kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছবি কথা বলে

চেষ্টাই শুধু করার আছে বাংলাদেশের

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চেষ্টাই শুধু করার আছে বাংলাদেশের

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

আলোর স্বল্পতায় তৃতীয় দিনের বিকেলে কিছুক্ষণ খেলা হলো ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে। আরো কিছুক্ষণও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হঠাৎ বিদ্যুিবভ্রাটে ফ্লাডলাইট নিভে গেল। এমনকি বন্ধ হয়ে গেল ডিজিটাল স্কোরবোর্ডও। সঙ্গে সঙ্গেই তৃতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি। একটু পরে আকাশ আরো অন্ধকার করে বৃষ্টিও নামল কিছুটা। সেই অন্ধকারেই স্টেডিয়ামের ওপার থেকে মাঠ পেরিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে আসা মেহেদী হাসান মিরাজ এর মধ্যেই মুখে কৃত্রিম আলো ফুটিয়ে রাখার চেষ্টা করলেন। এই চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচাতে বাংলাদেশ দলের বেছে নেওয়া ট্যাগলাইনও এখন সেই ‘চেষ্টা’ই।

জানেন যে ম্যাচে এখন পুরো কর্তৃত্বই প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে আফগানিস্তান। এরই মধ্যে তারা ২ উইকেট হাতে রেখে ৩৭২ রানের লিড নিয়ে ফেলায় বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতা কিংবা বাঁচানোর আশাও যে বাস্তবসম্মত নয়, সেটিও একপর্যায়ে একরকম মেনে নিতে হলো তাঁকে। তবু হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার কথাও বললেন। ফলের চিন্তা না করে চট্টগ্রাম টেস্টে তাঁদের পক্ষে এটুকুই শুধু করার আছে বলেও জানালেন এই অফস্পিনার, ‘আমাদের জন্য এই রান তাড়া করাটা সত্যিই কঠিন। এর পরও চেষ্টা করতে তো আমাদের কোনো বাধা নেই। আমাদের সুযোগ নিতে হবে। দুই দিন সময় আছে। চেষ্টাটা আমরা করতে চাই। এরপর হেরে যাই কিংবা জিতে যাই, সেটি পরের ব্যাপার। আমাদের হাতে যেটি আছে, সেটি হচ্ছে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়া।’

আগের দিন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অনুপ্রেরণায়ই কি না, এদিনও এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার অসংখ্য ঘটনা আছে উল্লেখ করে নিজেদের সম্ভাবনা দেখাতে চাইলেন মিরাজ, ‘ক্রিকেট খেলায় সবই হতে পারে। জেতা ম্যাচও কেউ হেরে যেতে পারে। কিংবা হারা ম্যাচও কেউ জিতে যেতে পারে। এমন অনেক ঘটনাই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।’ বাংলাদেশের অন্তত টেস্ট ক্রিকেটে এ রকম নজির নেই। এখন পর্যন্ত চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৭ রান তাড়া করে জিতেছে তারা। ২০০৯-র জুলাইয়ে সেই জয়টি দেশের বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তারকা খেলোয়াড়দের একযোগে বিদ্রোহের কারণে যে ক্যারিবীয় দলটি গড়াই হয়েছিল কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে। দেশের মাটিতে ২০১৪-র অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার ঘটনাও মাত্র ১০১ রানের!

চট্টগ্রামে সেখানে আফগানরা দিতে পারে ৪০০ পার করা লক্ষ্যও। এ অবস্থায় শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাটসম্যানদেরই যা করার করতে হবে, ‘প্রথম কাজ হলো ওদের বাকি দুটো উইকেট নেওয়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটা ঠিকভাবে বুঝে সেটি পালন করতে হবে। আমরা আমাদের প্রক্রিয়ায় থাকব। এমন বড় স্কোর তাড়া করতে গেলে অবশ্যই ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’

দায়িত্বশীল সেই ব্যাটিং চট্টগ্রাম টেস্টে শুধু আফগানদের কাছ থেকেই দেখা গেছে। স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা বরং দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিংয়ের শিক্ষাটি নিতে পারেন আসগর আফগান, রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরানদের কাছ থেকেই। মিরাজ অবশ্য ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ঢালাও অভিযোগ মানতে চাইলেন না। ব্যাটিং বিপর্যয়ে দুর্ভাগ্যের যোগও দেখছেন কিছুটা, ‘মুশফিক ভাইয়ের বুটে লেগে ক্যাচ হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। আরো কয়েকটি আউট নিয়েও তা বলা যায়। তবে এই পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যাটিং করতে হয়, আমাদের ব্যাটসম্যানরা তা খুব ভালো করেই জানে। প্রথম ইনিংসে আমরা অবশ্যই ভালো খেলিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তো ভালো খেলতে পারি।’

এই সিরিজ শুরুর আগে যদিও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের অনেককে বারবারই বলতে শোনা গেছে যে আফগানিস্তানের চেয়ে তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন। নিজেদের অভিজ্ঞতাকেও এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ বলছিলেন তাঁরা। তাঁদের বিপক্ষেই কিনা টেস্ট পরিবারের নবীন সদস্য আফগানিস্তান ছড়ি ঘোরাচ্ছে। এমন কেন হলো? মিরাজ দিলেন অদ্ভুত এক ব্যাখ্যা, ‘ওরা কিন্তু মাত্র টেস্ট খেলা শুরু করেছে। ওদের মধ্যে তাই রোমাঞ্চটা আরো বেশি কাজ করবে। ওরা চাইবেই টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে। ওরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে আমাদের এখানে। আমাদের প্রস্তুতিও ভালো ছিল। কিন্তু অনেক সময় খারাপ সময় যায়। আমাদের ক্ষেত্রে হয়তো তাই হয়েছে।’

হারের মুখে থাকলেও জেতার উদাহরণও টানলেন মিরাজ, ‘আমরা কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট জিতেছি। এই কয়েকটি দিন আমাদের খারাপ সময় গেছে, তাই আমরা পিছিয়ে গেছি। তার মানে এই নয় যে আমরা টেস্ট জিতিইনি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা