kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঘূর্ণি বিষ

‘মিরাকল’ না হলেও ‘ম্যাজিকাল’ কিছুর আশা

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘মিরাকল’ না হলেও ‘ম্যাজিকাল’ কিছুর আশা

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

বাংলাদেশ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল ‘মিরাকল’ কিছু দেখার আশায়। ১০ রানে আফগানিস্তানের বাকি ৫ উইকেট তুলে নেওয়াই ছিল সে রকম কিছু। আগের দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে যা বলে গিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। সে আশা পূরণ হয়নি। হোক বা না হোক, আজ তৃতীয় দিনও স্বাগতিকরা শুরু করতে যাচ্ছে নতুন আশায়। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ভাষায় যা ‘ম্যাজিকাল’ কিছু।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় দলের অবস্থা যা, তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিই আফগানদের হাতে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এমন কিছুই প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অলরাউন্ডার, ‘আমাদের বোলাররা যদি ম্যাজিকাল কিছু করে দেখাতে পারে।’ এখনো নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়নি যদিও। কিন্তু সফরকারীদের ৩৪২ রানের জবাবে ১৯৪ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলায় এখন দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংয়েই বেশি চোখ সাকিবের।

চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য যাতে একেবারেই সাধ্যের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বোলারদের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায়ও নেই কোনো। অবশ্য সে ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানদেরও তো দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের দাবি মেটানো চাই। প্রথম ইনিংসে যাদের ভুগিয়েছে রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগান স্পিন আক্রমণ। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লেগস্পিনার রশিদ নিজেই। আরেক লেগি কায়েস আহমেদও অভিষেকে খারাপ করেননি। রিস্ট স্পিনার আফগানিস্তান খেলিয়েছে আরেকজনও। চায়নাম্যান জহির খান অবশ্য তেমন সুবিধা করতে পারেননি। না পারলেও আফগান বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য তিনি আরো বাড়িয়েছেন নিঃসন্দেহে।

বাংলাদেশ দলে রিস্ট স্পিনার নেই একজনও। দুই দলের স্পিননির্ভর বোলিংয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য এখানেই। এ পার্থক্যই ম্যাচে দুই দলের অবস্থানে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন সাকিব, ‘ফিঙ্গার স্পিনারদের জন্য খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। রিস্ট স্পিনাররা সব সময় সহায়তা পাবেই। যেহেতু ওদের (আফগানদের) রিস্ট স্পিনারদের মধ্যেও বৈচিত্র্য আছে, তাই তাদের একটু বেশি সুবিধা অবশ্যই থাকবে।’

সেই সঙ্গে নিজের দলে একজন রিস্ট স্পিনারের অভাবও এদিন খুব অনুভব করলেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘আমাদের ফিঙ্গার স্পিনার আর ওদের রিস্ট স্পিনার—এটিই পার্থক্য। এ ছাড়া আর কোনো পার্থক্য দেখি না। নবি ভাই বোলিং করেছেন, দুটি উইকেট পেয়েছেন। আমাদের কিন্তু ফিঙ্গার স্পিনাররাই ১০টি উইকেট পেয়েছে। তবে ওদের রিস্ট স্পিনাররাই বেশি কার্যকর ছিল। আমাদের রিস্ট স্পিনার নেই। এমন ফ্লাট উইকেটগুলোতে রিস্ট স্পিনার না থাকলে কঠিন হয়ে যায়। যেহেতু আমরা এ ধরনের উইকেট আশা করিনি, তাই আমাদের জন্য পরিস্থিতিটা কঠিন।’

কঠিন হলেও এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন সাকিব। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে বাড়তি ব্যাটসম্যান হিসেবে একাদশে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন এবং টেলএন্ডার তাইজুল ইসলামের ব্যাটিং দেখে অন্তত তা বিশ্বাস করতে পারছেন তিনি। ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রসঙ্গ উঠতেই সে কথা বলেছেন তিনি, ‘হয়তো আমরা ভালোভাবে নিজেদের প্রয়োগ করতে পারিনি। তবে আনপ্লেয়েবল বলব না। কারণ মোসাদ্দেক আর তাইজুল যেভাবে ব্যাটিং করল, তাতে বোঝা গেল এখানে পরিকল্পনা করাও সম্ভব। (উইকেটে টিকে) থাকাও যে সম্ভব, ওরা প্রমাণ করেছে। হয়তো আমরা নিজেদের আরেকটু ভালো প্রয়োগ করলে রানটা আরো বেশি হতো।’

মোসাদ্দেক-তাইজুলের ব্যাটিংয়ে আজ শেষ ২ উইকেটেও ভালো কিছুর আশা করতে পারছেন তাই, ‘আমি তো প্রত্যাশা করব যেন অন্তত একটি সেশন ব্যাটিং করা যায়। যদি সেটি করা যায়, তাহলে ব্যবধানও কমে আসবে। (ব্যবধান) ৭০-৮০ রান পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারলে সেটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক হবে। যদিও অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। তবু যেভাবে ওরা (মোসাদ্দেক-তাইজুল) ব্যাটিং করেছে, আমি বিশ্বাস রাখতেই পারি।’

এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার বিশ্বাসও রাখছেন সাকিব, ‘ম্যাচ জেতা অবশ্যই সম্ভব। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার এমন শত শত উদাহরণও আছে। আমরাও আশা করব যেন এমন কিছুই হয়।’ তবে শর্তও জুড়ে দিয়েছেন কিছু, ‘সে জন্য অবশ্যই খুব ভালো বোলিং করতে হবে। রান তাড়া করতে যাওয়াটা অবশ্যই কঠিন হবে। এই উইকেটে ওদের স্পিনারদের বিপক্ষে এত সহজ হবে না। তবে বিশ্বাস আছে যে জেতা সম্ভব। বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক দলই এভাবে পিছিয়ে থাকার পরও জিতেছে। এমন সুযোগ যদি আমাদের থাকে এবং বিশেষ করে আমাদের বোলাররা ম্যাজিকাল কিছু করে দেখাতে পারলে এরপর ব্যাটসম্যানদের ওপরও নির্ভর করতে হবে।’

‘মিরাকল’ হয়নি। ‘ম্যাজিকাল’ কিছু হবে কি না, তা সময়ই বলবে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা