kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রক্ষণেই লুকিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রক্ষণেই লুকিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাতারের কাছে আফগানিস্তানের ৬ গোলের হারে বাংলাদেশের ভাগ্য কি বদলে যাবে? এটা কারো ভাবা উচিত নয় এবং দলের কেউ ভাবছেনও না। জামাল ভূঁইয়াদের ভাবনাজুড়ে আছে নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দেওয়া এবং কোচের ট্যাকটিকস অনুযায়ী ম্যাচ খেলা।

সেই ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সর্বশেষ হারিয়েছিল আফগানিস্তানকে। গত ৪০ বছরে যে দলের বিপক্ষে জয় নেই তাদেরকে হারানোর চিন্তা মাথায় আনা কঠিন। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাতারের কাছে গো-হারার পর আফগানিস্তানের ফুটবল অহমে সামান্য চোট নিশ্চয় লেগেছে। লাল-সবুজ শিবিরেও আফগানদের নিয়ে দমবন্ধ ভাব নেই। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম মনে করছেন, ‘আফগানিস্তান নিয়ে খুব পাওয়ার কিছু নেই, ভালো প্রতিপক্ষের সঙ্গে তারাও হারে। আমাদের চেষ্টা থাকবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলা। এরপর রেজাল্ট যা হয়, হবে।’ প্রতিপক্ষের ভাবনা পরে, আগে নিশ্চিত করতে হবে নিজেদের সেরা খেলা। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দুশানবেতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তানের সঙ্গে।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ দল ১০ দিন আগে তাজিকিস্তানে পৌঁছে গেছে ওখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। নিয়মিত প্র্যাকটিসের পাশাপাশি খেলেছে দুটো প্র্যাকটিস ম্যাচও। তাজিকিস্তানের ক্লাব দল এএফসি কুকতোশের কাছে হারের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করেছে সিএসকেএ পামিরের সঙ্গে। তবে দুই ম্যাচ থেকে অনেক প্রাপ্তি হয়েছে বলে মনে করেন দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ‘এই দুটো ম্যাচ আমাদের দলের জন্য অনেক উপকার হয়েছে। প্রথম ম্যাচে আমাদের ফিটনেস পরীক্ষা হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছি। দুই ম্যাচ মিলিয়ে কিছু ভুল হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোচ কাজ করেছেন। আমরাও শিখেছি সেসব ভুল থেকে।’ কোচের বিশেষ কাজ আসলে দলের রক্ষণভাগ নিয়ে। আফগানিস্তান ম্যাচে রক্ষণ সংগঠন ঠিকঠাক রেখে কাউন্টারে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে।

এই ইংলিশ কোচ আগেই বলে রেখেছেন, কাতারের কাছে আফগানিস্তানের হারে বাংলাদেশের কিছু যায়-আসে না। তিনি আফগানিস্তন ম্যাচে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ ভেবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে চান। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রূপু বলছেন একই কথা, ‘কাতারের কাছে হেরেছে বলে আফগানিস্তানকে হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। কাতারের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিতে গিয়ে ওরা ভুল করেছে। প্রথম ১৬ মিনিটে ৩ গোল হজম করার পরই তো তাদের ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আমাদের বিপক্ষে খেলবে তারা নতুন ম্যাচ।’

শুরুতে ৩ গোল খেয়ে বসলে হার এড়ানো কঠিন। সেই সামর্থ্য নেই জামাল ভূঁইয়াদের, উল্টো আফগানিস্তানের ক্ষমতা আছে একতরফা ম্যাচ খেলার। আফগান কোচ আনোশ দস্তগীর বাংলাদেশ ম্যাচের অপেক্ষায় আছেন, কাতারের ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পরের ম্যাচ বাংলাদেশের সঙ্গে, এই ম্যাচে আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে।’

আফগানিস্তান প্রথম ম্যাচ হারের ঝাল তুলতে পারে বাংলাদেশের ওপর। এই ভয় আছে। তবে বাংলাদেশ ম্যানেজার গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্যাকটিকসের ওপর, ‘আমাদের গ্রুপে সবাই বড় প্রতিপক্ষ, তাই আমাদের খেলতে হবে ট্যাকটিকস মেনে। রক্ষণভাগে কোনো ভুল করা চলবে না আমাদের। এরপর কাউন্টারে সুযোগ নিতে হবে।’ বাংলাদেশের ছক হলো গোল না খাওয়ার। এই কৌশলে রক্ষণভাগ গুরুত্বপূর্ণ। যতই ভুল শোধরানোর কথা বলা হোক, চাপের মুখে রক্ষণে ভুল হচ্ছেই। দ্বিতীয় প্র্যাকটিস ম্যাচেই যেমন প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়েছিল পেনাল্টি, রক্ষা পায় গোলরক্ষক শহীদুল আলমের দুর্দান্ত সেভে। তা ছাড়া দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচে গরহাজির ছিলেন দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি। তাঁর কাফ মাসলের ইনজুরি পুরোপুরি সারেনি। গতকাল প্র্যাকটিসে নামলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে যথেষ্ট। জেমি অবশ্য ফরোয়ার্ডদেরও রক্ষণে সহযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যেন রক্ষণেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ভাগ্য!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা