kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এ যুগের ‘ব্র্যাডম্যান’

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এ যুগের ‘ব্র্যাডম্যান’

‘জীবনে তিনটি ব্যাপার হবেই—মৃত্যু, কর আর অ্যাশেজে স্মিথের সেঞ্চুরি’—স্টিভেন স্মিথের প্রশংসায় ক্রিকইনফোর টুইট। বল বিকৃতি কেলেঙ্কারিতে ১২ মাস পর ফিরে সেঞ্চুরি করেছিলেন আগেই। এবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্মিথ করে ফেললেন ডাবল সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের তিনটি ডাবলের সবই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাঁর ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় নেই খেলাটার বাইরে ছিলেন ১২ মাস। সেই তিনি তিনটিমাত্র টেস্ট খেলে করে ফেলেছেন এই বছরের সর্বোচ্চ ৫৮৯ টেস্ট রান।

জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে চোট পেয়ে লিডস টেস্ট খেলা হয়নি স্মিথের। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরেছেন আরো বেশি দৃঢ়তা নিয়ে। ৩১৯ বলে ২৪ বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায় ২১১ রানের ইনিংসে বুঝিয়েছেন তাঁর শরীরে আঘাত করা গেলেও মানসিকতায় চিড় ধরানো যাবে না। জো রুটকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন জো ডিনলের হাতে। তাঁর ডাবলে ৮ উইকেটে ৪৯৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ইংল্যান্ড প্রথম দিন শেষ করেছিল ১ উইকেটে ২৩ রানে। গতকাল বৃষ্টিতে ভেসে যায় প্রথম সেশন।  দিন শেষে ৫ উইকেটে ২০০ রান করেছে ইংল্যান্ড। জো ডিনলে ৪ ও ক্রেগ ওভারটন ফিরেছেন ৫ রানে। এরপর ররি বার্নস ৮১ আর জো রুট আউট হয়েছেন ৭১ রানে। হ্যাজেল উডের উইকেট ৪টি।

টানা তিনটি অ্যাশেজে স্মিথ কীর্তি গড়েছেন ৫০০-র বেশি রান করার। খোদ ডন ব্র্যাডম্যানেরও নেই এমন রেকর্ড। অ্যাশেজে পাঁচবার ৫০০-র বেশি রান করলেও টানা তিনবার এমন কীর্তি নেই কিংবদন্তি এই অস্ট্রেলিয়ানের। এমনি এমনি তো ‘এ যুগের ব্র্যাডম্যান’ ডাকা হয় না তাঁকে। ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ গড়ের পর টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪.৬৪ গড় স্মিথেরই। ব্র্যাডম্যানের ১৯ অ্যাশেজ সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ সেঞ্চুরি তাঁর। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিপক্ষে তাঁর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে শুধু তিনজনের। এবারের অ্যাশেজে যেভাবে ১৪৪, ১৪২, ৯২ ও ২১১ রানের ইনিংস খেলেছেন, এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে স্মিথ যে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করবেন, তাতে সন্দেহ নেই অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের, ‘স্মিথ যা করছে একেবারে অচিন্তনীয়।আরো পাঁচ-ছয় বছর খেললে ১৫০ টেস্ট পর্যন্ত ক্যারিয়ার টেনে নিতে পারবে স্মিথ। তাহলে আশা করা যায় সব রেকর্ডই চলে যাবে ওর দখলে।’

এই ম্যাচেও ইংলিশ পেসাররা শুরুতে বাউন্সারে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছেন স্মিথকে। কাজ না হওয়ায় বল করতে থাকেন লাইন-লেন্থ মেনে। এই পরিবর্তনটা নজর এড়ায়নি স্মিথের, ‘টেস্ট শুরুর আগে বলেছিলাম, ওরা আমার মাথা লক্ষ্য করে বল করলে ধরে নিতে হবে ইংলিশরা আমাকে বোল্ড, এলবি বা কট বিহাইন্ড করাতে পারবে না। ওরা শেষ পর্যন্ত লেন্থ আর হাত বরাবর বল করতে থাকে। ব্রডের বল খেলাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

৬৫ রানে থাকার সময় জোফ্রা আর্চার ফিরতি ক্যাচ ছেড়েছিলেন স্মিথের। ১১৮ রানের সময় জ্যাক লিচের বলে আরো একবার জীবন পান ‘নো’-এর সুবাদে। এ দুটি খুঁত বাদ দিলে স্মিথের ইনিংসটা ছিল মুগ্ধতা-জাগানিয়া। তাই শচীন টেন্ডুলকারের প্রশংসা, ‘স্মিথের টেকনিক খুব জটিল, তবে গোছানো মানসিকতার ও। এটাই স্মিথকে আলাদা করে দিয়েছে। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা