kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাকিবের ব্যাটিং এবং মাতাল হাওয়া

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাকিবের ব্যাটিং এবং মাতাল হাওয়া

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : নেটে কাল তিনি যেভাবে তেড়েফুঁড়ে ব্যাটিং করছিলেন, তাতে যে কারোরই মনে হতে পারত যে পরদিন আবার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ না তো!

অবশ্য সাকিব আল হাসানের টেস্ট ব্যাটিংয়েও ‘মাতাল হাওয়া’ বয়ে যাওয়ার নজির আছে কত! যে হাওয়াই কখনো কখনো তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে কোনো কীর্তির চূড়ায়ও। এক বিকেলের এলোমেলো ব্যাটিংয়ে সমালোচিত এই অলরাউন্ডারের পরদিন শেষ বিকেলে প্রশংসিত হওয়ার ঘটনাও তো কম নয়।

২০১৭ সালের জানুয়ারির ওয়েলিংটন টেস্টের কথাই ধরা যাক। ৫ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম দিন শেষ করার আগে এমন ব্যাটিং করছিলেন যে ক্যাচ তুলে বারদুয়েক জীবনও পান। অথচ পরদিনই তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। ২১৭ রান করা সাকিবকে নিয়ে সেদিন নামে স্তুতিবাক্যের ফোয়ারা। ভর্ত্সনা-প্রশংসার এ রকম যুগলবন্দি এর পরেও দেখেছে তাঁর ক্যারিয়ার, কলম্বোয় একই বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের শততম টেস্টে। ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করার আগেও পাগুলে ব্যাটিংয়ে একাধিকবার আউট হওয়ার মতো অবস্থা। পরদিন পি সারা ওভালেই করেন তাঁর সবশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি।

কাজেই সাকিবের এমন ব্যাটিং সব সময়ই বাইশ গজ থেকে দ্রুত বিদায় হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। তাই বলে এমনও নয় কালকের নেট ব্যাটিংই আফগানিস্তানের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টেও করবেন। তবে সেটি কৌতূহল ছড়াল বেশ। যে কারণে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও টেস্টের আগের দিন নেটে আগ্রাসী ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন পেলেন। জবাবে বললেন, কিছুদিনের অনভ্যাসজনিত জড়তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার কথা।

তা জড়তা কিছুটা আসতেই পারে। টেস্টই তো খেলতে নামছেন ৯ মাস পর। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের সবশেষ টেস্ট ইনিংসেও খেলেছেন ৮০ রানের ইনিংস। এরপর বিপিএল ফাইনালে পাওয়া চোটের জন্য নিউজিল্যান্ডে দুই টেস্টের সিরিজ মিস করেছেন। তবে চোট কাটিয়ে অনেক খেটেখুটে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হওয়ার সুফলও সর্বোচ্চ আসরে পেয়েছেন। ৬০৬ রান করার পাশাপাশি ১১ উইকেট নেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর লম্বা ছুটি ও হজ করতে যাওয়া মিলিয়ে ক্রিকেটবিচ্ছিন্ন ছিলেন বেশ কিছুদিনই।

এই বিচ্ছিন্নতা থেকে আবার ক্রিকেটের সঙ্গে ভালোভাবে সংযুক্ত হওয়ার জন্য সাকিবের একান্ত নিজস্ব ফর্মুলাও আছে। সেই ফর্মুলা যে কালকের নেট ব্যাটিং, কথায় কথায় বুঝিয়ে দিলেন তাও, ‘দুটি দিক আছে। একটি দিক হলো অনেক সময় ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস অনুভব করার জন্য কিছু শট খেলে। শট লাগলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, একজন ব্যাটসম্যান কখনোই সেট নয়, যতক্ষণ না রান করছে। আপনি যদি ১০০ বলে ১০ রান করেন, তখনো আপনি সেট নন। কিন্তু ১০০ বলে ৪০ বা ৫০ করলে সেট। কাজেই রান করতে হবে। উইকেটে শুধু থাকাই এখনকার টেস্ট ক্রিকেট নয়। আগে যেমন ছিল টিকে থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। এখন থাকার সঙ্গে রানও করতে হয়। দুটি দিকই থাকতে পারে। একেকজনের জন্য একেকটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমার আত্মবিশ্বাস একটু নিচে থাকে। কিছু শট খেললে শরীর খুলে যায়।’ 

নেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শরীর খুলে নিতে চাওয়া সাকিবের ব্যাটে এখন টেস্টেও রানের দুয়ার খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন তিনিও। বিশেষ করে বিশ্বকাপের অসাধারণ পারফরম্যান্সে তাঁর নিজের কাছে নিজের প্রত্যাশাও বেড়ে গিয়ে থাকার কথা। সাকিব অবশ্য এ ক্ষেত্রে মনের দুয়ার খুললেন না পুরোপুরি। সব সময় যা বলে থাকেন, বললেন ঠিক তাই, ‘প্রত্যাশা সব সময়ই থাকে। একেক সময় একেক রকম প্রত্যাশা থাকে। প্রত্যাশার চাপও থাকে। কিন্তু সব সময়ই চাওয়া থাকে দলের জয়ে যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব, ততটুকু যেন রাখতে পারি। সব সময় হয় না। সব সময় ওভাবে প্রস্তুতিও নেওয়া যায় না। তবে চেষ্টার কখনো কমতি থাকে না।’ 

চেষ্টায় ত্রুটি থাকে না বলে র‍্যাংকিংয়ে উত্তরণ-অবনমন নিয়েও তেমন ভাবেন না বলে দাবি সাকিবের। সম্প্রতি টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‍্যাংকিংয়ে তাঁকে তিনে ঠেলে দুইয়ে উঠে এসেছেন বেন স্টোকস। সে ক্ষেত্রে সম্প্রতি হেডিংলি টেস্টে স্টোকসের অসাধারণ ইনিংসের পাশাপাশি সাকিবের গত ৯ মাস টেস্ট না খেলাও ভূমিকা রেখেছে। যদিও র‍্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের নিজস্ব দর্শন খুবই সরলরৈখিক, ‘একটা জিনিসই কাজ করে যে দলের জয়ের পেছনে কতটা অবদান রাখতে পারছি। সেটি যদি বেশি রাখতে পারি, স্বাভাবিকভাবেই র‍্যাংকিং তার জায়গাটা আপনা আপনি করে নেবে। এ কারণেই আমার র‍্যাংকিং নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। আমার চেষ্টা থাকে দলের প্রয়োজনে ভালো কিছু করার। সেটি কম হোক বা বেশি, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেটি করতে গিয়ে যদি র‍্যাংকিংয়ে ভালো কিছু হয়, আমি অবশ্যই সেটি নেব।’

সে রকম কিছু নেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হওয়া মানে নেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শরীর খুলে নিতে চাওয়া সাকিবের ব্যাটে রানের দুয়ারও খুলছে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা