভয়ে ভয়ে মারতে যাবেন, তখন বাস্তবায়নে সমস্যা হবে।’ এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে এসেছেন দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করতে নামা লিটন কুমার দাস। যিনি ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই রিভার্স সুইপ খেলার ব্যর্থ চেষ্টাও করেছেন।

সে প্রসঙ্গেই সাকিব বলছিলেন, ‘টি-টোয়েন্টি খেললে রিভার্স সুইপ কেন, যত শটই খেলে লিটনের লাগে। কিন্তু টেস্টে ও সেটি করতে পারেনি। এটি ওরও ব্যর্থতা, আমাদেরও।’ ভয়ই এ রকম ব্যর্থতা ডেকে আনে বলে মনে হয় অধিনায়কের, ‘কোচও একই কথা বলেছেন যে আমরা যেন মন খুলে খেলি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা অনেক ভয় নিয়ে খেলি, অনেক চাপ নিয়ে ফেলি। দিনের শেষে এটি ক্রিকেট ম্যাচই। অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। তবে এটিই দুনিয়ার সব কিছু না। কিন্তু আমরা অনেক সময় এ রকম ভেবে বাড়তি চাপ নিয়ে আসি। তাতে পারফরম করা কষ্টকর হয়। করতে না পারলে আরো চাপ পড়ে।’

নিজেদের মেলে ধরার ব্যর্থতাও দেখছেন এই অলরাউন্ডার, ‘বড় মন নিয়ে খেললে আরো ভালো করা সম্ভব হতো। আমি যেমন শুরুতে (টেস্টের আগে) বলেছিলাম ব্যাটসম্যানরা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। উইকেট হয়তো আমরা যেমন চেয়েছিলাম, তেমন পাইনি। তার মানে এই নয় যে আমরা ভেঙে পড়ব। এখানে আমাদের কোয়ালিটি দেখানোর জায়গা ছিল। যে জায়গাটিতে আমরা ভীষণভাবে ব্যর্থ হয়েছি।’

তাই বলে এই দলের কারো সামর্থ্যের অভাব আছে বলেও মানতে চাননি সাকিব, ‘সামর্থ্য সবার ভেতরেই আছে। আমাদের দলে যত খেলোয়াড় খেলছে, একমাত্র সাদমান বাদে এমন কেউ নেই যে বড় ইনিংস খেলেনি বা দলকে জেতানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখেনি কখনো। ওরা যেহেতু পারে, তার মানে সামর্থ্য অবশ্যই আছে। একটি বিষয় হলো আপনার প্রতিভা আছে এবং সেটি মাঠে দেখানো। আরেকটি হলো প্রতিভা আছে কিন্তু তা কখনো দেখাতে না পারা। খুবই সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য। এই পার্থক্যটিই বড় এবং ছোট খেলোয়াড়দের আলাদা করে দেয়।’

টেস্ট পরিবারের নবীন সদস্য আফগানিস্তানের পরীক্ষাও তাঁর দল নিতে পারেনি বলে দুঃখ আছে সাকিবের, ‘দৃঢ়তা দেখানোর মতো অবস্থায়ই আমরা ওদের আনতে পারিনি। যদি আনতে পারতাম, তখন আসলে বোঝা যেত যে ওদের কতটুকু দৃঢ়তা আছে। যেহেতু ওই জায়গায়ই আনতে পারিনি, দৃঢ়তা কী দেখব! আজ যদি ২ উইকেটে ২০০ রান করতে পারতাম, তখন না হয় দেখতে পারতাম।’ দৃঢ়তা বাড়ানোর জন্য ব্যাটসম্যানদের জাতীয় লিগ (এনসিএল) কিংবা বাংলাদেশ লিগের (বিসিএল) মতো ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলা উচিত কি না, উঠল সে প্রসঙ্গও। ২০১৫ সালে নিজের সব শেষ এনসিএল ম্যাচ খেলা সাকিব এটিকেই একমাত্র সমাধান মানলেন না।

নিজের উদাহরণ যেমন দিলেন, তেমনি দিলেন অন্যদেরও, ‘আমি তো গত চার-পাঁচ বছর খেলিনি। কোনো সমস্যাও হয়নি। এখন বুঝতে হবে ওদের (অন্যদের) কী সমস্যা হচ্ছে। এখন এনসিএল খেলেই সমস্যা হচ্ছে নাকি না খেলে হচ্ছে? দুটোরই সমস্যা থাকতে পারে। খেলাও একটি সমস্যা হতে পারে। ওখানে গেলে এত সহজ বোলিং আক্রমণ পেয়ে যায় যে দুই শ দুই শ করে মারে। চার-পাঁচটি দুই শ মারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে চার-পাঁচ রান করাও সমস্যা হয়ে যায়। সুতরাং দুটোরই সমস্যা থাকতে পারে। ওটা আপনার বুঝতে হবে, কার জন্য কী সমস্যা। সবার এক ওষুধেই কাজ হবে, এটি ভাবা ভুল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা