kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রিজ আর জুয়া এক নয়!

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিজ আর জুয়া এক নয়!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্রিজ দল। খবরটা হয়তো খুব কম লোকই জানে, আবার জানলেও হয়তো তাসের জুয়ার সঙ্গে গুলিয়ে বাঁকা চোখে দেখে। এখানেই ব্রিজ ফেডারেশনের সভাপতি মুশফিকুর রহমান মোহনের দুঃখ, ‘যে খেলাটা এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত, পরের অলিম্পিকে যুক্ত হবে, সেই ব্রিজ আর তাসের জুয়া যে এক নয়, এটা মানুষকে বোঝাই কী করে! মানুষের ধারণা বদলাতে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা লাগবে আমার। এটা দারুণ বুদ্ধিবৃত্তিক এবং উপভোগের খেলা। একসময় এ দেশে ঘরে বসেই লোকজন ব্রিজ খেলত। এই খেলায় আমরা জোনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি।’

ব্রিজে বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলে দুই বছর আগে। এবার যাচ্ছে দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ ব্রিজের চার নম্বর অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছে বিশ্বকাপে। ৯ দলের বাছাইয়ে সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে এবং ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্য কোনো ডিসিপ্লিন হলে পাক-ভারত জয়ী দলের জন্য অপেক্ষা করত ফুলের শুভেচ্ছা। বিমানবন্দরে সেরকম আনন্দের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ব্রিজ সভাপতি এটাকে জুয়ার কুপ্রভাব বলে মনে করেন, ‘মানুষ জানে না, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জুয়া হয় বেসবল ও রাগবিতে। এ দেশের মানুষ জানে শুধু ক্রিকেটের জুয়া। তাই আমি বলি, তাসের জুয়ার সঙ্গে ব্রিজ খেলাটিকে গুলিয়ে ফেলবেন না।’ এবার বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তাই ঘুচিয়ে যেতে চান জুয়ার অপবাদ। ২৪ দল এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। সেখানে শুধু মরক্কো ও বাংলাদেশের কোনো পেশাদার ব্রিজ খেলোয়াড় নেই। পাশের দেশ ভারতের খেলোয়াড়রাও নাকি পেশাদার!

বাংলাদেশে সবাই অ্যামেচার, বিভিন্ন পেশাজীবীরা সময়-সুযোগ পেলে ব্রিজ খেলেন। আসলে খেলার জায়গাও নেই ফেডারেশনের। ‘প্রতি সপ্তাহে ঢাকা মহানগরী ব্রিজ লিগের আয়োজনে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাবে একটা টুর্নামেন্ট করি। যেখানে সর্বোচ্চ ১৪টি টেবিল বসানো যায়। অর্থাৎ ৫৬ জন খেলতে পারে। কিন্তু আমাদের এখন রেজিস্টার্ড ব্রিজ খেলোয়াড়ের সংখ্যা সাড়ে তিন শ। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাবের সাপ্তাহিক এই টুর্নামেন্টটই আসলে খেলাটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে’, আক্ষেপ ফেডারেশন সভাপতির। এর মধ্যে বিশ্বকাপগামী দলটি বেছে নেওয়া হয়েছে একটি ট্রায়ালের মাধ্যমে। সাত দলের এই ট্রায়ালে ব্রিজ লাভার্স নামের দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারাই যাচ্ছে ব্রিজ বিশ্বকাপে। ছয় খেলোয়াড় হলেন মনিরুল ইসলাম, আসিফুর রহমান চৌধুরী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান সোহাগ, রাশেদুল হাসান, শাহ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও মশিউর রহমান। এই দলের ম্যানেজার হিসেবে যাচ্ছেন জুনিয়র বিশ্বকাপ খেলে আসা বিশ্বজিৎ সাহা।

বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেও মুশফিকুর রহমান মোহন সেই পুরনো দাবি আবার নতুন করে জানিয়েছেন, ‘এই খেলাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে জায়গার কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজের জন্য একটা ফ্লোর চেয়ে আসছি সরকারের কাছে, যেখানে অন্তত ১০০টি ব্রিজ টেবিল বসানো যায়। খেলার জায়গা পেলে আমরা এশিয়ান গেমসে পদক এনে দিতে পারব।’ চার বছর আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে সাত হাজার বর্গফুটের ওপেন ফ্লোর চেয়েছে তারা। তার নিশ্চয়তা এখনো না পেলেও এখনকার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বিশ্বকাপগামী দলের সব খরচের ব্যবস্থা করছেন সরকার থেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা