kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জীবনের শেষ গন্তব্যে ‘পথদ্রষ্টা’ আবদুল কাদির

নোমান মোহাম্মদ   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবনের শেষ গন্তব্যে ‘পথদ্রষ্টা’ আবদুল কাদির

৬৭ টেস্টে ২৩৬ উইকেট—রেকর্ড মন্দ নয়। কিন্তু সেটির যদি তুলনা করেন মুত্তিয়া মুরালিধরনের ৮০০, শেন ওয়ার্নের ৭০৮ কিংবা অনিল কুম্বলের ৬১৯ শিকারের সঙ্গে, তাহলে সেই রেকর্ডই ম্যাড়মেড়ে মনে হবে। আর তাহলেই ভুল করবেন। রেকর্ড-পরিসংখ্যান দিয়ে পাকিস্তানের লেগস্পিনার আবদুল কাদিরকে মাপাটাই যে বোকামি!

ক্রিকেটের লেগস্পিন শিল্প যাঁর জাদুকরী হাতে পুনর্জীবন পেয়েছে, সেই কিংবদন্তি আর নেই। পরশু রাতে ৬৩ বছর বয়সে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন কাদির। রেখে গেছেন ক্রিকেট আড্ডার অনন্তকালের গল্পের খোরাক।

সত্তরের দশকের সেই সময়টায় লেগস্পিন মৃতপ্রায় শিল্প। তখনই ১৯৭৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক কাদিরের। নাচের মতো বোলিং স্টাইলে দ্বিতীয় টেস্টেই ৬ উইকেট নিয়ে লেগস্পিন শিল্পে করেন প্রাণসঞ্চার। এরপর বলের ঘূর্ণিতে কত হিরণ্ময় মুহূর্ত! ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে চার টেস্টে ৪০ উইকেট নেওয়া, ৫৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের এখনো ইতিহাসের ইনিংস সেরা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে পর পর দুই সিরিজের ছয় টেস্টে ৩২ শিকার, গুগলির বিভ্রান্তিতে প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো—আরো কত কী! শেন ওয়ার্ন, মুশতাক আহমেদ, অনিল কুম্বলেদের মতো লেগস্পিনের পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা তাই কাদির।

তাঁর চলে যাওয়ার দিনে শোক প্রকাশে অধিনায়ক এবং পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতিক্রিয়া যথার্থ, ‘আবদুল কাদের ছিল জিনিয়াস। কিন্তু ওর জিনিয়াসের প্রতিফলন নেই পরিসংখ্যানে। এখন তো ডিআরএসের সুবিধায় ব্যাটসম্যানদের সামনের পায়ে বল লাগলেও এলবিডাব্লিউ আউট দেওয়া হয়। আধুনিক সময়ের এ সুবিধা নিয়ে ক্রিকেট খেললে কাদিরের উইকেট থাকত গ্রেট শেন ওয়ার্নের সমান।’ সেই অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার্নেরও স্যালুট কাদিরকে, ‘১৯৯৪ সালে পাকিস্তানে আমার প্রথম সফরে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। আমার মতো অনেক লেগস্পিনার তখন অনুপ্রেরণার হিসেবে দেখত তাঁকে। অবিশ্বাস্য এক বোলার ছিলেন তিনি; অনেক ব্যাটসম্যানকে হতভম্ব করে দিয়েছেন।’

কাদিরের বিদায়ের দিনে তাঁর প্রতি কুর্ণিশের মিছিলে ক্রিকেটের রথী-মহারথীরা। শচীন টেন্ডুলকার যেমন টুইট করেছেন, ‘তাঁর সময়ের অন্যতম সেরা স্পিনার আবদুল কাদিরের বিপক্ষে খেলার স্মৃতি আমার মনে আছে। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।’ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতিচারণা, ‘সবাই তাঁকে জাদুকর বলেন। উনি যখন আমার চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন, পাকিস্তানের হয়ে পরের ২০ বছর আমি খেলব—তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। আবদুল কাদির সত্যি জাদুকর। একজন লেগস্পিনার এবং তাঁর সময়ের পথপ্রদর্শক। আপনাকে সবাই মিস করব; কিন্তু কখনো ভুলে যাব না।’ কুম্বলের কণ্ঠেও সম্মান-সমবেদনা, ‘আবদুল কাদিরের মৃত্যুর খবর শুনে কষ্ট পেয়েছি। লেগস্পিন শিল্পকে উনি পুনরুজ্জীবিত করেন।’ ভিভিএস লক্ষ্মণের ঘোষণা, ‘নিজস্ব বোলিং স্টাইল দিয়ে বরাবর চোখ ধাঁধিয়েছেন; ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার তিনি।’

সত্যিই তিনি অন্যতম সেরা। অনেকের চোখে সেরাদের সেরা। অনেক মাস্টারের ভিড়ে এক ‘মায়েস্ত্রো’। ক্রিকেটের মায়েস্ত্রো হিসেবেই ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন আবদুল কাদির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা