kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চেনা বাংলাদেশে রশিদের নতুন শুরু

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চেনা বাংলাদেশে রশিদের নতুন শুরু

আশা করছি বিশ্বকাপে সাকিব যা করেছে তা সে ভুলে যাবে। আমরা চেষ্টা করব তাকে দ্রুত আউট করতে। এটা বেশ মজা হবে। আমরা দুই মৌসুম একসঙ্গে খেলেছি, মজা করেছি। মাঠে ও মাঠের বাইরে। আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব আছে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সময়টা ২০১৪ সাল। ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে এশিয়া কাপের সংবাদ সম্মেলন। সেখানেই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সেসময়কার সভাপতি সৈয়দ আশরাফুল হক বলেছিলেন, ‘এবারের আসরে আমরা আফগানিস্তানকে পাচ্ছি। তারা বেশ রোমাঞ্চকর একটা দল হয়ে উঠতে পারে।’ সেই আফগানিস্তান প্রথমবার এশিয়া কাপ খেলতে এসেই হারিয়ে দিল বাংলাদেশকে, যারা কিনা আগের আসরের রানার্স-আপ! পাঁচ বছর পর, সেই আফগানিস্তান টেস্ট খেলতে এসেছে বাংলাদেশে। কাবুলিওয়ালাদের ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় টেস্ট, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম। পাঁচ বছরে ঢাকার বাতাসে সিসার পরিমাণ আরো বেড়েছে, আফগানিস্তানেও ঢের বোমা ফুটেছে। তবে এরই সঙ্গে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে বেশ কয়েকবারই হারিয়েছে আফগানিস্তান, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে। এমনিতেই আফগানদের ভয়ডর কম। সাদা বলের ক্রিকেটে পাওয়া সাফল্যের ভরসাতেই লাল বলের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে বাংলাদেশের চেয়ে অভিজ্ঞতায় কয়েক যোজন পিছিয়ে থাকার পরও রশিদ খান বলতে পারলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ও বোলারদের খুব ভালোভাবেই জানি। তাই জোর লড়াই হবে।’ যদিও সরল অঙ্ক বলে, ১১৪ টেস্ট খেলা দলের সঙ্গে দুই টেস্ট খেলা দলের লড়াইটা একপেশেই হওয়ার কথা।

বয়স বিতর্ক ঘিরে আছে রশিদ খানকে। তাই প্রথমবারের মতো  টেস্ট ম্যাচে টস করতে যাওয়ার আগের দিন রশিদ যখন বলেন, ‘এত কম বয়সে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারছি, এটা খুব ভালো লাগছে। এত কম বয়সে আমার জন্য এটা শেখার একটা বড় সুযোগ।’ তাঁর উত্তরে সংবাদ সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত থাকা অনেকেরই মুখে ফুটেছে চাপা হাসি! রশিদের বয়স নিয়ে বানানো চুটকি পড়ে হাসি এলেও মাঠে তাঁকে খেলতে গিয়ে অনেকেরই সেই হাসি পালিয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচেও রশিদের ঘূর্ণির সামনে নাকাল বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানরা। চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও সেভাবেই নাকাল করার প্রত্যয় রশিদের, ‘আমরা পরস্পরকে খুব ভালো করে জানি। আমরা অনেকগুলো ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলেছি। আমরা তাদের বোলারদের জানি, ব্যাটসম্যানদেরও জানি। তারাও আমাদের সম্পর্কে জানে। তাই দারুণ একটা লড়াই হবে।’ মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান, দ্বিতীয় টেস্টেই তারা আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে পেয়ে গেছে প্রথম জয়ের দেখা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অবশ্য সরাসরি জয়ের কথা না বলে অভিজ্ঞতা বাড়ানোর কথাই বলছেন রশিদ, ‘আমরা মাঠে আমাদের শতভাগ দেব আর খেলাটা উপভোগ করার চেষ্টা করব। আমরা ফল নিয়ে ভাবছি না। আমরা সব কিছু কিভাবে ঠিকঠাক করা যায়, সেটা নিয়েই ভাবছি।’

রশিদ জানেন চট্টগ্রাম থেকে সুখকর কোনো স্মৃতি নিয়ে ফেরার পথে মূল বাধার নাম সাকিব আল হাসান। হায়দরাবাদ সানরাইজার্সে দুই মৌসুম একসঙ্গে খেলেছেন। সেই সূত্রেই জানেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান উইকেটটার নাম সাকিব, ‘আশা করছি বিশ্বকাপে সাকিব যা করেছে তা সে ভুলে যাবে। আমরা চেষ্টা করব তাকে দ্রুত আউট করতে।’

অধিনায়কত্ব, বন্ধুত্ব সব কিছু ছাপিয়ে লেগ স্পিনার পরিচয়টাই রশিদের মূল। টেস্টে বোলিংটা কি আক্রান্ত হবে নেতৃত্বের চাপে? রশিদ অবশ্য ‘না’ই বলছেন, ‘অধিনায়ক বলে বাড়তি কোনো চাপ পড়বে না, ওসব আমি মাথা থেকে বের করে দিয়েছি। যখন বোলিং করব তখন মনোযোগ শুধু বোলিংয়ে, তখন আমি অধিনায়ক নই।’

প্রথমবার টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন রশিদ। বিশ্বাস জোগাচ্ছে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাওয়া সাফল্য। সাগরিকায় তাঁর সেই উত্তেজনায় জল ঢেলে দিতে পারবে তো বাংলাদেশ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা