kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আফগানদের বড় হারের পরও সতর্কতা

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগানদের বড় হারের পরও সতর্কতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাতারের সামনে পড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে আফগানিস্তান। ৬-০ গোলে আফগানদের হারের দুর্দশা দেখে মোটেও চোখ রাঙিয়ে যায়নি জেমি ডের। উল্টো ভয়ে থাকার কথা, বাংলাদেশের বিপক্ষেই না তারা উগরে দেয় সেই হারের ঝাল!

বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ অবশ্য সে রকম ভয়ার্ত নন। মনোযোগ দিয়ে কাতার-আফগানিস্তান ম্যাচের ভিডিও দেখার পর এই ইংলিশ কোচ বলছেন, ‘কাতারের কাছে আফগানিস্তানের বড় হারের প্রভাব আমাদের ম্যাচে পড়বে বলে মনে করি না। কারণ আফগানিস্তান খেলেছে তাদের চেয়ে শক্তিশালী দলের সঙ্গে। দুটো ম্যাচই আলাদা।’ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাই শুরু হবে আগামী ১০ তারিখ আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে। এ জন্যই তারা ম্যাচ ভেন্যু দুশানবেতে পৌঁছে গেছে আগেভাগে। দুটো প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জামাল-রবিউলরা টিভিতে দেখেছেন আফগানিস্তানের বড় হার। নিজেদের মাঠে কাতারিরা ছেলেখেলা করেছে আফগানদের নিয়ে। জেমি কাতারকে গ্রুপে সবচেয়ে শক্তিশালী দলের আখ্যা দিয়ে ম্যাচটাকে বিশ্লেষণ করছেন এভাবে, ‘কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে আফগানিস্তানকে মূল্যায়ন করা কঠিন। কারণ কাতার অনেক শক্তিশালী দল, তাদের আক্রমণ ও গতির সঙ্গে কুলিয়ে ওঠা কঠিন ছিল। গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হতে পারে কাতার, তাদের কিছু গোল ছিল দুর্দান্ত। এমন কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে অন্য দলকে যাচাই করা কঠিন।’ আসল ব্যাপারটা হলো মনের পার্থক্যে, কাতার আকাশে থাকলে আফগানরা পাতালে!

এর মধ্যেও মাঝমাঠের কয়েকজন যেন আলাদা হয়ে ধরা দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচিং স্টাফের কাছে। তাঁদের পায়ে বল থাকলে আফগানিস্তান চেষ্টা করেছিল একটু ইতিবাচক খেলার। সেই মিডফিল্ডাররা হলেন নুর, হোসেন ও হায়দারি—তাঁদের নিয়ে নিশ্চিতভাবেই কোনো কৌশল থাকবে বাংলাদেশ কোচের। সেসব তথ্য ‘খেলোয়াড়দের জন্য’ বলে জেমি এড়িয়ে গেছেন। খেলোয়াড়দের জন্য কোচের বার্তা একটাই—নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলা, ‘গ্রুপে সবাই আমাদের চেয়ে এগিয়ে এবং ভালো ফুটবল খেলে। তাই গ্রুপে আমরা আন্ডারডগ, প্রতিটি ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’ কাতারের সঙ্গে আফগানিস্তানের মানের ফারাক, বাংলাদেশও সেভাবে মানের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে। চার প্রতিপক্ষের মধ্যে কাতার ও ওমান শক্তিতে অনেকখানি এগিয়ে থাকলেও আফগানিস্তান-ভারতের সঙ্গে হয়তো লড়াইটা করা যাবে। তাই হয়তো ফুটবল অনুরাগীর মনে কখনো কখনো ড্রয়ের স্বপ্নও উঁকি মারে বৈকি!

জেমির কথায় অবশ্য এই স্বপ্নের প্রশ্রয় নেই। কোচ রক্ষণভাগের ওপর খুব গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন দলের কৌশলের কথা, ‘রক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। এখানে কোনো ভুল করা যাবে না, এ নিয়ে প্রতিদিনই কাজ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অন্য ম্যাচগুলো যেভাবে খেলেছি, রক্ষণের চেহারা সে রকমই থাকবে। দলের সবাইকে রক্ষণে সাহায্য করতে হবে। এরপর বল পায়ে থাকলে দ্রুত কাউন্টারে উঠতে হবে। আমাদের খেলা খুব সহজ-সরল।’ খেলোয়াড়দের মানের ওপর নির্ভর করে কোচের কৌশল। সেই মানের জায়গাটা আশাব্যঞ্জক নয়, প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে পারার মতো ফুটবলার তেমন নেই। তাই অ্যাটাকিং ফুটবল খেলার বিলাসিতা দেখানোরও সুযোগ নেই। আগে গোল ঠেকিয়ে তারপর আক্রমণ—এই ফর্মুলায় বাংলাদেশ খেলছে ১৪ মাস ধরে। জেমির এই ফর্মুলাতে এখনো চলছে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়েও তাই চলবে। তবে তাজিকিস্তানে দুটো প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার পর কোচ খুশি, ‘আমরা চেষ্টা করব আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে। এই দুটো প্র্যাকটিস ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে আমি খুশি। প্রায় সবাই তাদের জায়গায় ভালো খেলেছে, তাই সেরাদের বাছাই করা আমার জন্য একটু কঠিন হয়ে গেছে।’ প্রথম ম্যাচে তাজিক লিগের দল এফসি কুকতোশের কাছে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে সিএসকেএ পামিরের বিপক্ষে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র করেছেন জামাল-রবিউলরা। সুবাদে একধরনের আত্মবিশ্বাস সঞ্চার হয়েছে দলে। তাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের সামর্থ্য এবং সাহস দুটোই তৈরি হয়েছে লাল-সবুজের দলে। কিন্তু ম্যাচের পুরোটা সময় ঠেকিয়ে রাখা যাবে? এবার জেমি ডে যেন অন্যভাবে ভাবছেন, ‘শুধু ঠেকাবে কেন, আক্রমণের সুযোগ তৈরি হবে। ম্যাচে আফগান রক্ষণও সব সময় একই রকম থাকবে না। মাঝেমধ্যে ফাঁকফোকর তৈরি হতেই পারে। তখনই কাউন্টারে সুযোগগুলো নিতে হবে। দু-একটা ঠিকঠাক হয়ে গেলে...।’ তাঁর কল্পনা কি বাস্তব হয়ে ফিরবে দুশনবেতে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা