kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দাবা বিশ্বকাপ

ফাহাদের আকাশ ছোঁয়ার লড়াই

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফাহাদের আকাশ ছোঁয়ার লড়াই

আমার লক্ষ্য অন্তত লড়াই করা অনিশ গিরির বিপক্ষে। ম্যাচটিকে যেন সেও গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয় এমন কিছু করা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফাহাদ রহমান প্রত্যাশা মিটিয়েছে, আবার পুরো মেটাতেও পারেনি। এই যেমন দেশের সব গ্র্যান্ড মাস্টারকে হারিয়ে বিশ্বকাপ দাবায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে সে মাত্র ১৬ বছর বয়সে। মাত্র আট বছর বয়সে গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমানকে হারানো, ১০ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ ফিদে মাস্টারের খেতাব লাভ করা ফাহাদকে নিয়ে আশা যেন তবু আরো বেশি কিছুর। বিশ্বকাপেই যাঁর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফাহাদ, বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের ৫ নম্বরে থাকা এবং বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বাছাই হিসেবে খেলা সেই অনিশ গিরি কিন্তু জিএম হয়েছেন সেই ১৪ বছর বয়সে। ভারতেই এখন ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে জিএম আছে ৯ জন।

ফাহাদকে নিয়ে প্রত্যাশাটা এমন আকাশচুম্বীই। রেকর্ড পাঁচবারের সাবজুনিয়র চ্যাম্পিয়ন, চারবারের জুনিয়র শিরোপায় তাই ফাহাদকে ঘিরে প্রত্যাশার পুরোটা মেটেনি। বাংলাদেশের অলিম্পিয়াড দলেও এখন জিয়াউর, আবদুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেনদের পাশে ফাহাদ দারুণ উজ্জ্বল। তবু আরো আলোড়ন তোলা কিছু যেন তার কাছে প্রত্যাশা।

বিশ্বকাপ সেই মঞ্চ, ফাহাদ কী পারবে? প্রতিপক্ষ অনিশ গিরি সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, ‘এই মানের কোনো দাবাড়ুর বিপক্ষে এর আগে কখনোই খেলার সুযোগ হয়নি আমার। শুধু আমি কেন, এর আগে আমাদের যাঁরাই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন এমন শীর্ষ দাবাড়ুদের সঙ্গে তাঁদের কারোরই খেলা পড়েনি। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দাবাড়ুর একজন, যাঁর রেটিং কিনা ২৭৮০, এই মানের দাবাড়ুদের সঙ্গে আমাদের খেলা হয়ই না বলতে গেলে।’ এর মানে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচটিই খেলতে যাচ্ছে ফাহাদ কান্তি মানসিস্কে। সেরা আসরও বটে। অলিম্পিয়াডের চেয়েও যে বড় এ আসর বিশ্বকাপ, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই যে এখানে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেন। কোনো সন্দেহ নেই যে নেদারল্যান্ডসের চারবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন গিরি তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মিশনেই এ আসরে অংশ নিয়েছেন। এমন একজনের বিপক্ষে খেলাটাই বিশেষ কিছু। ফাহাদ সেই স্বপ্নপূরণেই কাল রওনা হয়েছে রাশিয়ার উদ্দেশে, ‘এক মাস আগে আমাদের পেয়ারিং জানতে পেরেছি। এর পর থেকে যতটা পেরেছি গিরি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। খুব কঠিন সেই কাজ। অনলাইনে ওর প্রায় দুই হাজার গেম আছে। এত গেম বিশ্লেষণ করা তো একরকম অসম্ভব। এর পরও তাঁর ওপেনিং কী হতে পারে, সে আন্দাজ করে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি আর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজের গেম নিয়ে প্রচুর চর্চা করেছি। আমার লক্ষ্য অন্তত লড়াই করা তাঁর বিপক্ষে। ম্যাচটিকে যেন সেও গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয় এমন কিছু করা। প্রথম রাউন্ডে দুটি গেম হবে, একটি গেমে তাঁকে আটকে দিলেও দেখা যাবে পরের গেমে সে ঠিকই পথ বের করে নেবে। তাই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠাটা মিরাকল ছাড়া সম্ভব নয়।’

দাবা বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছয়বার প্রতিনিধিত্ব করেছে। এর মধ্যে শুধু একবারই এনামুল হোসেন উঠতে পেরেছিলেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। ২০১৫ সালে জিয়াউর রহমান সপ্তম বাছাই বরিস গেলফান্ডের সঙ্গে একটি গেম ড্র করেও পরে হেরে যান। ফাহাদ এবার শুরুতেই দ্বিতীয় বাছাইকে পাওয়ার কারণ তাঁর রেটিং, অংশগ্রহণকারী ১২৮ জনের মধ্যে যা ১২৭তম। ফলে ড্রয়ে দ্বিতীয় সেরাকেই সে পেয়েছে। অনিশ গিরি প্রথম রাউন্ডের এই খুদে প্রতিপক্ষকে নিয়ে কী ভাবছেন কে জানে, তবে ফাহাদের মত, ‘চাইলে এক দিনেই তিনি আমাকে নিয়ে স্টাডি করে ফেলতে পারবেন। অনলাইনে খুব বেশি হলে ২০০ গেম আছে আমার। উনার জন্য এটা দেখে নেওয়া কোনো কঠিন কাজই না।’ সেই অর্থে ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল। অভাবিত কিছু ছাড়া এ ব্যবধান ওলট-পালট হওয়ার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা