kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ভেট্টোরির পাঁচ দিনের বেতনই ডমিঙ্গোর পুরো মাসের সমান

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভেট্টোরির পাঁচ দিনের বেতনই ডমিঙ্গোর পুরো মাসের সমান

হেডমাস্টারের চেয়ে তাঁর সহকারীর বেতন বেশি হলে যেমন দেখায়, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি এসে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে যোগ দিলেও ব্যাপারটি তেমনই দেখাবে। নিউজিল্যান্ডের এ সাবেক অধিনায়কের পদ যদিও সাকিব আল হাসানদের স্পিন বোলিং উপদেষ্টার। তবে কাজ তাঁকে করতে হবে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর অধীনই। তা করতে হলেও এ দক্ষিণ আফ্রিকানের চেয়ে ভেট্টোরির চুক্তিমূল্য অনেক বেশি।

যদিও দুজনের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তি দুই ধরনের। ডমিঙ্গোর চুক্তি মাসিক বেতনের হলেও ভেট্টোরিরটা দিনভিত্তিক। মার্কিন ডলারে দিনপ্রতি এ সাবেক বাঁহাতি স্পিনারের প্রাপ্তির অঙ্কও অবিশ্বাস্য। তাঁর মাত্র পাঁচ দিনের পারিশ্রমিকই ডমিঙ্গোর মাসিক বেতনের চেয়ে বেশি। কোচিং স্টাফের আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের পুরো মাসের বেতন মাত্র তিন দিনেই জমা হবে ভেট্টোরির অ্যাকাউন্টে। তাঁর মাত্র চার দিনের আয় জাতীয় দলের নতুন ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতোর মাসিক বেতনের চেয়ে দুই হাজার ডলার বেশি হবে। শ্রীলঙ্কান স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়েনের মাসিক বেতনও হবে ভেট্টোরির চার দিনের রোজগারের চেয়ে প্রায় হাজারখানেক ডলার কম। 

জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে দিনভিত্তিক চুক্তিতে আরো দুজন দক্ষিণ আফ্রিকান আছেন। এঁদের একজন নেইল ম্যাকেঞ্জি দৈনিক পেয়ে থাকেন ৮৫০ ইউএস ডলার। দিনে ৫০০ ডলার আয় ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের। যদিও ভেট্টোরির এসে যোগ দিতে এখনো ঢের দেরি। তাই বলে জাতীয় দলের স্পিন বিভাগ একেবারে অভিভাবকহীন নয়। আফগানিস্তান সিরিজে স্থানীয় সোহেল ইসলামকে দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বিদেশি আর স্থানীয় কোচদের বেতনের ফারাক যেমন আকাশ-পাতাল, ভেট্টোরি যোগ দেওয়া মাত্রই বিদেশিদের মধ্যেও পার্থক্যটি তেমনই দেখাবে। 

এই নিউজিল্যান্ডারের সাকিবদের নিয়ে কাজ শুরু করার কথা আছে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বছরে ১০০ দিন কাজ করার চুক্তি বিসিবির। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে যে ভেট্টোরির প্রতিদিনের পারিশ্রমিক সাড়ে তিন হাজার মার্কিন ডলারেরও (৩,৫৭১) বেশি। যদিও এর পুরোটাই তাঁর পকেটে যাবে না। বাংলাদেশের নিয়মানুযায়ী উৎস কর কেটে নেওয়া হবে শতকরা ৩০ ভাগ। তা কাটার পরও ভেট্টোরির আয় কম লোভনীয় দেখাবে না, দিনে আড়াই হাজার ডলার! 

তুলনায় হেড কোচ ডমিঙ্গোর বেতন কমই। এখনো এক মাস পুরো না করা এই প্রোটিয়ার চুক্তি ১৭ হাজার ১৪২ ডলারের হলেও কর কাটার পর তাঁর ‘টেইক হোম’ ১২ হাজার ডলার। এ অঙ্কও অবশ্য তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। প্রথমে বাংলাদেশ ‘এ’ কিংবা হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের কোচ হতে চেয়ে যখন আবেদন করেছিলেন, তখন জানিয়েছিলেন যে তাঁর আগের কর্মস্থল দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে মাসে আট হাজার ডলার পেয়ে থাকেন। এর চেয়ে সামান্য ‘বেটার প্যাকেজ’ চাওয়া ডমিঙ্গো নানা কারণেই সাকিবদের নতুন হেড কোচ হিসেবে বিবেচনায় চলে আসেন এবং প্রথম পছন্দ হিসেবে হেডমাস্টার হয়েও যান।

তাঁর সহকারীদের মধ্যে ল্যাঙ্গেভেল্টের বেতন ১০ হাজার ৭১৪ ডলার হলেও কর কেটে নেওয়ার পর পাবেন সাত হাজার ৫০০ ডলার। একই কারণে ফিজিও ক্যালেফাতোর বেতন ১১ হাজার ৪২৮ ডলার হলেও পাবেন শেষ পর্যন্ত আট হাজার ডলার। ৯ হাজার ২৪১ ডলার থেকে কর দিয়ে ট্রেনার মারিও পান ছয় হাজার ৪৬৯ ডলার। ম্যাকেঞ্জি ও কুকের দৈনিক পারিশ্রমিক যথাক্রমে ৮৫০ ও ৫০০ ডলার হলেও কর দিয়ে পান ৫৯৫ ও ৩৫০ ডলার। বিশেষ করে বিসিবি হেড কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোর মতো ‘সস্তার সমাধান’ বেছে নিলেও বিস্তর ব্যয়ে যেতে হয়েছে ভেট্টোরির ক্ষেত্রে।

ডমিঙ্গোকে নিয়োগ দেওয়ার বেশ আগেই যাঁর সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করে বিসিবি। যেটি বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোচদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তিও হয়ে গেছে এরই মধ্যে। সদ্যঃ সাবেক হেড কোচ স্টিভ রোডসের বেতন ছিল মাসে ২১ হাজার ৪২৯ ডলার। এর মধ্যে ছয় হাজার ৪২৯ ডলার কর কেটে নেওয়ার পর এ ইংলিশ কোচ পেতেন ১৫ হাজার ডলার, যা ভেট্টোরির মাত্র ছয় দিনের রোজগারের সমান। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে দামি কোচ হিসেবে চন্দিকা হাতুরাসিংহেকেও তো ছাড়িয়ে যেতে চলেছেন ভেট্টোরি। ওই শ্রীলঙ্কানের মাসিক বেতন ছিল ২৭ হাজার ৭২৩ ইউএস ডলার। আট হাজার ৩১৬ ডলার কর কাটার পর হাতুরাসিংহের অ্যাকাউন্টে জমা হতো ১৯ হাজার ৪০৭ ডলার, যা ভেট্টোরি যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত জাতীয় দলের কোনো কোচের পেছনে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়ে থাকবে।

কিন্তু ২০ হাজার ডলারও রোজগার করতে ভেট্টোরির লাগবে মোটে আট দিন!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা