kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উইকেট নিয়ে সাকিবের ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যয়ও

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উইকেট নিয়ে সাকিবের ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যয়ও

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : টেস্ট পরিবারের নবীন সদস্য হয়েও বাংলাদেশকে চেপে ধরার মতো যে পারফরম্যান্স আফগানিস্তানের, তাতে বিস্মিত নন সাকিব আল হাসান। কেন নন, সে ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই বেরিয়ে এলো জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে তাঁর অসন্তোষ, ‘যে উইকেট ছিল, প্রথম দিন ওরা টস জিতে যে সুযোগটি পেয়েছে, এতে আমরা বিস্মিত নই। আমরা প্রথম দিন ৫ উইকেট পাওয়াতেই বরং বিস্মিত হয়েছিলাম। এমন ফ্লাট উইকেটে মনে হয় আমরা অনেক দিন পর খেলছি।’

ফ্লাট উইকেটেও অবশ্য বল টার্ন করানোর সামর্থ্য আছে আফগান রিস্ট স্পিনারদের। তবে ফিঙ্গার স্পিনারদের জন্য সে কাজটি এ রকম উইকেটে কঠিন বলেই মনে করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। কিন্তু কাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আফগান অফস্পিনার মোহাম্মদ নবিও বল ঘুরিয়েছেন। খুব বেশি না হলেও বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের কিছু বল টার্ন করেছে। কিন্তু উপসংহারে পৌঁছতে গিয়ে উইকেট নিয়ে বিন্দুমাত্র খুশি হতে পারছেন না সাকিব।

তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আসলে সবাই বেশ অবাক হয়েছি। কারণ আমরা এমন কিছুই আশা করিনি। আমরা যেটি প্রত্যাশা করেছিলাম, তার পুরোই বিপরীত হয়েছে।’ কেমন হলে একেবারে নিজেদের মতো হতো, সে প্রশ্নও উঠল প্রাসঙ্গিকভাবেই। এই অলরাউন্ডার যদিও ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের চাহিদার বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাইলেন না, ‘আমি আসলে কখনোই চাই না যে চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারগুলো প্রকাশিত হোক। খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে মিটিংগুলো হয় এবং পরিকল্পনা করা হয়। আমি কখনোই চাইব না যে এগুলো জানাজানি হোক।’

তবে বারবার নিজের হতাশা প্রকাশে দ্বিধা ছিল না একটুও। তবে এই বাস্তবতাও মানছেন, ‘হতাশার অবশ্যই। তবে এখন আসলে এসব নিয়ে আলোচনা কিংবা চিন্তা করে লাভ হবে না। এখন এখান থেকে কিভাবে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অনেক কিছু অনেক কারণে সম্ভব হয় না। সেটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। হ্যাঁ, একটি জিনিস আপনি চাইতেই পারেন। তবে সব সময় যে সেটি পাবেন, তাও প্রত্যাশা করা ভুল।’

নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী উইকেট সরবরাহ না হওয়ার হতাশা লুকিয়ে তাই সামনেই তাকাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ম্যাচে নিজেরা ব্যাকফুটে আছেন। এ অবস্থায় উইকেট নিয়ে নাখোশ হলেও ভালো কিছু করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কথাই বেশি ভাবতে হচ্ছে তাঁকে। সতীর্থদেরও সে আহ্বানই জানাচ্ছেন তিনি, ‘আমরা যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম, তেমন কিছুই হয়নি। হয়নি বলেই যে আমরা ভালো কিছু করতে পারব না, তাও নয়। প্রত্যাশার বাইরে অনেক সময় অনেক কিছু হতেই পারে। এটি আসলে আমাদেরই দায়িত্ব যে এই সময়গুলোতে ভালোভাবে নিজেদের মেলে ধরা।’

সাকিবরা নিজেদের মেলে ধরতে চান বড় দলের মতো করেই। এখান থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে মেলাতে চান জটিল হয়ে পড়া অঙ্কও। যেমনটি বড় দলগুলো করে থাকে, ‘অনেক সময় যেভাবে চান, সেভাবে অনেক কিছু নাও হতে পারে। বড় দলগুলো এখানেই নিজেদের প্রমাণ করে। যখন বক্সের বাইরেও তাদের জন্য কোনো প্রশ্ন আসে, সেটির উত্তর তাদের জানা থাকে। আমরা চেষ্টা করব সেই উত্তরগুলো যেন আমরা দিতে পারি।’

উত্তর দেওয়ার জন্য সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই জোর দিচ্ছেন সাকিব, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে যে যার জায়গা থেকে সেরাটি দিতে পারলেই আমাদের পক্ষে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। একজন-দুজন পারফরম করলে দল খুব বেশি উপকৃত হবে কি না, জানি না। তাই সেই জায়গা থেকে চিন্তা করলে এই ম্যাচে ভালো কিছু করতে সবার পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা