kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অচেনা উইকেটও ‘মুখস্থ’ আফগানদের!

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অচেনা উইকেটও ‘মুখস্থ’ আফগানদের!

উদ্বেগ... লাল বল ওঠার কথা ছিল তাঁদের হাতে। কিন্তু গতকাল শুরু হওয়া চট্টগ্রাম টেস্টে আবু জায়েদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের গায়ে উঠেছে লাল বিপ, একাদশে জায়গা না হওয়ায় মাঠে তোয়ালে আর পানি বহন করেই দিন কেটেছে তাঁদের। এটা অবশ্য বাংলাদেশের হোম টেস্টে আর বিস্ময়জাগানিয়া নয়। তবে মীর ফরিদের এই ফ্রেমে বোলিং নিয়ে সামগ্রিক উদ্বেগের বৈকি। শতভাগ স্পিন আক্রমণ নিয়েও যে ক্লান্ত দেখাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে!

টেস্টের প্রথম দিনে নিজেদের ব্যাটিংয়ের উপসংহার টানতে গিয়ে রহমত শাহ যা বললেন, তা নিয়ে আপত্তি থাকার সুযোগই নেই কোনো। আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান বলছিলেন, ‘কোচ এবং অধিনায়কের পরিকল্পনা অনুযায়ী খুব ভালো খেলেছি আমরা। তবে একটি উইকেট বেশি হারিয়ে ফেলেছি।’

সত্যিই তো, ৫ উইকেটে ২৭১ রান নিয়ে দিন শেষ করার মতো তৃপ্তিকর কিছু সফরকারীদের জন্য হতেই পারে না। বরং অতৃপ্তির বুদবুদ স্বাগতিক শিবির থেকেই উঠতে পারত। বিশেষ করে নিজেদের চেনা উইকেটে যেখানে কোনো পেসার ছাড়াই নেমেছে বাংলাদেশ। শুধুই স্পিনার নিয়ে নামার অনুপ্রেরণা ছিল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট। যেটি তাদের ফরমায়েশ মতো বানানো হয়েছে বলেই জেনেছিল বাংলাদেশ শিবির।

প্রচুর টার্নের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। তাতে ঝুঁকি থাকতে পারে বলে আগেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সতর্কও করা হয়েছিল। বরং ‘ফ্ল্যাট’ উইকেটে খেলাকেই নিরাপদ বলে বোঝানোর চেষ্টাও ছিল। কিন্তু এই অলরাউন্ডার কোনো কিছুতেই কান দেননি এই যুক্তিতে যে তক্তা উইকেটেও আফগান স্পিনাররা দিব্যি বল ঘোরাবেন। যেখানে নিজ দলের স্পিনারদের নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার আশঙ্কায় টার্নিং উইকেটই চেয়েছিলেন তিনি। যাতে বাংলাদেশের বোলাররাও বল ঘোরাতে পারেন। তবে এই টেস্টের প্রথম দিনে সে রকম টার্ন পেলেন না কোনো স্পিনারই।

এতে বাংলাদেশ শিবিরের হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। আরো বেশি হতাশা এসে যাওয়ার কথা সফরকারীরা প্রথম দিনেই প্রায় পৌনে ৩০০ রান করে ফেলায়। কিন্তু দিনের শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা তাইজুল ইসলাম বললেন অন্য রকমই। সেটি হতাশা আড়াল করার চেষ্টা কি না, কে জানে! তবে এদিনই দ্রুততম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছানো এই বাঁহাতি স্পিনারের বক্তব্যে বিস্ময় জাগতে বাধ্য, ‘আমরা এখন সঠিক জায়গাতেই আছি। উইকেটের পরিস্থিতি যেমন, তাতে খারাপ হয়েছে বলব না। আমার কাছে মনে হয় রানটা কমই হয়েছে। বোলাররা অনেক ভালো বল করেছে। ওদের রান প্রত্যাশার বাইরে যায়নি।’

প্রত্যাশিত উইকেট না পাওয়ার ব্যাপারটি অবশ্য বুঝে নিতে সমস্যা হলো না, ‘টিম যখন করেছে, তখন দেখেছি এখানে পেস বোলার নিয়ে আসলে লাভ হবে না। পেস বোলারকে হয়তো ২-৩ ওভারও বল করাতে পারবে না। অতএব স্পিনারদের খেলানোই ভালো। উইকেট দেখে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ভালোই হয়েছে।’ যদিও উইকেট বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে না দেওয়াতেই গাদা গাদা স্পিনার খেলিয়েও সুফল পায়নি বাংলাদেশ। কারণ স্বাগতিকদের স্পিনাররা যে অনুকূল উইকেট না পেলে কেউই টার্ন করাতে তেমন সক্ষম নন।

যে কারণে আফগানদের জন্য ব্যাটিং কিছুটা সহজই হয়ে উঠেছিল যেন। তাইজুলও বোঝাতে চাইলেন তা, ‘‘উইকেটটা এখন ‘মুখস্থ উইকেট’ হয়ে গেছে। উইকেটে মাঝেমধ্যে যদি টার্ন করত বা মাঝেমধ্যে যদি বল সোজা যেত, তাহলে হয়তো ওদের (বাংলাদেশের স্পিনারদের) আরো সুযোগ থাকত বা উইকেটের সংখ্যাটা বেশি থাকত। কিন্তু এখন উইকেটের যে অবস্থা, তাতে বল একই রকম হচ্ছে। তাই ওরা মুখস্থের মতো খেলছে।’’

টার্ন করানোর যা-ও সম্ভাবনা ছিল, তাও বিলীন হয়েছে রহমতের কুশলী ব্যাটিংয়ে। স্পিনারদের পা বাড়িয়ে খেলেছেন তিনি। ‘বিগ স্ট্রাইড’ নেওয়ার কারণে তাইজুলদের টার্ন করানোর চেষ্টাও তাঁর সামনে মাথা কুটে মরেছে বেশির ভাগ সময়। দিনের শেষে রহমত জানিয়েছেন, পরিকল্পনা করেই নেমেছিলেন তিনি, ‘আমার পরিকল্পনাই ছিল যে ফ্রন্টফুটে খেলব। ওরা (বাংলাদেশের স্পিনাররা) খুব ভালো লাইন ও লেন্থে বল করছিল। আমার জন্য ভালো ফিল্ড সেটআপও ছিল। আমার জন্য রান করা তাই খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। সে জন্যই আমি ক্রিজ ব্যবহার করে খেলছিলাম। একই সঙ্গে খেলছিলাম ফ্রন্টফুটে গিয়েও।’

যদিও রহমতের ব্যাটিং কৌশলকে তেমন কৃতিত্ব দিতে চাইলেন না তাইজুল, ‘রহমতের ব্যাটিংয়ের কোনো কৌশল আমাদের ঝামেলায় ফেলেনি। ও যে আমাদের খুব ব্যাকফুটে ফেলেছে, তাও নয়। বললাম না, উইকেট যেমন, তেমন মুখস্থ খেলাটা ও খেলে গেছে। হয়তোবা উইকেটে অনেক কিছু থাকলে ও এমনটি খেলতে পারত না।’ চাহিদামতো উইকেট না পাওয়ার অনুযোগই বেশি মিশে থাকল তাইজুলের কথায়। তাঁর কথা ধরলে, আয়োজকের ঘরে এসে ‘মুখস্থ’ ব্যাটিংয়ে পাল্টা ছড়ি ঘোরাল আফগানরাই। কিন্তু তাইজুল তো সেটিও স্বীকার গেলেন না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা